ঠাকুমার জন্যে বড় চিন্তা হচ্ছে উড়ানের। ক'দিন ধরে হাঁটুর ব্যথায় নড়াচড়া করতে পারছেন না । এদিকে দশ প্যাকেট ডালের বড়ির জন্য সমানে তাগাদা দিচ্ছে বরদা মুদি ।দু'বার তাগাদা দিয়েও না পাওয়ায় শাসিয়েছে--" তোরা যদি না পারবি বলছিস না কেন ? তাহলে আমি অন্য জায়গা থেকে নেব । আবার অন্য জায়গা থেকে নিয়ে নিলে তখন মালতী খুড়ি এসে নাকি কান্না শুরু করবে কেন অন্য জায়গা থেকে নিলাম ।"

উড়ান নীরবে শোনে । কীই বা আর করার আছে ওর। সবে আট বছর বয়স । ও কি আর মুখে মুখে তর্ক করতে পারে ? ঠাকুমা যেটুকু করতে বলেন ‌সেটুকুই ও করে । হঠাৎই ঘরের ভেতর থেকে ডাক পড়ল মালতী দেবীর --"আরে ও দাদাভাই , ও নাতিএদিকে আয় না একবার । তেল -রসুনটা একবার এনে হাঁটুতে একটু মালিশ করে দে দেখিন ?"

--"কোথায় রেখেছ ?"

 --" ঠাকুর ঘরে ডান দিকের দেওয়ালের দ্বিতীয় তাকে । নিয়ে আয় একটু। বড় ব্যথা করছে ।"

উড়ান ঠামার কথা মত রসুন - তেলের বাটিটা এনে পায়ে মালিশ করে দিতে দিতে বলে --"বরদা জ্যেঠু ডালের বড়ি ‌তাড়াতাড়ি না দিলে অন্য জায়গা থেকে নেবে বলেছে।"

খেঁকিয়ে ‌ওঠেন মালতী দেবী --" কী ভয় দেখাচ্ছে ? নিক না অন্য জায়গা থেকে। এত কম দামে এত ভালো বড়ি পাবে ? "..... এরপরই দু'বার জোরে জোরে ভেতরের ক্ষোভের শ্বাস ফেলে বললেন --" একটুজোরে জোরে মালিশ কর ।"

কিছুক্ষণ মালিশ করার পর চৌকি থেকে পা নামিয়ে দু'তিন বার পা দুটোকে উপর নিচ করে তারপর কয়েক বার ভাঁজ করে খুশি হয়ে বললেন --" দাদুরে মালিশটা তুইকিন্তু ভালোই করিস ।"..... তারপর লেগে গেলেন বড়ি তৈরি করতে।

বিভিন্নধরণের ভেজানো ডাল একে একে মেশিনে ঢেলে ডালের পেস্ট তৈরি করতে লাগলেন। তা‌রপর কোনটায় মশলা মিশিয়ে , কোনটা না মিশিয়ে বেশ কয়েকটা বড় বড় পাটি সামনেরবড় উঠোনে পেতে বড়ি বানাতে লেগে গেলেন । মালতী দেবীর স্বামী বরেন বাবু বেঁচে থাকতেই এই ডাল পেস্ট করার মেশিন কিনে দিয়েছিলেন । বরেন বাবু ভালো কাজ করলেও মালতী দেবীর খুব ইচ্ছে ছিল তিনি স্ব- নির্ভর হবার জন্য ডালের বড়ির ব্যবসা করবেন । প্রথমে বরেন বাবুর খুব একটা ইচ্ছে ছিল না কারণ এর ধকল অনেক । তাছাড়া ছেলে বীরেশ মা ডালের বড়ির ব্যবসা করুক তা আদৌ পছন্দ নয়। ছেলে পড়া শেষ করে বিদেশে চলে যায়। ছেলে বিদেশে চলে যাওয়ার পরই মালতী দেবীর বারবার অনুরোধে বরেন বাবু ভালো দেখে এই পেস্ট করার মেশিন কিনে দিয়েছিলেন । সেই থেকেই এই ব্যবসার শুরু।

ব্যবসা শুরু হতেই মাস ছয়েক পরে বরেন বাবু হঠাৎই এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে মারা যান।ছেলেও এখানে নেই। সম্পূর্ণ একা হয়ে গেলেন তিনি। এই ব্যবসাটাই এখন ওনার শোক নিবারণ করে সময় কাটানোর এবং অর্থোপার্জনের একমাত্র সম্বল হয়ে দাঁড়ালো।

শহরের শেষ প্রান্তে অনেকটা গ্রাম্য পরিবেশে মালতী দেবীর বাড়ি । এই বাড়ি বরেন বাবুদের তিন পুরুষ আগের।

