ছোট গল্প

সব লেখা

এক আঁজলা জল

বর্ষা এবার ফেরার মুখে। যাওয়ার আগে তারও বোধহয় সংসারী মানুষের মতো কিছু হিসেব মেলাতে হয়। কোথাও শেষবারের মতো ছাদের কার্নিশ বেয়ে দু-ফোঁটা জল নামিয়ে দেওয়া, কোথাও বাঁশবনের মাথায় ভেজা বাতা…

বে-তাল

খগেন চক্রবর্তী, বাড়ি নবদ্বীপ বেনে পাড়া, পেশা যজমানি। ছিপছিপে অষ্টবক্র গড়ন, মুখশ্রী কালশিটে তুবড়ানো ভাতের হাঁড়ির পিছনটা যেমন। দৃষ্টি শকুনের চেয়েও দৃঢ়। যখন শিকার খুঁজতে বের হন, ঠোঁটে…

বেড়াতে গিয়ে

ক্রিং ক্রিং করে কলিংবেল বেজে উঠল । এই রকম অসময়ে দুপুরবেলা কে এল ? দরজা খুলে দেখি পিয়ন দাঁড়িয়ে, হাতে একটা চিঠি । চিঠি এসেছে আমার বন্ধু অমিয়-র কাছ থেকে । অমিয়-র সঙ্গে বন্ধুত্ব সেই স্…

নিশিরাতের হাতছানি

পশ্চিমবঙ্গের এক সুদূর গ্রাম, 'নিশিন্দাপুর'। চারিদিকে ঘন জঙ্গল, আর তার মাঝখানে জীর্ণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রায়বাড়ির পুরনো জমিদার বাড়ি। এই বাড়ির অন্দরমহল নিয়ে গ্রামের মানুষের মনে দীর্ঘদিনে…

অগ্নিবর্ণ ডাকঘরের শেষ চিঠি

রমজানের পনেরোতম রাত। ইফতারের আয়োজন শেষ হতে না হতেই পাহাড়ঘেরা অরণ্যপুর গ্রামের ওপর নেমে এসেছিল নরম জ্যোৎস্না। দূরের মসজিদ থেকে তারাবির শেষ কিরাত ভেসে আসছিল। বাতাসে ছিল ভেজা মাটি আর…

একটা ভৌতিক সাইকেলের গল্প

আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগের একটা ঘটনা। ভারতবর্ষ তখন স্বাধীনতা পেয়েছে দু'দশক হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রাধাকান্তপুর ছিল সেই সময় বন জঙ্গলে ঘেরা। জনবসতি আজকের মত এত ঘন ছিল না। একটা…

পরান ফাটে

সকাল বেলা । সাতটা বাজে । পূর্ব আকাশে সূর্য দেখা যাচ্ছে । অনেক দিন পর সূর্যোর আগমন । আব্দুল্লাহ ছেলে বারান্দাতে বসে খেলা করিচ্ছে । তাঁর খেলার জিনিস সামগ্রী হলো , মাটির ব্যাংকের ভাঙা…

শশীকান্তকে দেখেছি

দিন পনের হলো আকাশ জুড়ে ঘনকালো মেঘের আনাগোনা লেগেই আছে। বিগত রথের দিন রথেরমেলা বসতে না বসতেই বৃষ্টির দাপটে ভেসে গেল। পরদিন থেকে খেপে খেপে বৃষ্টি হয়েই চলেছে। যখন তখন বৃষ্টি নামছে। সক…

শব্দের কারিগর

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। রাধাপুর গ্রামের বাঁশঝাড়ের মাথা চিরে একটা হালকা কুয়াশার চাদর নেমে এসেছে মাটির উঠোনে। চরাচর জুড়ে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা, যা কেবল মাঝেমধ্যে কোনো অচেনা পা…

সাদা পানির রাজনীতি

শহরটার নাম ছিল "দুধনগর"। নাম শুনে মনে হতে পারে সেখানে নদীর বদলে দুধ প্রবাহিত হতো, শিশুরা কান্না করত মাখনের জন্য, আর বৃদ্ধেরা সকালের হাঁটাহাঁটি শেষে সরের চায়ে চুমুক দিতেন। বাস্তবতা…

আমি মৃতা অঞ্জু

চৈতন্যবাটী নামের এই গ্রামটি ছিল আমাদের গ্রামের পাশে। এটি সবুজ গাছ আর পুকুরে ভরা ছিল। পাশ দিয়ে নদ বয়ে যায়। আর সেই গ্রামের বাস স্ট্যান্ড ও রেল স্টেশনের খুব কাছে একটি স্বাস্থ্য কেন…

প্রেম

প্রেমের স্বভাব বড় বিচিত্র। কখন কিভাবে আসে, কখন চলে যায় কেউ বলতে পারে না। যারা প্রেম করে বা প্রেমে পড়ে, তারাও না। আমি তো কোন ছার। সত্যি কথা বলতে কি, আমার প্রেম করার মুরোদ-ই ছিল ন…