"ওম জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী।
দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমহস্ত্তুতে।। "
__নবদুর্গা স্তোত্র
ঋষি অরবিন্দ নবদুর্গার মধ্যে ঐশ্বরিক শক্তির প্রকাশ দেখে বলেছেন," দুর্গা হলেন সেই শক্তি যিনি জগৎকে ধারণ করে আছেন।" আবার স্বামী বিবেকানন্দ নবদুর্গার পূজা ও নারীশক্তির গুরুত্বকে চিহ্নিত করে বলেছেন," নারীর মধ্যে দেবীরূপে পূজা করো।"
যুগে যুগে রূপ বদলেছেন মা দুর্গা।রাজস্থানের নাগোর অঞ্চলে প্রাপ্ত দুর্গার প্রথম মূর্তিটি মহিষমর্দিনী ও অস্ত্রবিহীনা। বাংলা বা উত্তর ভারতে দেবী অবশ্য সিংহ বাহিনী।তবে উত্তর ভারতে বাহনরূপে ব্যাঘ্রের সন্ধানও প্রাপ্ত। বাঙালিদের দুর্গা দশভূজা হলেও দ্বিভূজা, চতুর্ভুজা, অষ্টভূজা,দ্বাদশ ভূজা, ষোড়শ ভুজা, অষ্টাদশ ভুজা, এমনকি ছত্রিশ হাত, কিম্বা হাজার হাতের দুর্গার কথাও জানা যায়।দার্শনিকদের মতে, দুর্গার কেবল দুটিমাত্র হাত, আর অন্যগুলি রূপক। ভারতে প্রথম শতাব্দীতে কণিষ্ক ও হুবিস্কের সমসাময়িক মুদ্রায় প্রাপ্ত সিংহবাহিনী মূর্তি। এছাড়া নানা মুনির রয়েছে আরও নানান মত।
'মহাভারত ' হতে জ্ঞাত, ব্রহ্মার দক্ষিণ অঙ্গ হতে মনু এবং বাম অঙ্গ হতে মনুর স্ত্রী শতরূপার জন্ম। এঁদের তিন কন্যা _ আকুতি, দেবাহুতি ও প্রসূতি। দক্ষ ও প্রসূতির-ই এক কন্যা সতী। দক্ষ মহামায়াকে কন্যারূপে পেতে তপস্যা করলে তপস্যায় সন্তুষ্ট মহামায়া বর প্রার্থনার কথা জানতে চাইলে দক্ষ বললেন, ' আমার কন্যা হয়ে জন্মে শিবের স্ত্রী হন আপনি।' মহামায়া এই বরদানের সঙ্গে বলেন আরেকটি কথা, 'আমার প্রতি কখনও অন্যায় ব্যবহার করলে আমি দেহত্যাগ করব।' সতী যুবতী হলে ব্রহ্মা ও বিষ্ণু শিবের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, 'মহারাজ আপনি সতীকে বিবাহ করুন। আপনার বিবাহ না হলে তো সৃষ্টিকর্ম ব্যাহত হবে।' যথারীতি বিয়ে হল শিব ও সতীর। কিন্তু জামাতার মনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের অভাব লক্ষ্য করে মনে মনে বিরক্ত হলেন সতীর পিতা অর্থাৎ প্রজাপতি ব্রহ্মার মানসপুত্র দক্ষ।
অতঃপর দক্ষ আয়োজিত এক মহাযজ্ঞে আমন্ত্রিত হলেন শিব ও সতী ভিন্ন সকলেই।শিব সম্মতি না দেওয়ায় সতী রাগবশতঃ কালী,তারা,রাজরাজেশ্বরী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলামুখী, মাতঙ্গী ও মহালক্ষ্মী _ এই দশ মূর্তিতে আবির্ভূত হয়ে বিভ্রান্ত করে তুললেন পতিকে। অগত্যা শিব সম্মতি দিলেন। মহাযজ্ঞে বিনা আমন্ত্রণ সত্ত্বেও সতী আপ্যায়িত হন সকলের দ্বারা; অথচ পিতা দক্ষ শিবের নিন্দা করে চলেছেন জনে জনে __ পূর্বোক্ত প্রতিশ্রুতিসাপেক্ষে দেহত্যাগ করলেন সতী।সংবাদ শ্রবণে সভায় উপস্থিত শিব জটা ছিন্ন করে বীরভদ্রকে নির্গত করলেন; বীরভদ্র শিবানুচরদের নিয়ে ধ্বংস করলেন দক্ষযজ্ঞস্থল। যজ্ঞের অনলে আহুতি হল দক্ষের মস্তকের।