রথের মেলা প্রতি বছরই বসে এই শহরে । মালতী দেবী ঠিক করলেন এবার রথের মেলায় ওনার তৈরি করা ডালের বড়ি নিয়ে একটা স্টল খুলবেন । বিক্রি বাটা যদি ভালো হয় তবে চাহিদা বাড়বে , ব্যবসাটা দাঁড়িয়ে যাবে । লোক রেখে তখন বড করে বাজার ধরা যাবে । এখন সব একা একাই করতে হয়।

রথের মেলায় বিক্রিটা প্রত্যাশার চাইতে বেশিই হল । সন্ধ্যা হবার আগেই বিক্রি শেষ । মনের আনন্দে বাড়ি ফেরার সময় নামল বৃষ্টি । মেঘলা ভাব দেখে ভাগ্য ভালো সঙ্গে ছাতা এনেছিলেন তাই রক্ষে । ছাতা মেলে কিছুটা গিয়ে নিজের গ্রামের রাস্তার মুখে ঢোকার আগে হঠাৎ লক্ষ্য করলেন ‌-- দুটো পাশাপাশি পেয়ারা গাছের পাশে বসে খুব ছোট্ট একটা বাচ্চা ছেলে বৃষ্টিতে ভিজছে আর অঝোর ধারায় কাঁদছে । পাশে কেউ নেই । মালতী দেবী ওর কাছে গিয়ে বললেন --" কী হল ? এখানে একা একা বসে জলে ভিজে কাঁদছ কেন ? তোমার মা বাবা কোথায় ? বাড়ি কোথায় ?"

‌ছেলেটি কোন উত্তর না দিয়ে আরো জোরে কাঁদতে থাকে । মালতী দেবী আবার বললেন

--" তুমি কি রথের মেলায় এসেছিলে ? কার সঙ্গে এসেছ ?"

ছেলেটি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বুঝিয়ে বলল     --" মা বাবার সঙ্গে ।"

মালতী দেবী বলেন --" রথের মেলা তো ঐদিকে তুমি এখানে এলে কী করে ? তোমার বাড়ি কি এই দিকে ?"

ছেলেটি উত্তর দেয় না । শুধু কাঁদতে থাকে আর বলতে থাকে --" মা যাব , বাবা যাব ।"

আড়াই থেকে তিন বছর হবে ওর বয়স । তাই ঠিক মত উত্তর পাওয়া আশা করা যায় না । বৃষ্টি তখনো অঝোর ধারায় হয়ে চলেছে।

মালতী দেবী দেখলেন রাস্তা ঘাট একেবারে ফাঁকা । তুমুল বৃষ্টিতে যেন একটা ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। দশ বারো হাত দূরের কোন কিছুই খুব একটা পরিষ্কার দৃশ্যমান নয় । বৃষ্টির প্রাবল্যে ছেলেটাতো ভিজছেই নিজেও কিছুটা ভিজে গেছেন । সন্ধ্যা নেমে এসেছে । গ্রামের রাস্তায় এমনিতেই টিমটিমে আলো জ্বলে আর এখন তো অঝোর ধারায় বৃষ্টি চলছে । লোড শেডিং । ছেলেটাকে এভাবে একা ফেলে যেতে মন ‌চাইছে না । কোন খারাপ খপ্পড়ে পড়ে যেতে পারে ছেলেটা, নতুবা অসুখও হতে পারে । আর কিছু না ভেবে ছেলেটাকে কোলে তুলে নিয়ে ‌চলে এলেন নিজের বাড়ি । নাম রাখলেন উড়ান । কিন্তু ঘরে এসেই দেখেন ছেলেটার প্রবল জ্বর। চারদিন ধরে যমে মানুষে টানাটানির পর ছেলেটি সুস্হ হয়ে ওঠে।

ও মালতী দেবীকে ওর ঠাকুমা বলেই বুঝল । ছেলেটিকে পেয়ে মালতী দেবী ভাবলেন -- এ ঈশ্বরের দান । ওর চোখে মুখে মা বাবা হারানোর অসহায়তা । ওর সরল মুখে একটা সম্মোহনী জাদু আছে যা মালতী দেবীকে পৌত্র স্নেহে বেঁধে ফেলল। ছেলে বীরেশ এখানে থাকলে ওর ছেলেও তো এই বয়সীই হত । বরেন বাবু মারা যাওয়ার পর ছেলে আর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে না। এখন এই উড়ানই ওনার একমাত্র ‌সম্বল হয়ে উঠল।

