লাইব্রেরির এই ধুলোমাখা অন্ধকার ঘরটা যেন এক নীরব অতীতের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। বাতাসে মিশে আছে পুরনো কাগজ আর প্রাচীন বইপত্রের এক অদ্ভুত, ভারী সোঁদা সোঁদা গন্ধ। ঘরের প্রতিটি কোণে একরাশ অন্ধকার থিতু হয়ে জমা হয়ে আছে বইয়ের সেলফের পাশে পাশে, আর জানালায় জমে থাকা পুরু ধুলোর আস্তরণ বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে তার সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। কাঁচের অস্পষ্ট বাধা ভেদ করে সামান্যতম আলোও ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি, যেন এই ঘরের নিজস্ব এক জগৎ আছে। সে এখনও অতীতের স্মৃতিতেই নিজেকে আবদ্ধ করে রেখেছে।
একপাশে সারি সারি কাঠের তাকে অবহেলায় রাখা আছে শত শত পুরনো পুঁথিপত্র। প্রতিটি পুঁথির ওপরে জমে থাকা মোটা ধুলোর আচ্ছাদনের ওপরে অরুণ হাত বোলাতেই কুয়াশার মতো নিঃশব্দে উড়ে গেল সেগুলি। আলমারির গায়ে হাতে লেখা সংখ্যাগুলো কালের আঁচড়ে প্রায় অস্পষ্ট হয়ে গেছে; অক্ষরগুলো শুধু তাদের অস্তিত্বের শেষ চিহ্নটুকু জানান দিতে এখনও সেঁটে আছে আলমারির গায়ে। বোঝা যায়, এই পুরনো কাঠের আলমারি হারিয়ে যাওয়া কত শত অতীতের স্মৃতি আর স্বপ্নের সাক্ষ্য বহন করছে। প্রতিটি কাহিনীতে নিশ্চয়ই লুকিয়ে আছে কারুর অভিজ্ঞ কলমের খসখসানি।
ঘরের মাঝখানে রাখা একটি শ্রীহীন কাঠের টেবিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কয়েকটি খসড়া কাগজ। পাশে পড়ে আছে একটি ভোঁতা পেন্সিল আর একটি কালিহীন ফাউন্টেন পেন। অরুণ ডেস্কে জমে থাকা ধুলো সরিয়ে যখন নিজের পছন্দের 'গীতবিতান'-টার দিকে হাত বাড়াল, তার চোখে পড়ল একটি হাতলভাঙা চেয়ার। চেয়ারটির কোলের ওপর রাখা একটি রংচটা চামড়ার ব্যাগ, যা স্পর্শ করতেই তার ধুলোর স্তর নিঃশব্দে ঝরে পড়ল। অরুণ আলতো করে ব্যাগটি তুলে নিতেই তার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল একটি মলিন খাম। হয়তো এতে লেখা আছে অচেনা কারুর জবানবন্দি।
কথাটা ভেবেই সামান্য হেসে খামটি অতি সন্তর্পণে তুলে নিয়ে অরুণ যখন হলদে হয়ে যাওয়া চিঠিটা বের করে চোখের সামনে ধরল, তার চোখে এক নতুন অভিব্যক্তি ফুটে উঠল। হঠাৎ করেই তার চারপাশের ধুলোময় পরিবেশ যেন অদৃশ্য হয়ে গেল। এক অদ্ভুত শান্ত, অলৌকিক পরিবেশ তাকে ধীরে ধীরে যেন ঘিরে ধরল। যত এগোতে শুরু করল ততই অরুণ যেন বাঁধা পড়ল এক অজানা অতীতের মায়াজালে—এ এক এমন মায়া, যা ছিন্ন করার আগ্রহ তার মধ্যে এই মুহূর্তে দেখা দিল না। কৌতূহলবসতই পাশে থাকা হাতল ভাঙা চেয়ারটা টেনে নিয়ে তাতে আলগোছে বসল।
চিঠির ভাঁজে লুকিয়ে থাকা একটি কবিতা তার চোখে পড়ল:
“আজ তুমি এলে অন্য বেশে,
আমার চেনা পথের শেষে।
ভোরের আলোয় নতুন খেলা,
সাঁঝের আকাশে ভাসলো ভেলা।
তবুও এই গল্পের শুরুতেই মন দোলে,
যেন এ এক অদ্ভুত ভয় আর নীরবতার ফাঁদ।
সবকিছু জেনেও কেন জানি মন বলে,
এ শুধু প্রেম নয়,
নতুন সম্পর্কের এক ধাপ।
-ইতি নন্দিনী”
