ঘড়ির কাঁটা রাত বারোটা ছুঁতে না ছুঁতেই তার হোয়াটস্‌অ্যাপে বার্তা পৌঁছে গেল –

“শুভ জন্মদিন।খুব ভাল থাকিস,সুস্থ থাকিস, আনন্দে থাকিস।

মন দিয়ে পড়াশোনা করিস,তবে বেশি চাপ নিস না। মনের যত্ন নিস,

শুভাকাঙ্ক্ষীরা সুখ,দুঃখ সব সময় তোর পাশে থাকবে, শুধু কেরিয়ার দেখে নয়।”

আঠেরো ঘন্টা কেটে গেল, হোয়াটস্‌অ্যাপের ধূসর ডবল টিকটা

আকাশনীল হয়নি।ছটফট করছি কাটা ছাগলের মতো।

শেষে ছোট্ট জবাব, “থ্যাঙ্কস্‌।”

“কি রে, পরীক্ষা চলছে?” “হ্যাঁ, কোর্সওয়ার্কের এন্ড সেমেস্টার।”

কি যে আকাশপাতাল ভাবি! ছেলেটা পড়াশোনা অন্ত প্রাণ,

বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রিসার্চ স্কলার।

“আরে সরি,সরি,খুব ভাল পরীক্ষা হবে।”

সাথে জুড়ে দিলাম সরস্বতী ঠাকুরের ছবি।

গবেষক জীবনের মাঝামাঝি ধাপে এসে সে বলল, “কে এসব সিরিয়াসলি নেয়?

তোর সাথে কথা বলতে গিয়ে কেরিয়ারে ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।”

খবর পেলাম, তার মন জুড়ে তখন অবাঙালি ব্যবসায়ী পরিবারের রাজকন্যা।

তিন দিন বাদে আমার গবেষণার প্রথম বছরে কোর্সওয়ার্কের পরীক্ষা।

পরীক্ষক হাতে পেলেন নানা জায়গায় জল থেবড়ে যাওয়া সাদা পাতা।

ঠিক আমার মনের খাতার মতো।