সেদিন ‌সব কাজ ‌সেরে সন্ধ্যার একটু আগে উড়ানকে পাঠালেন বাজারে যেসব দোকানে ওনার বানানো বড়িগুলো সাপ্লাই দেওয়া হয় সেখান থেকেপাওনা টাকা আনতে কেননাএতটা ব্যথা পায়ে হাঁটা হাঁটি করতে আজ একটু বেশিই কষ্ট হচ্ছে।

সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত আটটা হয়ে গেল ছেলেটা এখনো আসছে না দেখে চিন্তা হচ্ছে মালতী দেবীর । এমন সময় পাড়ার ছেলে চিতু এসে খবর দিল --" তোমার নাতি উড়ানকে বরদা মুদি খুব মেরেছে গো । বাজারে ভিড় জমে গেছে । ওকে মেরে গাছে বেঁধে রেখেছে"।

ভয়ে, আতঙ্কে ছ্যাক ‌করে ওঠে মালতী দেবীর সারা শরীর । রাগে সারা শরীর কাঁপতে থাকে । চোখে চশমাটা গলিয়ে হাতে একটা শোলার ঝাড়ু নিয়ে পাগলের মত দৌড়তে লাগলেন ঐ দোকানের দিকে । এই একটু আগেও যিনি হাঁটুর ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন --কোথায় গেল সেই ব্যথা ! গজগজ করতে করতে রণচণ্ডী মূর্তি ধারণ করে চলেছন       --" এত বড় সাহস ! আমার নাতিটাকে বাচ্চা পেয়ে ওকে মারধর ! গাছে বেঁধে রাখা ! আজ আমার একদিন কি বরদা মুদির একদিন ।!"

রাস্তার লোকেরা মালতী দেবীর এই রণং দেহি মূর্তি দেখে হতবাক ।কেউ বলছে 'ও পিসি ' কেউবা বলছে 'ও ঠামা কী হয়েছে গো?" ..... তখন উত্তর দেওয়ার সময় নেই । পেছন পেছন অনেকেই কৌতূহল বশত সেখানে এসে হাজির । সেখানেও বেশ ভীড় । বরদা মুদির তর্জন গর্জন চলছে --" তোকে কালকেই টাকা দিলাম আর আজ আবার এসে বলছে কিনা টাকা দেই নি ! শয়তান , মিথ্যেবাদী ! দেখি কে বাঁচায় তোকে।"

আর ওদিকেঐ বাঁধা অবস্থায় অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে উড়ান বলছে --"কাল আমি আসি নি।"

হুংকার দিয়ে ওঠে বরদা --" আবার মিথ্যে বলছিস?" .....বলেই গালে চড়।

হঠাৎই এমন সময় মালতী দেবীর হুংকার শোনা গেল --" সাবধান বরদা। তোর এত বড় সাহস কী করে হয় আমার নাতিকে মারার ? গাছে বেঁধে এই বাচ্চাটাকে মারছিস ? ও-তো কাল বাজারেই আসে নি । প্রত্যেক বার আমিই টাকা নিতে আসি। আমার শরীর খারাপ ছিল বলে নাতিটাকে এবারই প্রথম টাকা আনতে পাঠিয়েছিলাম । আমার অসুখ বলে কাল ও ঘরেই ছিল । আর তুই কিনা ওকে টাকা দিয়েছিলিস ! মিথ্যা বাদী। শয়তান তো তুই ।".... বলে হাতের ঝাঁটা নিয়ে বরদাকে মারতে যেতেই সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা  পাড়ারই এক ভদ্রলোক ছুটে ওনার হাত থেকে ঝাঁটাটা নিয়ে ওনাকে থামিয়ে বলেন --" উনি তো ঠিকই বলেছেন । আমি তো দেখেছি ওনার শরীর ভালো নয় বলে নাতিই আজকাল বড়ি তৈরির ব্যপারটা দেখে‌ আর ওনার দেখাশোনাও করে । কাল ওনাকে নিয়েই ব্যস্ত ছিল ও । কাল ও বাড়িতেই ছিল।"

তখন ওর মধ্য থেকে অন্য এক দোকানী বলল --" কাল কিন্তু সত্যিই ছেলেটা আসে নি। আজ ও আমার দোকানেও গেছিল । আজ ও আমার থেকেও টাকা নিয়েছে । বলছিল ঠামার শরীর খারাপ তাই ওকে টাকা নিতে পাঠিয়েছে। আমি টাকা দিয়ে দিয়েছি । এভাবে বাচ্চা ছেলেটাকে মিথ্যে দোষারোপ করে বেঁধে মারধর করা ঠিক হচ্ছে না ।".    