অরুণ চিঠিটা হাতে নিয়ে বসে রইল। তার হাতের কম্পন জানান দিচ্ছে এই মুহূর্তে এক অদেখা, অজানা রহস্যের সন্ধান পেয়েছে সে। আলো-আঁধারির খেলায় চিঠির প্রতিটি অক্ষর যেন এক নতুন রূপ নিচ্ছে। অরুণ চিঠিটার শেষ অংশটা চোখের সামনে মেলে ধরে আরেকবার ভালো করে দেখার চেষ্টা করল। কালি প্রায় মুছে গেছে। না... একই লেখা, ঠিকই তো পড়েছে সে। চোখ বুজে আরেকবার কল্পনা করার চেষ্টা করল, কেমন ছিল সেই সময়টা, যখন ভালোবাসা কলমের ডগায় প্রথম ছন্দ পেয়েছিল।
মাত্র কয়েকদিন হয়েছে অরুণ এই অতীতে জর্জরিত লাইব্রেরির সন্ধান পেয়েছে। তার একমাত্র আগ্রহ ছিল পুরনো পুঁথি ঘেঁটে হারিয়ে যাওয়া তথ্যগুলোকে নতুন করে পাঠকের সামনে তুলে ধরা। কিন্তু আজ তার অনুসন্ধিৎসু মন যে তাকে এমন এক গুপ্তধনের সন্ধান দেবে, তা সে স্বপ্নেও কল্পনা করেনি। হাতে থাকা মনিমুক্তার সমান চিঠিটা আর তার শেষে লেখা 'ইতি নন্দিনী'—এই দুটি শব্দ যেন তার পুরো মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে। চিঠির প্রতিটি পঙ্ক্তি তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এক অতীতের রঙ্গমঞ্চে, যেখানে সে বারবার এক নাটকের গন্ধ পাচ্ছে।
সে উঠে দাঁড়াল এবং লাইব্রেরির ভেতরে জমে থাকা ধুলোর পুরু স্তরকে উপেক্ষা করে তন্ন তন্ন করে সব নথি খুঁজতে শুরু করল। কোনো হ্যান্ডবিল বা পুরনো রসিদ—কিছুই তার চোখ এড়াল না। কিন্তু হায়, সেই একটি চিঠি ছাড়া এই বইয়ের সমুদ্রে আর কিছুই সে খুঁজে পেল না। একরকম ক্লান্ত হয়েই অরুণ চেয়ারে বসে পড়ল। ঠিক তখনই বাইরের দমকা বাতাসের এক ধাক্কায় একটা উঁচু আলমারির মাথা থেকে সশব্দে নিচে পড়ে গেল একটি ছেঁড়া-ফাটা অতীতের ডায়েরি।
অরুণ চমকে ডায়েরিটার দিকে তাকাল। মাটি থেকে ডায়েরিটা তুলে নিতেই তার মনে হলো, এক অদৃশ্য উপস্থিতি যেন তার ঠিক পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। তার আঁচলের মৃদু স্পর্শ যেন এই মুহূর্তে অনুভব করছে অরুণ। কী নরম, কী সুন্দর সেই স্পর্শ! যেন ঘন বাতাসের মাঝে সুগন্ধি ফুলের মতো এসে তার গায়ে ধাক্কা মারছে সেই শীতল স্পর্শ। সেই গন্ধে মোহিত হয়ে, বেশি কিছু না ভেবে ডায়েরির একটা পাতা খুলতেই বাইরে থেকে পিয়ন লাইব্রেরির মধ্যে প্রবেশ করে শান্তভাবে বলল, “লাইব্রেরি বন্ধ করার সময় হয়ে গেছে দাদাবাবু। আপনি আবার কাল আসবেন।”
অরুণ দ্রুত নিজের পাঞ্জাবির মধ্যে ডায়েরিটা প্রায় লুকিয়ে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। তারপর সেখান থেকে ঘুরে আবারও একবার সারা ঘরটাকে দেখে নিল। লাইব্রেরিটা তখন আরও বেশি রহস্যময় মনে হচ্ছিল। অরুণ মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, “তুমি যেই হও নন্দিনী, তোমার মনের কথা আমি বুঝেই ছাড়ব।”
একরকম প্রতিজ্ঞা নিয়েই সে লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে গেল, তার হাতে শুধু একটি ডায়েরি নয়, ছিল এক অসমাপ্ত গল্পের প্রথম অধ্যায়।
সন্ধেটা আজকাল যেন একটু তাড়াতাড়িই নেমে আসে শহরের বুকে। নিজের বাড়ির খোলা বারান্দায় বসে একমনে ডায়েরির মলাটের ওপরে আঙুল বুলিয়ে যাচ্ছিল অরুণ। তার চোখ নিচের শহরের ব্যস্ততম রাস্তার দিকে। সেখানে গাড়ির ভিড়ের মাঝে পায়ে হাঁটা মানুষের ঢল।
