আমাদের বাড়ি তখন ছিল ভিটে মাটির ঘর। সংসারে খুব দারিদ্র অচলাবস্থা। পিতা - পার্থ কামিলা তখন 1984 সালেতৎকালীন জ্যোতি বসুর আমলে কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিংয়ে গিয়ে তাহার পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এবং একটা চাকরির জন্য মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন। তখন মন্ত্রী বললেন - আপনি কি চাকরি নেবেন ? বনদপ্তরের চাকরি নাকি পিওনের চাকরি? তখন পিতা বললেন - আমি আমারমায়ের কাছে জিঙ্গেস করে আসি কোন চাকরিটা আমি নেব। তিনি চাকরি কলের লেটার পেয়েছিলেন। আর পড়াশুনার জন্য তিনি তখনকার দিনে মাত্র দেড়শত টাকা আর্থিকসাহায্য পেয়েছিলেন। আবার এই টাকা নিয়ে আসা মাত্র তার বড়ো দাদা হিমাদ্রি টাকা চুরি করেছিলেন। অবশেষে কিন্তু এই টাকা তিনি মন্ত্রীর কাছে গিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কারণ এত কম টাকা তার কাছে পড়াশুনার খরচ মেটাতে পোষাবে না। পিতার- দাদা হিমাদ্রিকে চাকরির কথা বললেসে বলে - কেন তুই চাকরি করবি ? অন্ধ মা'কে দেখবে কে ? তার চেয়ে বরং এখানেই থাক । তোকে একটা জায়গা ধরে দিচ্ছি ওইখানেই একটা দোকান কর । দোকান বেশ রমরমিয়ে চলল । কিন্তু তার দাদাবলল এই দোকানের ভেস্ট জায়গা তোকে আমি ধরিয়ে দিয়েছি যখন এই দোকানের অংশ তখন পুরোটাই আমার । তখন ভাই ভাইয়ের মধ্যে দোকান নিয়ে চরম রেসারেসি বিবাদ চলতে থাকল । এই নিয়ে শেষকালে পিতা চরম আক্ষেপে দোকানটি আর নিলেন না । অর্থাৎ দুঃখতেই আরো দুঃখ থাকল । 2008 সালে কেলেঘাই নদী ভাঙনের বন্যায় আমাদের মাটির ভিটে বাড়ি ভেঙে যায় । উঁচু জায়গায় তখন আশ্রয় নিতে হয়েছিল । জল ভেটে গেলে আমরা ত্রিপলের ঘরে দীর্ঘ যাবতকাল অনেক অনেক কষ্টে থেকে ছিলাম । 2008 সাল থেকে 2018 সাল পর্যন্ত অনেক অনেক কষ্টে ত্রিপলের ঘরে যে ছিলাম তা ভগবান ছাড়া সে কষ্টের মর্ম কেউ বুঝবে না । পিতা কখনো কোনো কারো সরকারি অনুদান নিতেন না । কত বার ঝড় বৃষ্টি আঘাত হানে সেই ত্রিপলের ঘরে তবু সেই ত্রিপলের ঘর একই থাকে । একসময় আমাদের এত অন্নের অভাব দেখা দিল যে - ধান কাটার পর মাঠে পড়ে থাকা ধানের শিস কুঁড়িয়ে ছিলাম । লোকের বাড়িতে দুমুঠো চাল আনতে গিয়েছিলাম পেটের জন্য ; চাল আছে তবু সে বলল চাল নেই । কেউ আর চাল দিল না । একসময় এত অন্নের অভাব দেখা দিল যে - কয়েকদিন আমরা শুধু লাউয়ের তরকারি খেয়ে কাটিয়েছিলাম ।সেই সব স্মৃতি আজ স্মৃতির সরণী হয়ে আছে । আমরা তখন নাবালক । 2018 সালে পিতার অকাল মৃত্যু আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল । তিনি একাদশী ব্রত করেও সেইদিন প্রচুর পরিশ্রম করতেন । পিতার অকাল মৃত্যু আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল । 2019 সাল থেকে আমি আজও কবিতা লিখি।
স্মৃতিবিদ্ধ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
প্রকাশকের বা লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া এই অনলাইন ম্যাগাজিনের কোনও অংশেরই কোনওরূপ পুনরুৎপাদন বা প্রতিলিপি করা যাবে না, কোনও যান্ত্রিক উপায়ের (গ্রাফিক, ইলেকট্রনিক বা অন্য কোনও মাধ্যম, যেমন ফোটোকপি, টেপ বা পুনরুদ্ধারের সুযোগ সংবলিত তথ্য-সঞ্চয় করে রাখার কোনও পদ্ধতি) মাধ্যমে প্রতিলিপি করা যাবে না বা কোনও ডিস্ক, টেপ, পারফোরেটেড মিডিয়া বা কোনও তথ্য সংরক্ষণের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পুনরুৎপাদন করা যাবে না। এই শর্ত লঙ্ঘিত হলে 'তত্ত্ববোধিনী' কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
মন্তব্য (০)
লগ-ইন করুন মন্তব্য করতে।