এ কথা শোনা মাত্রই আগুনে যেন ঘি পড়ল । উপস্থিত অনেকেই ‌ একযোগে বরদা মুদিকে ‌মারতে উদ্যত হয় । বরদা মুদি ভয় পেয়ে মিউ মিউ স্বরে বলতে থাকে --" না গো কাল ও সত্যি সত্যিই আমার থেকে টাকা নিয়েছে ।"

মালতী দেবী এবার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ---" আবার মিথ্যে বলছিস ?".... বলেই ওর গায়ে হাত তুলতে যেতেই সবাই ওনাকে বাধা দিয়ে এবার বরদা মুদিকে নিয়ে পড়ল --" এই বাচ্চাটাকে ছেড়ে দিয়ে খুড়ির কাছে ক্ষমা চাও। তোমার বিবেক বোধ নেই ! ? এই বাচ্চাটাকেঅযথা মারধর করছ ! তোমার নরকেও স্হান হবে না ।এখনই ওনার প্রাপ্য টাকা ফেরৎ দাও । না দিলে সবাই ‌তোমার এই দোকান বয়কট করবে ।"

নিরুপায় বরদা আর কথা না বাড়িয়ে উড়ানকে ছেড়ে দিয়ে সমস্ত প্রাপ্য টাকা ফেরৎ দিল ‌।

নাতিকে ফিরে পেয়ে মালতী দেবী উড়ানকে বুকে টেনে নিয়ে ওর পিঠে, মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে অঝোর ধারায় কাঁদতে কাঁদতে বলেন -- " তোর উপর এই হুজ্জুতির জন্য আমিই দায়ী । আমার পোড়া কপাল তাই এই হাঁটু ব্যথার মধ্যে তোকে পাঠাতে হয়েছিল । এখনো যে এই পৃথিবীতে এত শয়তান আছে বুঝিনি আগে । নাক দিয়ে দুধ গড়ায় সেই বাচ্চাকেওওরা রেয়াত করে না ।"

ঘরে ফিরে মালতী দেবী আর পারেন না । শুয়ে পড়লেন বিছানায় । ব্যথায় টনটন করছে পা । যেন অবশ হয়ে আসছে । উড়ান বুঝতে পারে ঠামার খুব কষ্ট হচ্ছে । দেরী করে না আর ও । দৌড়ে গিয়ে তেল-রসুন নিয়ে এসে পালিশ করে দিতে থাকে ঠামার পায়ে । অবাক হন মালতী দেবী ।কিছুই বলেন নি উড়ানকে। অথচ নিজের এত কষ্ট ,এত যন্ত্রণার পরওও ঠিক বুঝেছে ঠামা ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন ! আবার নিজেও নিজের কাণ্ডখানা ভেবে অবাক হয়ে মনে মনে হাসতে থাকেন -- যে ব্যথায় নিজেই এত কষ্ট পাচ্ছিলেন সেই তিনিই কিনা নাতির বিপদ শুনে দৌড়ে গেলেন অবলীলায় ! তখন ব্যথা কোথায় ছিল ! অথচ বাড়িতে ফিরেই আবার ব্যথা ! ভাবলেন -- এ সবই গোবিন্দের লীলা ।

উড়ান এখন বড় হয়েছে । উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছে । মালতী দেবী বার্ধক্যজনিত জড়ায় অনেকটাই কাবু । ব্যবসার কাজ উড়ান এখন একাই সামলায় । ঠাকুমাকে এখন আর ওসব কিছুই দেখতে হয় না । ব্যবসাও ভালোই চলছে । তাই ব্যবসার কাজে লোক রাখতে পেরেছে ।  

মালতী দেবী ‌একদিন উড়ানকে বললেন --" দাদুরে আমার বর তো কোনদিন কোন তীর্থে নিয়ে যায় নি, তুই তো এখন আমার ছোট বর ‌। আমার খুব ‌ইচ্ছ হচ্ছে মরার আগে একবার কুম্ভমেলায় যাওয়ার । ক'দিন আর বাঁচব। নিয়ে যাবি ?"

বিরক্ত হয় উড়ান --"ঠামা, আবার তুমি মরার কথা বলছ ? ভালো লাগে না শুনতে । মরার কথা বললে কোথাও নিয়ে যাব না ।"

--" রাগিস কেন বর ? কুম্ভ স্নানের খুব ইচ্ছে হচ্ছে আমার । আমার শেষ ইচ্ছেটা পূরণ করবি না?"

