আমার পুরনো সাইকেলের বেলটা

আজও বাজে না ঠিক ভাবে,

অথচ তুমি দিব্যি চড়তে তাতে

কোনো এক অলস পড়ন্ত বিকেলে।

আমার ছেঁড়া পকেটে

থাকত শুধু দু-চার আনা,

তবুও আমাদের সেই ছোট গাঁয়ে

সুখের ছিল না কোনো সীমানা।

দুজনে হাতে হাত ধরে

কেটে যেত সারা বেলা;

ধুলোবালিমাখা চেনা পথে,

কত হাসি, কত গল্পে মেতে

ভেসে যেতাম কল্পনার রথে।

ছিল না কোনো দামি উপহার,

ছিল না কোনো কৃত্রিম চাওয়া;

আমাদের মাঝে জড়িয়ে ছিল শুধু

একটুকরো দখিন হাওয়া।

ছিল না সময় অল্প সেদিন,

ঘড়ির কাঁটাও চলত ধীর পায়ে;

আমরা বুনেছিলাম রূপকথা এক,

আমাদের এই ছোট গাঁয়ে।

তোমার কোলে রেখে মাথা

আকাশের পানে চেয়ে থাকা,

মেঘেদের দলে খুঁজে নিতাম যেন

তোমার আমার প্রেমের ছবি আঁকা।

ভুলে যেতাম সকল মনের ব্যথা

তোমার ওই চঞ্চলা চোখের হাসিতে,

সব হারানোর ক্লান্তিও মুছে যেত

তোমার ভালোবাসার মিষ্টি বাঁশিতে।

তখন জীবন সহজ ছিল—

কোনো পিছুটান বা জটিলতা ছাড়া,

আজও মনের মণিকোঠায় স্মৃতিরা

হয়ে আছে ধ্রুবতারা।

দিনের শেষে যখন একলা বসি,

অতীতের পাতাগুলো উল্টে যাই;

সেই সাইকেল আর তোমাকে

স্মৃতির পাতায় খুঁজে পাই।

সময়ের স্রোতে বদলেছে অনেক কিছু,

হারিয়ে গেছে সেই দিনগুলো অবহেলায়;

তবু আমার মনের ক্যানভাসে তুমি

আজও অমর, ঠিক আগেরই মতন নিরালায়।