অনেকক্ষণ থেকেই একটা মিষ্টি, ভেজা বাতাস তার শরীরকে ছুঁয়ে যাচ্ছিল। সেই বাতাসের স্পর্শে মাঝে মাঝেই দুলে উঠছে জানালার পর্দাটা। বাইরে থেকে ভেসে আসা গাড়ির শব্দ যেন কানেই ঢুকছিল না। এক অন্যরকমের চিন্তা তার মস্তিষ্ককে আবৃত করে রেখেছে।
ডায়েরির একটা পাতায় লেখা দুটি লাইন তাকে এক অন্য জগতে নিয়ে গেছে এই মুহূর্তে— "নিয়তি যদি-বা করে বহুদূর, তবুও থাকব কাছাকাছি।"
অরুণের চোখ সামনের দেওয়ালের দিকে নিবদ্ধ হল। তার মনে তখন শুধুই এক শূন্য ক্যানভাসে ছবি আঁকার খেলা চলছিল। প্রতিটি শব্দ যেন এক সবুজ প্রান্তরের ছবি আঁকছিল, যেখানে নিয়তির পরিহাসে একাকী একজন দিন গুনছে প্রিয়জনের অপেক্ষায়। কিন্তু সেই অপেক্ষা কি শেষ হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই সে নিজেকে আবিষ্কার করল এক গভীর রহস্যের কেন্দ্রে।
ডায়েরিটা খোলা অবস্থায় টেবিলের উপর রেখে অরুণ যখন এই দুটি লাইনের গভীরতা অনুভব করছিল, ঠিক তখনই ঘরের বাতাসে এক অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ করল। বারান্দার দিক থেকে সেই একটু আগের এলোমেলো বাতাসটা এসে যেন তার সূক্ষ্ম আঙুলের স্পর্শে ডায়েরির পাতাগুলো তার অজান্তেই উল্টে দিল। ঘাড় না ঘুরিয়ে আড়চোখে তাকালে তার মনে হল বারান্দার ওপাশ থেকে দুটি চোখ এখন তাকেই দেখে চলেছে। কোনো এক অদৃশ্য অবয়বের শরীরের উষ্ণতা সে এখন যেন নিজের খুব কাছে অনুভব করছে। তার ঘন ঘন নিঃশ্বাসের শব্দ যেন কানে ভেসে আসছে তার। এই নির্জন বারান্দায় সেই অদৃশ্য অস্তিত্বের উপস্থিতিতে অরুণের হৃদয় কেঁপে উঠল।
ভয়ে নয়, বরং এক গভীর কৌতূহলে তার চোখ ডায়েরির খোলা অংশে গেল। সেখানে একটি খবরের কাগজের ছোট্ট পাতা খুব সযত্নে আঠা দিয়ে সাঁটানো। পাশে রাখা পেন্সিলটা হাতে নিয়ে সে আবছা হয়ে যাওয়া শব্দগুলোর ওপর দাগ কাটল, আর সেটিকে আলোর খুব কাছে ধরে পড়ল। "লেখিকা নন্দিনী গাঙ্গুলীর সম্বন্ধে……"
ছোট্ট খবরটি যেন এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। লেখা ছিল, ‘আজ তাঁর বই প্রকাশ পেয়েছে’।
অরুণ অবাক হয়ে গেল। তার মনের ওপর থেকে একটা পর্দা যেন নিমেষেই সরে গেল। পরের কয়েকটি পাতাও উল্টে দেখল সে। প্রতিটি পাতাতেই নন্দিনীর বই, তার সাফল্যের খবর। ডায়েরির পাতা থেকে চোখ তুলে নিজের মনে ভাববার একটা ব্যর্থ চেষ্টা করতেই মনে এলো, তার মানে নন্দিনী ছিলেন একজন নামকরা লেখিকা। আর এই কারণেই তাঁর এই ডায়েরি আর ওই চিঠি লাইব্রেরির ওই ভাঙা টেবিলে পাওয়া গিয়েছিল? স্বাভাবিক, আর কোথায়ই বা থাকত সেটা! তবে ভালো পাঠক হওয়ার সুবাদে বহু পুরনো লেখক বা লেখিকাকে সে চিনলেও এরকম কোনো নাম তো আজ অবধি শোনেনি সে। সে আরও ভালোভাবে খুঁটিয়ে পড়ার জন্যও ডায়েরির সেই পাতায় চোখ ফেলতেই তার চোখ আটকে গেল আরেকটি নামে—‘অভীক চৌধুরী, চৌধুরী প্রকাশনীর কর্ণধার’। এই তো পেয়েছে সে। নিজেকে হঠাৎ করেই কেমন ভাগ্যবান মনে হল অরুণের। এভাবে হঠাৎ করেই একের পর এক ক্লু পেয়ে যাবে তা যেন সে স্বপ্নেও ভাবেনি।
চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল এবং দেরি না করে অরুণ দ্রুত ল্যাপটপের কাছে ছুটে গেল। নিজের চেষ্টায় ইন্টারনেট সার্চ করল বেশ কিছুক্ষণ। কিন্তু হায়, কোথায় এই চৌধুরী প্রকাশনী? মনের ভিতরে একটা গভীর চিন্তা আবার ডানা মেলল। তবে কি এই প্রকাশনীর আর কোনো অস্তিত্ব নেই? তবে কি অভীক চৌধুরী বেঁচে নেই? মাথা নেড়ে নিজেকেই সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করল সে। ডায়েরির পাতায় যে তারিখ দেওয়া আছে সেই অনুযায়ী এটা ছিল ১৯৫০ সালের ঘটনা। তবে তারই মাঝে কতই না প্রকাশনী এসেছে আবার কালের গভিরে মিলিয়েও গেছে ছায়ার মতো। তাদের কি এভাবে ইতিহাস ঘেটে বের করে আনা সম্ভব হবে?
কথাটা ভাবতে ভাবতে আর স্ক্রল করতে করতেই ল্যাপটপে একটা বিশেষ খবরে চোখ পড়ল তার। সেখানেই মাউসের পয়েন্টারটা থমকে দাঁড়াল। বইয়ের নাম ‘কালের মায়া’, প্রকাশক অলকেশ চৌধুরী, প্রকাশনী অলক প্রকাশন, কিন্তু ব্র্যাকেটে ছোট্ট করে লেখা “চৌধুরী প্রকাশন”। বুকের ভিতরটা স্তব্ধ হয়ে গেল যেন অরুণের। এই তো... এই তো সেই গুপ্তধন যাকে এতক্ষণ ধরে ল্যাপটপের স্ক্রিনে খুঁজে চলেছে সে। প্রচণ্ড এক বুকফাটা আনন্দে সে অদৃশ্য কারুর উদ্দেশ্যে চিৎকার করে উঠল, “পেয়েছি, আমি পেয়েছি! নন্দিনী, তোমার পরিচয়ের সাথে পরিচিত হবার একটা সুতো আমি পেয়েছি। এবারে আর কোনো আবরন থাকবে না নন্দিনী, দেখে নিও আমি ঠিক তোমাকে খুঁজে পাবো, পাবই।” কথাটা বলে দ্রুত পায়ে সে এগিয়ে গেল নিজের ঘরের এককোণে রাখা টেলিফোনের দিকে।
কম্পিত হাতে টেলিফোনের নম্বর চাপতেই বুকের ভিতরটা ঢিপঢিপ করতে শুরু করল উত্তেজনায়। কয়েকবার রিং হবার পর অপর প্রান্ত থেকে একটি গম্ভীর পুরুষ কণ্ঠস্বর ভেসে এল, যা অরুণকে প্রায় নাড়া দিয়ে গেল, যেন এতক্ষণ ধরে সে এই একটি শব্দের জন্যই অপেক্ষা করছিল। ওপাশ থেকে ভেসে এল সেটি, "হ্যালো।"
বিকেলে কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ার ব্যস্ত কোলাহল পেরিয়ে মহাত্মা গান্ধী রোড ধরে একটু এগোতেই ট্রামের ঘণ্টা আর পুরনো কলকাতার চেনা গন্ধটা যেন আরও জাঁকিয়ে বসে শ্বাসনালীর গভিরে। মোবাইলের ম্যাপ বলে দিচ্ছে, বড় রাস্তা ছেড়ে সামান্য বাঁ দিকে পা বাড়ালেই নিজের গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে অরুণ। সেইমতো পা বাড়াতেই শহরের চেহারাটা হঠাৎ করে যেন কয়েক দশক পিছিয়ে গেল। এখানকার অলিগলিগুলো বেশি চওড়া নয়, দুই পাশের দেওয়ালের গায়ে গায়ে ঠেকানো পুরোনো দালানগুলোর বারান্দা একে অপরকে যেন পরম মমতায় ছুঁতে চায়। বিকেলের নিভে আসা আলো যেন এই গলিগুলোর অন্দরে এসে থমকে যেতে চাইছে, চিরকালই এখানে এক অদ্ভুত স্যাঁতসেঁতে ছায়া মাখানো অন্ধকারের বাস। আলো যেন নিজের পথ বদলে অন্য দিকে ছুটে চলেছে।
রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িগুলোর গায়ে ব্রিটিশ আমলের পলেস্তারা খসে পড়েছে বহু আগেই। কোনো কোনো বাড়ির কার্নিশ থেকে উঁকি দিচ্ছে বুনো বটগাছের শিকড়। এই প্রাচীন গলির নাম—“শঙ্কর ঘোষ লেন”। গলিটার গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িগুলোর কোনোটার জানলা বন্ধ, কোনোটার বা কপাট ভাঙা। বাড়িগুলোর গায়ে যেন জমে আছে যুগের পর যুগ ধরে ইতিহাসের অমোঘ কোলাহল।
ঠিক এইরকমই একটা ভিন্টেজ ও রহস্যঘেরা পরিবেশে—যেখানে ডাঁই করা পুরনো বই আর স্যাঁতসেঁতে দেওয়ালের গন্ধ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে—অরুণ এসে দাঁড়াল সেই অন্ধকার গলির সামনে, যেখানে একটি পুরনো বাড়ির সামনে তেলচিটে ধরা ভগ্নপ্রায় সাইনবোর্ডে লেখা আছে, "অলক প্রকাশনী" ব্র্যাকেটে সেই পুরনো দিনের স্মৃতি (চৌধুরী প্রকাশনী)।
একটি টিমটিমে হলদেটে আলো মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছে, যেন জীবনের শেষ লড়াইটুকু লড়া বাকি তার। গত কয়েকদিন ধরে সে নন্দিনীর উপস্থিতি বেশ ভালোভাবে তার চারপাশে অনুভব করছে, যেন নন্দিনীর আত্মা তাকে তাড়া করে ফিরছে এই রহস্যের সমাধান করার জন্য। একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে এগিয়ে গেল। নোনা ধরা সিঁড়িটা বেয়ে কিছুটা ওপরে উঠতেই একটি খোলা দরজা দেখতে পেল। জায়গাটা বেশ নিস্তব্ধ, যেন সময়ের স্রোত এখানে এসে স্তব্ধ হয়ে গেছে।
অরুণ ঘরে প্রবেশ করতেই একটি পুরুষ কণ্ঠস্বর বলে উঠল, “কাকে চাই?”
অরুণ সামনে তাকিয়ে দেখল, একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তি একটি চেয়ারে বসে তাঁর পুরু চশমার ওপরের অংশ দিয়ে তাকেই দেখছেন।
সে একটু ইতস্তত করে বলল, “আমি আসলে নন্দিনী গাঙ্গুলীর সম্বন্ধে কিছু জানতে এসেছি।”
নন্দিনী গাঙ্গুলীর নাম শুনেই ব্যক্তিটির কপালে ভাঁজ পড়ল। নাকের ডগায় ঝুলে থাকা চশমাটা খুলে অরুণের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন। তারপর বললেন, “নন্দিনী গাঙ্গুলী! সে তো এক লুপ্তপ্রায় অধ্যায়। তা কী জানতে চান আপনি?”
এতদিন পর এই নামটা বোধহয় শোনার আশা করেননি তিনি। মুখটা সামান্য ফাঁক করে কিছু বলতেই যাচ্ছিলেন অরুণকে। এই নামটি যে এখন আর তাদের সাথে যুক্ত নয়, অরুণের দিকে তাকিয়ে বোধহয় সেই মিথ্যেটাই বলতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই পাশের ঘর থেকে একজন বৃদ্ধ তার ঝুঁকে পড়া শরীর নিয়ে এসে দাঁড়ালেন। আগের দিন এনার সাথেই সম্ভবত টেলিফোনে কথা হয়েছিল তার। বেশ কিছুক্ষণ অরুণের মুখের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে তিনি বললেন,
“নন্দিনী গাঙ্গুলী! একটা হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়। আজ থেকে বহু বছর আগে এই নাম নাকি প্রায়ই শোনা যেত। কিন্তু হঠাৎ কী হয়ে গেল, তা কেউ জানে না। অভিক চৌধুরীর মৃত্যুর আগেই একদিন এই চিঠিখানি আমার হাতে এসেছিল, কিন্তু সেদিন আমি এই চিঠি তাঁকে প্রাণভরে দিতে পারিনি। যাই হোক, তুমি যে আসবে, তা বোধহয় নন্দিনী কোনভাবে জানত। সম্ভবত, এই চিঠিটা তোমারই অপেক্ষায় দিন গুনেছে এতদিন।”
কথাটা শুনে অরুণের কপালে ভাঁজ পড়ল। সে বলল, “এই কথার অর্থ?”