শেষ পর্যন্ত ঠিক হল প্রয়াগের কুম্ভমেলায় যাবে । শাহী স্নানের দিন ওরা সেখানে পৌঁছেই দেখে -- অগুনতি মানুষ চলছে ঘাটের দিকে । গাড়ি চলাচল এই পথে এখন নিষিদ্ধ । সবাইকে হেঁটেই যেতে হচ্ছে । মালতী দেবীর হাতে একটা ওয়াকার স্টিক আছে ঠিকই কিন্তু এত মানুষের ভিড়ে এই স্টিক অন্যের গায়ে বা পায়ে লেগে যাচ্ছে । কাজেই গাল শুনতে হচ্ছে । একবার কিছু অতি উৎসাহী দল বেঁধে যাওয়া অল্প বয়সী ছেলেদের ধাক্কায় মালতী দেবী পড়ে যেতে যেতে বেঁচে গেছেন । অনেকটা হাঁটা পথ মাঝে মাঝে বিশ্রাম ‌নিতে হচ্ছে । স্টেশন থেকে এই পথটুকু আসতেই প্রায় দু'ঘন্টা লেগে গেল । ঘাটের কাছে গিয়ে দেখে অগুনতি মানুষ তিল ধারণের জায়গা নেই । একটা ঘাটে দেখা গেল শুধুই সাধু সন্ন্যাসীরা সেখানে স্নান করছেন । কেউ সিঁড়িতে বসে, কেউ বা নদীর জলে নেমে স্নান করছেন । কেউ আবার সিঁড়িতে বসে ফুল মালা দিয়ে শিবের, কেউ বা বিষ্ণুর আবার কেউ বা গঙ্গা যমুনা সরস্বতীর আরাধনা করছেন । নদীর আশেপাশে নানান জায়গায় জায়গায় অনেক পুরোহিত ফুল বেলপাতা নিয়ে মন্ত্রপাঠ করিয়ে ' ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায় ' বলে বা 'হর হর গাঙ্গেয়' উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে জলে ডুব দেওয়াচ্ছেন । ঘাটে ভীড়ের জন্য ‌ঘাট ছেড়ে অন্যত্রও পুণ্যার্থীরা স্নান করতে ব্যস্ত ।

উড়ান বুঝে পাচ্ছে না এই ভিড়ের মধ্য দিয়ে ঠামাকে ‌নিয়ে কী করে ঘাট দিয়ে নদীতে নামিয়ে স্নান করাবে । দেখা গেল অনেকেই এদিক ওদিক দিয়ে নদীতে নামছে। তাই দেখেকিছুটা দূরে গিয়ে নদীর পাড় ধরে নামতে গিয়ে উড়ান বুঝল এ খাড়া ঢাল দিয়ে নামতে গেলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাওয়ার ভয় আছে ।‌উড়ান বলল --" না ‌ঠামা তুমি বরং এখানেই দাঁড়াও, আমি ঘটি করে করে জল এনে তোমাকে স্নান করিয়ে দিচ্ছি ।"

মালতী দেবী অনমনীয় । বললেন--" এত কষ্ট করে ‌এখানে এসে যদি নদীতেই না নামলাম তবে পুণ্যিটা হবে কী করে ?"

উড়ান এবার রেগে যায় --" দেখছ তো এখান দিয়ে নামতে গেলে পড়ে গিয়ে হাত পা ভেঙ্গে যাবে -- তখন?"

--" আমি পারব রে । ঠাকুর যখন এতটা এনেছেন -- আমাদের ভালোর জন্যই এনেছেন। কিচ্ছু হবে না আমার ।"

এমন সময় সেখানে এক ভদ্রলোক প্রায় পঞ্চাশোর্ধ্ব হবে -- ওদের কথোপকথনের মাঝে এসে বললেন -- " আপনারা দেখছি বাঙ্গালী। ভালোই হল। কোত্থেকে এসেছেন?"

মিতালী দেবী বলেন ---" আমরা কুচবিহারের খাগড়াবাড়ি থেকে এসেছি ।"

--" আমি বিপ্লব গুহ । আমিও এখানে কুম্ভ স্নান করতে এসেছি । কিন্তু যা অবস্থা দেখছি ঘাটের ওখান দিয়ে নামতে পারব না । আমার বেশ কিছুদিন আগে হিপ জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট হয়েছে । তাই ভরসা পাচ্ছি না ঐ ভিড়ের মধ্য দিয়ে নামতে ।"

উড়ান বলে --" বেশ তো আমাদের সঙ্গেই আসুন । আর একটু এগিয়ে গিয়ে বরং দেখি কোথা দিয়ে নামা সহজ হবে ।"

তাই হল । বেশ কিছুটা এগিয়ে একটু কম ঢাল দেখে তিনজন ঠিক করল এখান দিয়েই নদীতে নামবে । উড়ান বলল --" ঠামা তুমি আমার পিঠে উঠে শক্ত করে গলা জড়িয়ে ধরে থাকবে । তোমার লাঠিটা আমাকে দাও । আমি ঐ লাঠির সাপোর্টে তোমাকে নিয়ে জলে নামব।"

