সেই যে বিরামহীন বৃষ্টি পড়ছে...আর থামছেনা।এত বৃষ্টি হওয়ার দরকার কি? এমনিতেই কাজের চাপে আজ অফিস থেকে বের হতে দেরি হয়ে গেছে... আশেপাশে রিকশা, সিএনজি,ট্যাক্সি কিছুই দেখা যাচ্ছে না...কি যে হবে...তার উপর আবার এই বৃষ্টি... উফ্ অসহ্য!

রাগে গজগজ করতে করতে নিজের মনেই কথাগুলো বলছে ফাহমান...কি আর করবে? সেই কখন থেকে হাঁটছে...একটা যানবাহনের দেখা নেই...আজ রাতটা যেন একটু বেশিই অন্ধকার। চারদিক বড্ড বেশি নিঝুম...যেন একটা অশুভ আঁধার পুরো শহরকে গ্রাস করে ফেলেছে।আর লাইটপোস্টের আলো ওটা না থাকারই নামান্তর... হঠাৎ ফাহমান দেখলো একটা ট্যাক্সি আসছে...যাক বাবা অন্তত কিছু একটা দেখা গেলো...

এই ট্যাক্সি... ধানমন্ডি যাবে?

যাবো... উঠে বসুন।অনেকটা গম্ভীর গলায় কথাগুলো বললো ট্যাক্সি ড্রাইভার...তার মাথায় কালো ক্যাপ...এজন্য তার মুখটা ঠিকমত দেখতে পেলো না ফাহমান।

তাড়াতাড়ি ট্যাক্সিতে উঠে বসলো সে...যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো।

ট্যাক্সি নিজস্ব গতিতে ছুটে চলছে।ফোনটা বের করে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে থাকলো ফাহমান... গান শুনতে শুনতে চোখটা লেগে গিয়েছিলো তার... হঠাৎ একটা ঝাঁকুনিতে উঠে পড়লো ফাহমান। আশেপাশে চেয়ে দেখলো এতো তার চিরপরিচিত রাস্তা নয়... কোথায় এলো সে?এক অজানা আশঙ্কায় বুকটা কেঁপে উঠলো ফাহমানের।এটা তো সেই রাস্তা যে রাস্তায় সে তার পিএ তনিমাকে পুঁতে দিয়েছিলো...আর কিই বা করতো সে...সে তো জাস্ট টাইম পাসের জন্য তার সাথে রিলেশনে জড়িয়েছিলো। কিন্তু তনিমা অনেক সিরিয়াস ছিলো... সারাদিন শুধু কবে বিয়ে করবে কবে বিয়ে করবে করে করে কানটা ঝালাপালা করে দিচ্ছিলো...আর নেওয়া যাচ্ছিলো না...তাই একদিন রাগের মাথায় তনিমাকে...তারপর এই রাস্তায়... অফিসের সবাইকে বলেছিলো সে চাকরি ছেড়ে চলে গেছে। এতদিনে তো তার কোনো আত্মীয় স্বজন খোঁজ খবর করেনি... তাহলে আজ হঠাৎ কিভাবে...

আপনি আমায় এখানে কেন এনেছেন...এটা তো ধানমন্ডি যাওয়ার রাস্তা নয়...

কোনো উত্তর নেই...

কি হলো কথা বলছেন না কেন...একটু ধমকের সুরে বললো ফাহমান...

হঠাৎ ট্যাক্সি ড্রাইভারের মুখটা পেছন দিকে ঘুরলো... মানে শুধু মুখটাই ঘুরলো বাকি শরীরটা আগের মতই রইলো...

চিনতে পারছেন এই জায়গা... হাসতে হাসতে কথাগুলো বললো ট্যাক্সি ড্রাইভার...

ফাহমান চিৎকার করে উঠলো...এ কি দেখছে সে... চোখের ভেতরটা সাদা...বিকৃত একটা মুখ তার দিকে তাকিয়ে হাসছে... সেই পৈশাচিক হাসিতে যে কারো পিলে চমকে উঠবে...

কি...চা...ন..আ...প...নি? কাঁপা কাঁপা গলায় বললো ফাহমান...

কিছু চাই না... শুধু...আবারো হাসতে লাগলো সেই বিকৃত মুখটা...

কেউ আছে... আমাকে বাঁচান...ট্যাক্সি থেকে নামতে চেষ্টা করলো ফাহমান... কিন্তু ট্যাক্সির দরজা খুলছে না...ট্যাক্সিটা দুলতে আরম্ভ করলো...ফাহমানের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে...ট্যাক্সিটা সংকুচিত হয়ে আসছে...যেন তাকে চেপে ধরবে...সে চিৎকার করতে পারছে না...দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে...

দুদিন পর ফাহমানের ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের অনুসন্ধানের পর সেই রাস্তা থেকে আরো একটা ডেডবডি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।সন্দেহজাজন কাউকে গ্রেফতার করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।


তিন মাস পর


এই ট্যাক্সি যাবে...

.যাবো... উঠে বসুন...

আজও মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। চারদিক নিস্তব্ধ। কাউকে তার পাপের শাস্তি দিতে শহরের বুকে ছুটে চলছে সেই ট্যাক্সিটা...