বৃদ্ধ একটি মলিন হাসি হেসে বললেন, “অর্থটা বোঝানো যে বড্ড কঠিন হে! সে আমার পরিবারের এক কালো অধ্যায়। তার চেয়ে বরং তুমি এই চিঠিটা নিয়ে যাও, সম্ভবত এতেই সব রহস্যের সমাধান পাবে তুমি।”
কথাটা বলেই বৃদ্ধ তার দিকে একটি বহু পুরনো খাম এগিয়ে দিলেন এবং বললেন, “এবার আমার দায়িত্ব থেকে মুক্তি, বুঝলে।”
কথাটা বলেই আবার নিজের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন। অরুণ নির্বাক হয়ে সেই খামটি হাতে নিল, তার মনে তখন শুধু একটিই চিন্তা—এই চিঠিতে কী এমন আছে, যা নন্দিনীর রহস্যের জট খুলতে পারে?
বৃদ্ধের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে তাঁকে অরুণ শেষ প্রশ্ন করল, “আচ্ছা আপনার নামটা….”
বৃদ্ধ চলে যেতে গিয়েও একবার থমকে দাঁড়ালেন, তার দিকে মুখ না ফিরিয়ে বললেন, “আমার নাম অলকেশ চৌধুরী। অভিক চৌধুরীর একমাত্র সন্তান।”
কলকাতার বুকে এমন কিছু অলিগলি আছে, যেগুলোর বয়স বহু শতাব্দী, অথচ গায়ে জড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত রহস্যময় নিস্তব্ধতা। বড় রাস্তার চঞ্চলতা সেখানে এসে পৌঁছায় না; বরং শতাব্দীপ্রাচীন দালানকোঠা আর ইট-কাঠের প্রাচীন ছায়া সেই গলিগুলোকে করে তোলে আরও জমাট, আরও থমথমে।
অরুণের পা দুটো যেন নিজে থেকেই তাকে টেনে নিয়ে আসছিল এই অচেনা ঠিকানার দিকে। গত কয়েকটা দিন তার মনের ভেতর যে ঝড় বয়ে গেছে, তার কোনো শান্ত রূপ ছিল না। পকেটে গোঁজা সেই রহস্যময় খামখানা যেন একটা জীবন্ত সত্তার মতো তার বুক পকেটে জ্বলজ্বল করছিল। খামের ভিতরে সেই অদ্ভুত হাতের লেখা—যা বারবার তার সমস্ত যুক্তিবুদ্ধিকে গুলিয়ে দিচ্ছিল।
কত দূর থেকে হেঁটে সে এসে পৌঁছেছে, তার কোনো হিসাব ছিল না। চারপাশের পুরোনো বাড়িগুলোর বন্ধ দরজা-জানলাগুলো যেন শুধুই দর্শকের মতো তার দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে কোনো এক পুরনো দিনের গন্ধে, যার মধ্যে মিশে আছে স্যাঁতসেঁতে দেওয়াল আর বহুদিনের পুরোনো অব্যবহৃত কাপড়ের বাস। কলতলার ঝনঝনানি, বাসনের খনখন বা চায়ের দোকানে সদ্য জ্বালানো উনুনের গন্ধ এখানে বেশ তীব্র।
মনের মধ্যে একটা তীব্র কৌতূহলকে আগুনের তাপ দিতে দিতে ঠিক তখনই, সমস্ত চিন্তা আর দ্বিধাকে পেছনে ফেলে, অরুণ এসে দাঁড়াল একটি অন্ধকার গলির সামনে।
সেদিনকার সেই রহস্যময় খামে লেখা ছিল মাত্র দুটি লাইন আর একটি ঠিকানা: "তুমি খুঁজিছ যাহাকে, এখানে পাইবে তাহাকে।"
কয়েকদিন ধরে এই শব্দগুলো যেন শূন্যে ভেসে তার সঙ্গে হেঁয়ালি করছিল। কথাটা ভাবতেই এক দমকা বাতাস তার হাতে এক মৃদু স্পর্শ দিয়ে গেল, যেন নন্দিনী নিজেই তার হাত ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। গলিপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে সে এক পুরনো একতলা বাড়ির সামনে এসে থামল। বাড়ির দরজায় লেখা একটি নাম—'স্বর্ণালী চ্যাটার্জি'।
অরুণের মনে বিস্ময় জাগল। সে মনে মনে ভাবল, "এখানে কেন এসেছি আমি? কে এই স্বর্ণালী চ্যাটার্জি?"