উড়ানের কথামত মিতালী দেবী উড়ানের পিঠে উঠে শক্ত করে দুই হাত দিয়ে ওর গলা জড়িয়ে ধরে নিলেন । উড়ান এক পা এক পা করে অতি সন্তর্পণে নদীতে নেমে ঠামাকে নিয়েই কয়েক বার জলে ডুব দিয়ে স্নান সেরে উপরে উঠেআসতেই নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিপ্লব বাবু উচ্ছ্বসিত ভাবে প্রশংসা করতে লাগলেন উড়ানের । উড়ান বলল      --" এবার আপনিও আসুন । আপনাকে পিঠে নিতে পারব না । তাই ‌আমার হাত শক্ত করে ধরে সাবধানে নামুন । আপনাকেও স্নান করিয়ে আনি ‌।'

ছেলেটির উপর নির্ভরতার আশ্বাস পেলেন বিপ্লব বাবু । উড়ানের হাত ধরে ধীরে ধীরে অতি সাবধানে নদীতে অবগাহন করলেন পরম তৃপ্তিতে , পরম আনন্দে । এ যেন কাঙ্ক্ষিত ইচ্ছা পূরণ । উড়ানের হাত ধরে ‌উপরে উঠে এসে বিপ্লব বাবু বললেন --" তুমি আমার ছেলের কাজ করলে । জানি না ছেলেও এতটা করে কিনা । কিন্তু তবু আবার বলছি --"তুমি আমার ছেলের কাজ করলে । তোমার নাম কি বাবা ?"

--" উড়ান শীল।"

--" জান, আমারও একটি ছেলে ছিল । এতদিনে তোমারই বয়সী ‌হয়ে যেত ।"

--" কেন ,ছেলে ছিল বলছেন কেন ? কী হয়েছিল ওর?"

বিপ্লব বাবুর চোখ ছল ছল করে উঠল ।বললেন --" হারিয়ে ফেলেছি ছেলেটিকে ।"

অবাক হন মালতী দেবী । বলেন --" মানে? কীভাবে ?''

--" আমি থাকি শিলিগুড়িতে । সেখানে আমার একটা ওষুধের দোকান আছে । ওতে আমার আয় যথেষ্টই ভালো । আমার শ্যালিকার বিয়ে হয়েছে কুচবিহারে । সেখানে রথযাত্রার সময় অনেক বারই আমাদের যাওয়ার জন্য বলত । ঠিক করলাম আমার স্ত্রী ‌আর একমাত্র সন্তান রাজাকে নিয়ে যাব । ওর তখন তিন বছর বয়স । গেলামও সেখানে । আমার স্ত্রী প্রমীলা আর ছেলে রাজা রথযাত্রা খুবই উপভোগ করছিল । কুচবিহারের ঐ রথের মেলায় নাগরদোলা ,চরকিতে ওঠা -- ভয় যেমন পাচ্ছিল তেমনই ‌উপভোগও করছিল খুব । তারপরজিলিপি, পাঁপড় ভাজা -- খুব আনন্দ পাচ্ছিল ছেলেটা । দোকানে দোকানে ভর্তি রাস্তার দু'পাশ । কত রকমের খেলনা -- আমের আঁটির ভেঁপু, বাঁশের কাঠিতে বাঁদর নাচন, কাঠের ঘোড়া -- যা দেখছে সবই ওর চাই । যেখানে যা দেখছে সেখানেই দৌড়ে যেতে থাকে -- ওটা ওর চাই । ওর দৌড়াদৌড়ি আর চাহিদাতে আমরাও ক্লান্ত হয়ে পড়লাম । সঙ্গের ব্যাগ ভর্তি হয়ে গেছে ওর পছন্দের জিনিসে । বিকেল গড়িয়ে কখন সন্ধ্যে হয়ে গেল! মেঘ করেছে বেশ । হঠাৎই হাওয়া বইতে লাগল জোরে । নামল বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা সঙ্গে ‌কান ফাটানো বাজ পড়ার শব্দ । শুরু হয়ে গেল দৌড়াদৌড়ি । সবাই আশ্রয় খুঁজছে । দোকানগুলো ঝপাঝপ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । হঠাৎ দেখি ছেলে আমাদের সঙ্গে নেই। এদিক ওদিক দেখলাম কোথাও দেখতে পেলাম না । ভয়ে বুকটা ধড়াস করে উঠল । তখন বেশ জোরে বৃষ্টি হচ্ছে । বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাগলের মত খুঁজতে লাগলাম আমরা দু'জনে । পেলাম না । কাছের পুলিশ স্টেশনে মিসিং ডায়েরি করা হল । কিন্তু আজও আমার ছেলের সন্ধান পেলাম না ।"..... কান্নায় ‌গলা জড়িয়ে আসছিল । চশমাটা খুলে রুমাল দিয়ে চোখ মুছে আবার বলল --" জানেন তো এতদিনে আমার ছেলেও আপনার এই নাতি উড়ানের মতই বড় হোত। ও যেভাবে আমাকে স্নান করাচ্ছিল মনে হচ্ছিল আমার ছেলেই যেন পরম যত্নে আমাকে পুণ্যস্নান করাচ্ছে । আপনার এই নাতিকে অনেক অনেক আশীর্বাদ করছি -- ওর যেন সব ভালো হয় । আপনার ছেলে সত্যিই ভাগ্যবান -- এমন ছেলে উনি লাভ করেছেন।" ‌ তারপরই এদিক ওদিক তাকিয়ে বললেন --" আপনার ছেলে আসেন নি?"

