মিঠুন মুখার্জী - ১৯৮৩ সালের ২২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোবরডাঙায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা গোবিন্দ মুখার্জী ও মাতা উমা মুখার্জী। ব্যবসায়ী পরিবারে বেড়ে ওঠা তাঁর শৈশব ছিল চঞ্চলতা ও প্রাণবন্ততায় ভরপুর। সপ্তম শ্রেণির পর থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে শিক্ষাজীবনে মনোযোগী হয়ে ওঠেন।
গোবরডাঙার স্বামীজি সেবা সংঘ উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে মাধ্যমিক এবং ২০০৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০০৬ সালে গোবরডাঙা হিন্দু কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৮ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম.এ. সম্পন্ন করেন। পরবর্তীকালে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বাংলায় এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন এবং প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন।
কলেজজীবন থেকেই লেখালেখির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার জন্ম। প্রথমদিকে ছোট ছোট কবিতা, অনুগল্প ও ছোটগল্প লেখার মধ্য দিয়ে সাহিত্যচর্চার সূচনা। সময়ের সঙ্গে সেই আগ্রহই পরিণত হয়েছে নিয়মিত সাহিত্যসাধনায়। তাঁর লেখায় মানবিক অনুভূতি, সম্পর্ক, সমাজবাস্তবতা, প্রেম, জীবনসংগ্রাম এবং সমকালীন নানা বিষয়ের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সমাজসেবার ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত *গোবরডাঙা সেবা ফার্মাস সমিতি* নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন।
গানের প্রতিও তাঁর ছোটবেলা থেকেই গভীর অনুরাগ। সপ্তম শ্রেণি থেকেই বিভিন্ন পণ্ডিত ও সংগীতজ্ঞের কাছে সংগীতের তালিম নিতে শুরু করেন। সংগীতচর্চার সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে ২০১৩ সালে তিনি *গোবরডাঙা গীতাঞ্জলি* নামে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অনুমোদিত একটি সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
বর্তমানে লেখালেখির পাশাপাশি তিনি গৃহশিক্ষকতা করেন এবং সাহিত্যচর্চাতেই নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।
সাহিত্য ও সংগীত— এই দুই সৃজনশীল ধারাকে জীবনের সঙ্গে একাত্ম করে তিনি এগিয়ে চলেছেন। মানুষের জীবন, অনুভূতি ও সমাজের নানা বাস্তবতাকে নিজের লেখনীতে তুলে ধরাই তাঁর সাহিত্যসাধনার অন্যতম উদ্দেশ্য। শব্দ ও সুরের এই যুগল পথচলায় তিনি আজও নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে চলেছেন।