দক্ষের মৃত্যু সংবাদে ত্রস্ত ব্রহ্মা দেবগণসহ উপস্থিত হলেন কৈলাসে। শিবের নিকট নিবেদন করলেন, 'ইনি আমার মানস পুত্র, দয়া করে একে বাঁচিয়ে দিন।' প্রত্যুত্তরে শিব বললেন, ' দক্ষের মাথা তো পুড়ে ছাই। একটি ছাগলের মুন্ড জুড়ে দেওয়া যেতে পারে।' শিবের কথামত কাজ করলেন ব্রহ্মা। দক্ষ প্রাণ পেয়ে শুরু করলেন মহাদেবের স্তব।
হিন্দু ধর্মমতে, চৈত্র মাসের নবরাত্রিতে কিম্বা মহালয়ায় পিতৃপুরুষের তর্পণের পরদিন হতে নবপত্রিকায় সংযুক্ত কলাগাছ, কালকচু গাছ, হরিদ্রা গাছ, জয়ন্তী ডাল, বেল ডাল, ডালিম ডাল, অশোক ডাল, মানকচু গাছ আর ধানের ছড়ার উপস্থিতিতে শুক্লা নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন চলে নবরাত্রির পুজো।
নবরাত্রিতে দেবী পার্বতীর দুর্গাপুজোয় আশ্রিত ও অনুসৃত হয় অত্যন্ত উচ্চমার্গের সাধনক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত যোগসাধনার প্রক্রিয়া। এতে মনুষ্যশরীরে অবস্থিত বিশেষ কয়েকটি চক্রে মনঃসংযোগ দ্বারা সম্পাদিত হয় পূজারী ও ভক্তের নবদুর্গা সাধনা।
শরৎকালে সূর্যের দক্ষিণায়ন ও দেবতাদের রাত্রি অর্থাৎ নিদ্রাকাল বিধায় কোনও দেবদেবীকে পূজাপূর্বক আশীর্বাদ লাভের ক্ষেত্রে তাঁকে জাগরিত করতে হয়; এটিই 'বোধন '। কৃত্তিবাসী রামায়ণে শরৎকালে দশরথ নন্দন শ্রীরামচন্দ্র রাবণ বধার্থে এসময়ে জাগরিত করেছিলেন আদ্যাশক্তিকে। তাই মাতৃপূজার এই বোধন 'অকালবোধন ' নামে আখ্যায়িত।
বৃহদ্ধর্ম পুরাণে অবশ্য এই বোধনের সিংহভাগ কৃতিত্ব বর্তেছে ব্রহ্মার উপরে। সেখানে কুম্ভকর্ণের নিদ্রাভঙ্গের পর রামচন্দ্রের অমঙ্গল আশঙ্কায় দেবতারা শঙ্কিত হলে দুর্গাপূজা ব্যতীত কোনও উপায়ান্তর না থাকায় ব্রহ্মা স্বয়ং দেবীর বোধন ও যজমানিতে হলেন সম্মত।স্তবের পর কুমারীবেশী দেবী ব্রহ্মাকে জানালেন বিল্ববৃক্ষমূলে দুর্গার বোধন করবার কথা। দেবগণ মর্ত্যে এসে দেখলেন এক দুর্গমস্থানে এক বিল্ববৃক্ষ শাখার সবুজ পত্ররাশির মাঝে শায়িতা নিদ্রামগ্না এক পরমা সুন্দরী কন্যা। বোধনস্তরে ব্রহ্মা জাগ্রত করলেন দেবীকে।বালিকা ধারণ করলেন চন্ডীরূপ মূর্তি।
ব্রহ্মা বললেন, 'রাবণ বধে রামচন্দ্রকে অনুগ্রহ করবার নিমিত্তই তোমাকে অকালে জাগ্রত করেছি। যতদিন না রাবণ বধ হয় তোমার পূজা করব।.... মর্ত্যবাসী যুগ যুগ ধরে তোমার পুজো করবে।যতকাল সৃষ্টি থাকবে তুমিও তোমার পুজো পাবে এভাবে।' একথা শুনে চণ্ডিকা বললেন, 'সপ্তমী তিথিতে আমি প্রবেশ করব রামের ধনুর্বাণে; অষ্টমীতে রাম - রাবণে হবে মহাযুদ্ধ; নবমীর সন্ধিক্ষণে রাবণের দশমুন্ড হবে বিচ্ছিন্ন।সেই দশমুন্ড আবার জোড়াও লাগবে। কিন্তু নবমীতে রামের বাণে নিহত হবেন রাবণ।দশমীতে রামচন্দ্র পালন করবেন বিজয়োৎসব।