ওনার কথা শুনে মালতী দেবীর খুব কষ্ট হতে থাকে । ওনার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বললেন --" আপনার স্ত্রীকে আনেন নি যে !"

এ কথা শুনে বিপ্লব বাবুর চোখ আবার ছলছল করে ওঠে । বললেন --   সেদিনের ঝড় জলে ভিজে ভিজে ছেলকে না পেয়ে জ্বরে পড়ল আমার স্ত্রী । ও জ্বরের মধ্যে সমানে প্রলাপ বকতে থাকে -- 'রাজা, কোথায় গেলি বাবা ? আমার বুকে আয় ।' এই যন্ত্রণাটা ও নিতে পারে নি । তিনদিনের জ্বরে ও -ও আমাকে ছেড়ে চলে যায় । আগের জন্মে কী পাপ করেছি জানি না -- আমি যেন এক অন্ধকার গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হলাম । বেঁচে থাকাটাই আমার কাছে তখন বিড়ম্বনা মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল আত্মহত্যা করি । কিন্তু পারি নি । এরপর ব্যবসায়ে আর মন বসাতে পারি নি। অন্যের হাতে ব্যবসা দিয়ে এখনো খুঁজে বেড়াচ্ছি আমার ছেলেকে । জানি -- ওকে আমি চিনতেও পারব না । কত বড় হয়ে গেছে । তবু খুঁজে বেড়াই । যেখানে যেখানে মেলা হয় সেখানেই যাই যদি ছেলের দেখা পাই।"...... চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে থাকে ‌বিপ্লব বাবুর । ওনার এই দুঃসহ যন্ত্রণার কথা শুনেমালতী দেবীরও খুব কষ্ট হয় । ছেলে হারানোর মানসিক যন্ত্রণা তিনিও তো ভোগ করে চলেছেন । ছেলে থেকেও নেই ।‌এক মাত্র সান্ত্বনা ছেলে বেঁচে আছে । ওনার তো ছেলে বেঁচে আছে কি নেই তাও জানা নেই।

মালতী দেবী বললেন --" ঠিক কত বছর আগে আপনার ছেলেকে হারিয়েছেন ?"

--" ঠিক ষোলো বছর আগে রথের মেলায়।"

--" আপনার ছেলের সেই সময়ের চেহারার বর্ণনা এবং কোন জন্ম দাগ থেকে থাকলে সেটা সবাইকে জানাবেন । এতে হয়তো কোন সূত্র পেয়ে যেতে পারেন । আমি তো ঐ অঞ্চলেই থাকি যদি কোন খোঁজ পাই । আপনার ঠিকানাটাও আমাদের দিয়ে রাখুন ।"

--" ঠিকই বলেছেন । এজন্য আমার সঙ্গে একটা ফটোও থাকে । দেখাতে পারতাম । কিন্তু স্নান করব বলে সঙ্গে ওটা আনি নি । দোহারা চেহারা ছিল ওর । গায়ের রংটা এই উড়ানেরই মতশ্যাম বর্ণ ছিল । জন্ম দাগ বলতে ও হ্যাঁ মনে পড়েছে নিতম্বে একটা কালো দাগ ছিল।"

চমকে ওঠেন মালতী দেবী । সেই ষোলো বছর আগের সেই দিনটি যেন চোখের সামনে ভেসে উঠল -- একাকী দুটো পেয়ারা গাছের পাশে হাফ প্যান্ট পরা জলে জুবুথুবু ছেলেটি মা বাবাকে হারিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে ।

