অনুগল্প

সব লেখা

স্মৃতিবিদ্ধ

আমাদের বাড়ি তখন ছিল ভিটে মাটির ঘর । সংসারে খুব দারিদ্র অচলাবস্থা । পিতা - পার্থ কামিলা তখন 1984 সালেতৎকালীন জ্যোতি বসুর আমলে কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিংয়ে গিয়ে তাহার পড়াশুনা চালিয়ে যা…

শেষ বাঁশির সুর

"পাহাড় কখনও মানুষের সঙ্গে কথা বলে না। তবু যারা মন খুলে শোনে, তারা জানে—বাতাস, বৃষ্টি আর নীরবতারও নিজস্ব ভাষা আছে।" কলকাতার একঘেয়ে কোলাহল থেকে কয়েক দিনের মুক্তি খুঁজছিল তিন বন্ধু…

অতৃপ্ত বাসনা

একেই বর্ষাকাল তার উপর সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহের পর বর্ষার আগমন ঘটেছে। আকাশ এমন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে যে, দিনের বেলায় রাতের আঁধার নেমে এসেছে। এই গ্রাম বাং…

বন্ধু

অয়ন আমার কলেজবন্ধু ছিল। যাকে বলে হরিহর আত্মা। সেমেস্টারে আমার রেজাল্ট ওর থেকে ভাল থাকত। হতাশ হয়ে বলত, তোকে আর টপকাতে পারলাম না‌। কিন্তু সেই বন্ধুত্বে একদিন ফাটল এল তৃণাকে নিয়ে…

বর্ষার পাপেট

শ্রাবণের রাতে বৃষ্টি শুরু হলে মিঠুর ঘুম ভাঙে। তার বয়স সাত, থাকে পোড়ো বাড়ির তৃতীয় তলায়। মা বাবা কাজে যায়,, সে একা থাকে দাদুর সঙ্গে। দাদু অন্ধ, বয়স সত্তর। মিঠুর কাঁধে তাঁর দায়িত্ব। ব…

অবুঝ দূরত্ব

বসন্তের শেষ বিকেল। গ্রামের পথের ধারে শিমুলগাছের ছায়ায় দাঁড়াইয়া ছিল অয়ন। তাহার দৃষ্টি বারবার গিয়া পড়িতেছিল পথের বাঁকে। সেই পথ দিয়াই প্রতিদিন বিদ্যালয় হইতে ফিরিত মেঘলা। প্রথম পরিচয় ছ…

জ্যোতি

জ্যোতির বিয়ে। জ্যোতির অমতে জ্যোতিকে বিয়ে দিচ্ছে তার বাবা। এই বিয়েতে জ্যোতির মায়ের মত নেই। এমনকি এই বিয়েতে জ্যোতির দাদু-ঠাকুমা বা অন্য কোনো আত্মীয় স্বজনদের মত নেই। জ্যোতির বাব…

গতি

উঠেছি শিয়ালদহ - বনগাঁ লোকালে। যাব বনগাঁ। একেবারে প্রান্তে। যাত্রা ছোটো মনে করলে ছোট আর বড়ো মনে করলে বড়ো, যার যেরকম সয়।

লাইটার

সময়টা যে ভীষণ রকমের প্রেক্ষাপটময় তা বলব না। তবে কলকাতার একেবারে কেন্দ্র। জ্ঞান যেখানে দোকানে দোকানে বিক্রি হয়। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার উপায় নেই; "দিদি কি বই?" "দাদা কি বই বলুন না" মার্ক…

জেন-জি

Gen-G মানেই অর্ক রায়। স্কুলে সবাই তাকে বলে "জিনিয়াস গোয়েন্দা"। CBSE বোর্ডের ফার্স্ট বয়, পড়াশোনায় যেমন তুখোড়, তেমনি রহস্য ভেদ করাই তার নেশা। এই নামটা দিয়েছিলেন তার দাদু — অব…

পেন

অনীক আর সুমেধা। তিন বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরে ওরা অনুভব করল,কোথাও তাল ছিঁড়ে গেছে! বিয়ের পরে যেভাবে কাঁকন বেজে উঠেছিল, তা যেন আর বাজতে চাইছে না! সুমেধা চাকরি করে। অফিস থেকে ফিরে এসে দেখ…

কবে যে…

জষ্ঠিমাসের বিকেলে ঝাড়খণ্ডের মলুটি গ্রামে ঘুরছিলাম। টেরাকোটার সুন্দর সব মন্দির। তাদের ঘিরে রাস্তা। কাঁচাপাকা ঘরদোরে গ্রামবাসীর কমতি নেই। কিন্তু কেউ ফিরেও তাকাচ্ছে না। হাঁদা গ্রাম-চা…