নীক আর সুমেধা। তিন বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরে ওরা অনুভব করল,কোথাও তাল ছিঁড়ে গেছে! বিয়ের পরে যেভাবে কাঁকন বেজে উঠেছিল, তা যেন আর বাজতে চাইছে না! সুমেধা চাকরি করে। অফিস থেকে ফিরে এসে দেখে অনীক তখনও ফেরেনি। আস্তে আস্তে দুজনের বন্ধুবৃত্ত আলাদা হয়ে গেছে। রাতে যখন দেখা হয়,দুজনেই ক্লান্ত। অনীক বেশির ভাগ দিন বাইরে খেয়ে আসে।।মাঝে মধ্যে সুমেধার জন্য বিরিয়ানি বা চাইনিজ আনে না,তা নয়।

তবু একা একা ডাইনিং টেবিলে বসলে টেবিলটা টিটকারি দেয়। ফিক করে হাসে, " সে বুঝি আর পোঁছে না? পুরনো হয়ে গেছ সুমেধা! 

কিছুই আর "সু" নেই তোমার মধ্যে। সেই বিজলি কই? গজদাঁত থাকলে কী হবে? হাসার সুযোগ পাও অনীকের দিকে তাকিয়ে?"

নাহ।

এভাবে চলবে না। দুজনেই একটা তেতো লাইফ কেন।গ্রহণ করতে যাবে? পরস্পরকে রেহাই দেওয়া উচিত!

মিউচুয়াল ডিভোর্স এর জন্য আর্জি জানালো ওরা। সুমেধা চলে যাবে এই ফ্ল্যাট ছেড়ে। আপাতত বাবার কাছে।পরে ওয়ান রুম ফ্ল্যাটে ঢুকে যাবে।।

নিজের জিনিস গুছিয়ে নিতে গিয়ে কেঁদে ভাসাল সুমেধা। ওদিকে গত রাত থেকে ফ্ল্যাট ছেড়ে বের হয়নি অনীক।

উকিলের সামনে সই করতে হবে। পাকাপোক্ত ব্যবস্থা। কিন্তু, উকিল বিরক্ত হচ্ছিলেন। স্বামী - স্ত্রী কেউই পেন।নিয়ে আসেনি !!