ওর ঐ কান্না দেখে অপত্য স্নেহে বিচলিত হয়ে পড়েন । স্বামী হারা, পুত্র হারা মালতী দেবী নিয়ে এলেন ওকে আপন গৃহে । পরম আদরে নিজের নাতির মর্যাদা দিয়ে ওকে মানুষ করতে লাগলেন -- হ্যাঁ ওর ডান দিকের নিতম্বে একটা কালো জন্মদাগ আছে । নিঃসন্দেহ হন তিনি -- এই ছেলেই বিপ্লব বাবুর সন্তান । ওনার বর্ণনা অনুযায়ী স্হান,কাল, সনাক্ত করণ চিহ্নে সম্পূর্ণ মিল আছে । স্ত্রী ‌, পুত্র হারা এই ভদ্রলোকের সবটা শুনে বড় কষ্ট হয় মালতী দেবীর । কিন্তু এই ছেলে যে বিপ্লব বাবুরই সন্তান সে কথা বলা মানেই তো উড়ানকে হারাতে হবে চিরদিনের মত । এই শারীরিক এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যে উড়ান যদি না থাকে তবে উনিই বা বাঁচবেন কী করে ? দোলাচলে পড়ে যান মালতী দেবী । আর কী আশ্চর্য --এত দূরে এতদিন পরে তীর্থস্নানে ‌এসে বিপ্লব বাবু যে প্রাণের ধনকে ফিরে পাবেন  ঠিক সে ভাবেই তো মালতী দেবীকেও তার প্রাণের ধনকে হারাতে হবে চিরতরে । তবু -- তবু এই পুত্র হারা স্ত্রী হারা মানষটির জন্য বড্ড কষ্ট হতে লাগল মালতী দেবীর । এই তীর্থ স্থানে এসে এই সত্যটাকে গোপন করে যাওয়া ঘোর পাপের হবে । উড়ানও ওর বাবাকে ফিরে পাবে ।‌ ভিতরে ভিতরে বেশ কিছুক্ষণ ন্যায় অন্যায়ের দোলাচলে দুলতে দুলতে বললেন --" এ ঈশ্বরেরই ইচ্ছে । তাই আপনার সঙ্গে এ ভাবে আমাদের ‌মিলন হল । আমার এই ‌নাতির সঙ্গে আমার রক্তের সম্পর্ক নেই । ওকে আমিই সেদিন ঐ রথের মেলায় অসহায় ভাবে বৃষ্টির মধ্যে একাকী কাঁদতে দেখে আমার কাছে নিয়ে এসেছিলাম । তখন ওর বাবা মাকে দেখতে পেলাম না ।ঐ বৃষ্টির মধ্যে ওকে ফেলে যেতেও মন চাইছিল না । আপনাদের নাম ঠিকানা কিছুই ও বলতে পারছিল না । আপনার কথা শুনে আমার বিশ্বাস ও আপনারই ছেলে । "

চমকে ওঠে উড়ান --"কি? আমার নিতম্বে এ রকম দাগ তো নেই ?"

মালতী দেবী বললেন --" নিজের নিতম্ব নিজে দেখবি কী করে ? আমি তো তোকে এ ব্যাপারে কোনদিন কিছু বলি নি ।"

উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন বিপ্লব বাবু । তবে কি সত্যিই ফিরে পেলেন তাঁর হারানো সন্তানকে ! তবু নিশ্চিত হওয়ার জন্য বললেন --"ডি এন এ টেস্ট করিয়ে নেব ।"

মালতী দেবী বললেন --" আমি নিশ্চিত । আপনি আমার এই নাতিকে নিয়ে যান ।"

উড়ান চিৎকার করে ওঠে --" আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না । তুমিই আমার ঠামা ।"

বিপ্লব বাবু বললেন --" না বাবা , তোমার চিন্তা নেই । আমি অমানুষ নই । যে মানুষটি এই জরাগ্রস্ত বার্ধক্যে একেবারে একাকী অসহায় হয়ে পড়বেন জেনেও তোমাকে আমার হাতে তুলে দিতে একটুও দ্বিধা করেন নি তাঁকে আমি একা ছেড়ে দেব না । তোমাদের দু'জনকেই আমার কাছে নিয়ে যাব। ঈশ্বরের কৃপায় আজ আমার ডবল প্রাপ্তি হল। ছেলেকে যেমন পেলাম তেমনই মা হিসেবে ওনাকেও পেলাম ।"

মালতী দেবী বললেন --" না বাবা , এই বুড়িকে নিয়ে লাভ নেই । এখন আমি মৃত্যু পথের যাত্রী । সবার বোঝা । কারো কোন কাজেই আসব না । তাছাড়া বড়ির ব্যবসায়ে আমি না থাকলে চলবে কী করে ? "

--"ঠিক আছে ব্যবসাটা আমার ওখান থেকেই হবে । আজ আমার ছেলে হিসেবে যেমন উড়ানকে পেলাম , মা হিসেবে আপনাকেও পেলাম । এ সবই বাসুদেব , গঙ্গা মায়ের কৃপায় আজ আপনাদের পেয়ে নতুন জীবন পেলাম ।"