Gen-G মানেই অর্ক রায়। স্কুলে সবাই তাকে বলে "জিনিয়াস গোয়েন্দা"। CBSE বোর্ডের ফার্স্ট বয়, পড়াশোনায় যেমন তুখোড়, তেমনি রহস্য ভেদ করাই তার নেশা। এই নামটা দিয়েছিলেন তার দাদু — অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর প্রদুষ রায়। দাদুর কথা অর্ক বুকের ভেতর মন্ত্রের মতো ধরে রেখেছে—"প্রেম ভালোবাসা এত সস্তার না, পেলে মর্যাদা দিতে হয়।" দশম শ্রেণিতে উঠতেই স্কুলে নতুন নাটক শুরু হল। কাব্য, অর্কর সহপাঠী, হঠাৎ খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ সে নাকি প্রেমে পড়েছে রিমঝিম নামে এক মেয়ের। কিন্তু অর্কর সন্দেহ হল—কাব্য প্রেম করছে না, খেলছে। একদিন শোনা গেল, স্কুলের পুরোনো ল্যাবরেটরির পাশে রাতে "ভূত" দেখা যায়। সাদা শাড়ি, কাঁদতে থাকা আওয়াজ— সবাই ভয়ে কাঁপছে। রিমঝিমও ভয়ে কাব্যের কাছে আশ্রয় নিচ্ছে। অর্ক বুঝল, ব্যাপারটা গন্ধ পাচ্ছে। সে রাতেই Gen-G অ্যাকশনে নামল। টর্চ, নোটবুক আর দাদুর পুরোনো ম্যাগনিফায়িং গ্লাস নিয়ে ল্যাবরেটরির দিকে গেল। হঠাৎ—"উউউউ... আমাকে বাঁচাও..." সাদা ছায়া নড়ছে! অর্ক শান্ত গলায় বলল,— "ভূত হলে Wi-Fi পাসওয়ার্ড জানে কীভাবে?" ছায়াটা থমকে গেল। অর্ক টর্চ জ্বালাতেই দেখা গেল—সাদা চাদর গায়ে কাব্য! পাশে ব্লুটুথ স্পিকার থেকে ভৌতিক শব্দ বাজছে। অর্ক হেসে ফেলল।— "প্রেম পাওয়ার জন্য ভূত সাজা? একটু বেশিই নাটক হয়ে গেল না?" কাব্য লজ্জায় মাথা নিচু করল। সে স্বীকার করল—রিমঝিমকে ইমপ্রেস করার জন্যই ভৌতিক গল্প বানিয়েছিল। ভয় দেখিয়ে নিজেকে হিরো বানাতে চেয়েছিল। পরদিন স্কুলে সব ফাঁস হয়ে গেল। বন্ধুরা হেসে লুটোপুটি—"ভূত কাব্য! ভূত কাব্য!" কিন্তু অর্ক তাকে অপমান করল না। শুধু বলল—"প্রেম কাউকে ভয় দেখিয়ে পাওয়া যায় না। বিশ্বাস দিয়ে পেতে হয়।" রিমঝিম চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। সে বলল, "সত্যি বললে হয়তো বন্ধুই থাকতে পারতাম।" সেদিন থেকেই অর্কর নতুন নাম ছড়িয়ে পড়ল—Gen-G, স্কুলের গোয়েন্দা। তারপর আশ্চর্য ঘটনা ঘটল। স্কুলে নকল কমে গেল। কেউ আর ফেক আইডি খুলে ট্রল করত না। কারণ সবাই জানত—Gen-G সব দেখে ফেলে। আর কাব্য? সে ধীরে ধীরে বদলে গেল। একদিন অর্ককে বলল—"বন্ধু, ভূত না হয়ে মানুষ হওয়াই কঠিন।" অর্ক হেসে বলল, "দাদু ঠিকই বলেছিলেন—প্রেম মানে দায়িত্ব।" স্কুলের করিডোরে তখন হাসি, বন্ধুত্ব আর ছোট ছোট রহস্যের গন্ধ। আর কোথাও যদি মিথ্যে, প্রতারণা বা ভয় জন্মায়—সবাই জানে, Gen-G এসে পড়বে।