সংশয় কাটিয়ে সে দরজায় মৃদু টোকা দিল। দরজা খুলে একজন বৃদ্ধাকে বেরিয়ে আসতে দেখে সে থমকে গেল। বয়সের ভারে তার শরীর ঝুঁকে পড়েছে, মুখে অজস্র বলিরেখা। ঘরের ভেতর থেকে ভেসে আসছে কিশোর কুমারের কণ্ঠে এক পুরোনো গান, আর একটি হলুদ আলো পুরো ঘরটিকে এক নস্টালজিক আবহে ভরিয়ে রেখেছে। বৃদ্ধাকে তার দিকে অবাক নেত্রে তাকিয়ে থাকতে দেখে অরুণ কী বলবে ভেবে পেল না। ইতস্তত করে বলল,
"নমস্কার, অসময়ে বিরক্ত করার জন্য আমি দুঃখিত, কিন্তু আমি আসলে নিজেই জানি না এখানে কেন এসেছি। শুধু এইটুকু জানি, এই ডায়েরিটা আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।"
ডায়েরিটা বৃদ্ধার দিকে এগিয়ে দিতেই তিনি সেটি হাতে নিলেন। পাতা উল্টে দেখেই তার চোখের দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত পরিবর্তন এল। তিনি অরুণকে ভেতরে আসতে আমন্ত্রণ জানালেন, তারপর জানতে চাইলেন, “এ ডায়েরি তুমি পেলে কোথা থেকে?”
অরুণ তাকে লাইব্রেরি থেকে শুরু করে সব ঘটনা খুলে বলল। সবকিছু শুনে বৃদ্ধা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “তুমি কি জানো নন্দিনী গাঙ্গুলী সম্পর্কে আমার কে হন?”
অরুণ কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকাল। বৃদ্ধা বললেন, "উনি আমার মা।"
এই কথায় অরুণ যেন চমকে উঠল। কিন্তু তার অবাক হওয়া তখনও বাকি ছিল। অরুণ অস্থির চিত্তে বৃদ্ধাকে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা এই নন্দিনীদেবীর প্রভাব আমার ওপর এত কেন?”
একটু হেসে বৃদ্ধা বললেন, “সে কথা আমিও তোমাকে বলতে পারব না। আমার মা কোনো এক অজ্ঞাত কারণে লেখা ছেড়ে স্কুলের চাকরি নিয়ে উত্তরবঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। আমি সেখানেই বড় হই। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে আমি আবার আমাদের কলকাতার এই বাড়িতে ফিরে আসি, কিন্তু আমার মা আর ফেরেননি। তিনি সেখানেই দেহত্যাগ করেন। এই আমার জানা কাহিনি।”
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে অরুণ উঠে দাঁড়াল এবং বাইরের দরজার দিকে এগিয়ে গেল। হঠাৎ একটা কথা মনে পড়তেই সে পিছন ফিরল। “আপনার মায়ের একটা ছবি দেখতে পারি? আমি তাঁকে একবার দেখতে চাই।”
বৃদ্ধা একটি পুরনো দেরাজ থেকে একটি অ্যালবাম বের করে তার দিকে তুলে ধরলেন। অ্যালবামের পাতা উল্টাতে গিয়ে যে ছবিটিতে তার প্রথম নজর পড়ল, তা দেখে সে বাক্যহারা হয়ে গেল। কম্পমান হাতে অ্যালবামে নন্দিনী গাঙ্গুলীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে আঙুল তুলে অরুণ বলল, “ই-ইনি কে?”
