একেই বর্ষাকাল তার উপর সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহের পর বর্ষার আগমন ঘটেছে। আকাশ এমন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে যে, দিনের বেলায় রাতের আঁধার নেমে এসেছে। এই গ্রাম বাংলার একটা অসুবিধা বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাঠ পুকুর রাস্তা আলাদা করে চেনার উপায় থাকে না। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সব কিছু জলে ডুবে গেছে। এমন সময় কানে এল, ছপ্ ছপ্ শব্দ । জমা জলে পা ফেলে কে যেন এগিয়ে আসছে। জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেলাম না। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। দরজা খুলে দেখি কেউ নেই। দরজা বন্ধ করতে গিয়ে দেখলাম এক জোড়া ভিজে পায়ের ছাপ রয়েছে সামনের মেঝেতে। কেউ যেন ভিজে পায়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। দরজা বন্ধ করে ফিরতেই মনে হল, ঘরের তাপমাত্রা এক লাফে অনেকটা নীচে নেমে গেছে। বর্ষাকাল তাই ঠান্ডা লাগছে মনে করলাম। এবার মনে হল, ঘরে আমি ছাড়াও কেউ আরেকজন আছে। আর যে আছে সে অবশ্যই মহিলা। কারণ, একটা মিষ্টি গন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে সাথে চুড়ির শব্দও পাওয়া যাচ্ছে। কে যেন ফিসফিস করে বলছে, "কতকাল ধরে অপেক্ষা করছি তোমার। আমাকে নিতে এসেছো।" মনের ভুল মনে করে বিশেষ পাত্তা দিলাম না।
ওহো বলাই তো হয় নি, আমি অনি। অনিরুদ্ধ বোস। স্কুলের চাকরি নিয়ে এই প্রত্যন্ত গ্রাম নিশ্চিন্তপুরে এসেছি গত এক মাস হল। আসার পর থেকেই কানাঘুষো এই গ্রামের বিভিন্ন লোকের মুখ থেকে কি এক অভিশাপের কথা শুনে আসছি। এই একবিংশ শতাব্দীতে এই কথা শুনে যথেষ্ট হাস্যকর লেগেছে।
কোন এককালে নাকি কোন এক শহুরে বাবুর সাথে নাকি গ্রামের এক মেয়ে ভালোবাসা ছিল। তারপর বিয়ে হয়। একদিন হঠাৎ এক চিঠি পেয়ে ঐ বাবু শহরে চলে যায়। যাওয়ার আগে বলে যায়, বর্ষা আসার আগেই সে মেয়েটিকে নিতে আসবে। কিন্তু যা হয়, শহরে গিয়ে সেমেয়েটিকে ভুলে যায়। এদিকে মেয়েটি অপেক্ষা করতে থাকে। একে একে দিন যায় , মাস যায় , বছর পার হয়। মেয়েটি পথ চেয়ে বসে থাকে। ধীরে ধীরে খাওয়া দাওয়া ত্যাগ করে মেয়েটি এবং অসুস্থ হয়ে মারা যায়। তারপর থেকেই ঐ মেয়েটির আত্মা নাকি গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। শহরে থেকে কেউ এলে মনে করে, ওর স্বামী বোধহয় ওকে নিতে এসেছে। তাই সে ফিরে ফিরে আসে মনে সংসার করার বাসনা নিয়ে।
মন্তব্য (০)
লগ-ইন করুন মন্তব্য করতে।