পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ইটাবেড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এই কবি। পিতা পার্থসারথি কামিলা। শৈশবেই পিতাকে হারানোর গভীর বেদনা তাঁর জীবনে এক স্থায়ী ছাপ রেখে যায়। অকাল পিতৃবিয়োগের পর পরিবারকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে হয়েছে। সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা, বেদনা ও জীবনসংগ্রামই ধীরে ধীরে তাঁর কবিসত্তার ভিত গড়ে তোলে।
ছোটবেলার সেই কষ্ট ও অনুভূতিগুলিকে শব্দে প্রকাশ করার তাগিদ থেকেই তাঁর কবিতা লেখার সূচনা। ব্যক্তিগত বেদনা থেকে উঠে এসে তাঁর কবিতা ক্রমশ জীবনের বৃহত্তর অনুভূতি, মানুষের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং অস্তিত্বের নানা প্রশ্নকে ধারণ করতে শুরু করে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সাহিত্যপ্রেমকে সঙ্গী করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কবিতার পথে এগিয়ে চলেছেন।
ইতিমধ্যে প্রায় তিরিশটি সাহিত্যপত্রিকা ও প্রকাশনার সঙ্গে তাঁর লেখালেখির সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ সাহিত্যচর্চার ফসল হিসেবে তাঁর প্রায় এক হাজারটি কবিতা রচিত হয়েছে, যার মধ্যে দুটি কাব্যগ্রন্থ এখনও অপ্রকাশিত অবস্থায় রয়েছে।
বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতেও তিনি কবিতা রচনা করেন। তাঁর ইংরেজি কবিতা আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাহিত্যপত্রিকা ও প্রকাশনায় প্রকাশের জন্য গৃহীত হয়েছে। এর ফলে তাঁর কবিসত্তার পরিসর বাংলা ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সাহিত্যপরিসরেও বিস্তৃত হয়েছে।
জীবনের প্রতিকূলতাকে শক্তিতে রূপান্তর করে, ব্যক্তিগত বেদনার ভিতর থেকে সৌন্দর্য ও সৃষ্টির সন্ধান করাই তাঁর কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কবিতা তাঁর কাছে শুধু লেখার বিষয় নয়— বরং জীবনকে অনুভব করা, নিজের অস্তিত্বকে খুঁজে পাওয়া এবং মনের গভীরে জমে থাকা কথাগুলিকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরার এক আন্তরিক মাধ্যম। সেই অদম্য সৃষ্টিচেতনা নিয়েই তিনি আজও কবিতার পথে নিরন্তর এগিয়ে চলেছেন।