সামান্য হেসে বৃদ্ধা বললেন, “বুঝেছি, আমার বয়স হয়েছে বলে তুমি আমাকে চিনতে পারছ না। ওটা আমিই। আমি তখন স্বর্ণালী গাঙ্গুলী ছিলাম। সবাই বলত আমাকে নাকি আমার বাবা অভীক চৌধুরীর মতো দেখতে ছিল। যদিও আমি তাঁকে কোনোদিনও দেখিনি। তবে শুনেছিলাম কলকাতায় ওনার আরেক পরিবার আছে। তিনি আমার জন্মের পূর্বেই আমাদের পরিত্যাগ করেছিলেন।” তারপর সামান্য হেসে আবার বললেন, “তবে তোমার এভাবে অবাক হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তোমাকে প্রথম দেখে আমিও একরকম চমকেই উঠেছিলাম।”
একটা ঘোরের মধ্যে অরুণ ঘর থেকে বেরিয়ে এল। অন্ধকার গলিটা যেন আজ তার হৃদয়ের অতল গভীরের মতো আরও বেশি অন্ধকার লাগছে। নন্দিনীর অসম্পূর্ণ প্রেমকাহিনি খুঁজতে গিয়ে সে কেবল একটি হারানো গল্প নয়, বরং নিজেরই পূর্বজন্মের এক বিস্মৃত অধ্যায় উন্মোচন করেছে। নন্দিনী ভালোবাসা খুঁজেছিল অভীকের মধ্যে, স্বরনালী তাদেরই সন্তান আর অরুণ তার নিজের মধ্যে আবিষ্কার করেছে সেই হারিয়ে যাওয়া অভীককে, যার জন্য নন্দিনীর আত্মা এতদিন অপেক্ষা করছিল।
এ সে কী দেখল আজ! যুবতী স্বর্ণালীর মুখের মাঝে নিজের মুখের প্রতিবিম্ব দেখে সে বাকরুদ্ধ। অভীক আর কেউ নয়, অভীক তারই পুনর্জন্ম! আর সেই কারণেই কি সেদিন অলক চৌধুরী তাঁকে দেখে ওভাবে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিলেন? নন্দিনী জানাতে চেয়েছিল তাদের সন্তানের ঠিকানা। কিন্তু অলকেশ চৌধুরি তা হতে দেননি। তবে কি আজ মারা যাওয়ার এত বছর পর নন্দিনী খুঁজে পেয়েছে তার হারানো প্রেমিককে, যাকে সে তার সন্তানের খোঁজ দিয়ে গেল?
এই মুহূর্তে তার মাথায় যেন শত শত ইলেকট্রিক শক লাগছে। সমস্ত শরীরটা কেমন অবশ হয়ে আসছে তার। নিজের মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষ দিয়ে সে এই কঠিন সত্যকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করছে। এতদিন ধরে যার হারানো ভালোবাসা খুঁজেছে সে, সে আসলে তার নিজেরই পূর্বজন্মের ভালোবাসা।
ঠিক তখনই এক এলোমেলো বাতাস তার সারা শরীর ছুঁয়ে গেল, যেন অদৃশ্য কেউ এইমাত্র আলিঙ্গনের আলতো ছোঁয়া দিয়ে গেল তাকে। আর ফিসফিস করে তার কানে বলে গেল, "বহু বছর ধরে তোমারেই যে খুঁজেছি হে প্রিয়।"
তার মানে নন্দিনী এত বছর ধরে তার অপেক্ষা করছিল স্বর্ণালীর সত্য তুলে ধরার জন্য? মৃত্যুর পূর্বে লেখা ওই চিঠি সে সযত্নে তুলে দিয়েছিল কোনো এক বিশ্বস্ত বন্ধুর হাতে, যে আসলে ছিল তাঁরই প্রেমিকের সন্তান। তার ভালোবাসার মানুষটি ফিরে আসবে বলে এত বছর ধরে অপেক্ষায় ছিল সে?
এখন অরুণের কাছে পরিষ্কার হচ্ছে সবটা। কেন নন্দিনীর ভালোবাসার প্রভাব তার ওপর ছিল, কারণ অভীকের মুখের সাথে তার মুখের এত মিল। এসবই যেন তার কাছে এক নিমেষে পরিষ্কার হয়ে গেল। আজ এই জন্মান্তরের খেলায় নন্দিনী তার ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে। তাই অদৃশ্য নন্দিনীকে আলিঙ্গনে বেঁধে তার অনুসন্ধানের শেষে কবিতার দুটি পঙক্তি আজ সে নিজেই লিখল:
"প্রেম এলো এক অন্য বাঁকে, হৃদয় বাঁধল অচেনা ডাকে।"
মন্তব্য (০)
লগ-ইন করুন মন্তব্য করতে।