ত্রেতা যুগে রাবণ বধ ও সীতা উদ্ধারের নিমিত্ত ঘটিত অকালবোধনকালে দেবী দুর্গা শুক্লা প্রতিপদ হতে শুক্লা নবমী পর্যন্ত নয়দিন নয়টি রূপ পরিগ্রহ করেন; পিতামহ ব্রহ্মা বৈচিত্র্যময় সে রূপাবলীর নামকরণ করেছেন। শ্রী শ্রী চণ্ডীর ' দেবী - কবচ ' অধ্যায়ের ৩ য় - ৫ ম শ্লোকে নবদুর্গারূপের উল্লেখটি এরূপ __
" প্রথমং শৈলপুত্রী ইতি দ্বিতীয়ং ব্রহ্মচারিণী তৃতীয়ম চন্দ্রঘন্টে ইতি কুষ্মান্ডেতি চতুর্থকম,পঞ্চমং স্কন্দমাতেতি ষষ্ঠা কাত্যায়নী তথা সপ্তমং কালরাত্রিতি মহাগৌরীতি চ অষ্টমম, নবমম সিদ্ধিদাত্রী চ নবদুর্গা প্রকীর্তিতা উক্তনেত্যানি নামানী ব্রহ্মনৈব মহাত্মানা।" এটি মূলতঃ শক্তির এক আরাধনা বিশেষ। বিজয়া দশমীর সাথে সাথে সমাপন ঘটে এই আরাধনার।
উল্লেখ্য নবদুর্গার প্রথম চারটি রূপের অধিষ্ঠান হিমালয় পর্বতে, ৫ম, ৭ম, ৮ম ও ৯ম নবদুর্গার অধিষ্ঠানক্ষেত্র কৈলাসে, আর ষষ্ঠ অর্থাৎ কাত্যায়নীর অধিষ্ঠান ঋষি কাত্যায়নের আশ্রমে, বিন্ধ্য পর্বতে।
১) শৈলপুত্রী: সতীর দেহত্যাগের পর শিব তাঁর শক্তি ফিরে পাবার জন্য পুনরায় তপস্যা শুরু করেন।শিব ও শক্তির মিলন সঞ্জাত কার্তিকেয় ( দেব - সেনাপতি ) বধ করলেন ভয়ঙ্কর তারাকাসুরকে, স্বর্গ হল অসুরমুক্ত। শুদ্ধতা ও শক্তির প্রতীক এই শক্তিই পূর্বজন্মে দক্ষ - নন্দিনী এবং পরজন্মে হিমালয় কন্যা পার্বতী।তিনি বৃষ-বাহনা ; দক্ষিণ হস্তে ত্রিশূল আর বাম হস্তে কমল।তাঁর আরেক নাম শূলধারিণী।
বাস্তবের ছোঁয়ায় আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যায় পর্বত যেমন সকল পরিস্থিতিতে অটল, অনড়, যতই ঝড় - ঝাপ্টা আসুক না কেন,তাঁকে টলানো দায়; মা শৈলপুত্রীও অনুরূপে আমাদেরকে শিক্ষা দেন যে জীবনে যতই বাধা আসুক না কেন আমাদেরকেও দৃঢ়ভাবে অটল, অনড় হয়ে থাকতে হবে। দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোভাব নিয়ে চলতে হবে। অন্যথায় জীবনের ঝড়- ঝাপ্টা,কিম্বা দুরূহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সহজ হবে না।
কারণ, আমার দুর্গা "অগ্নিপথে যুদ্ধজয়ে/ লিঙ্গসাম্যে শ্রেণীসাম্যে/ দাঙ্গাক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে,/ মা তুঝে সালাম......।"
বাহন ষাঁড় এখানে ভক্তি আর সাহসের প্রতীক। কোনও মানুষ যদি বিপদে ভক্তি, সাহস আর ধৈর্য্যের সাথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে,তবে তার জয় সুনিশ্চিত বলা যায়। মায়ের এই রূপটির পূজায় আমাদের মনের দৃঢ় ভাব প্রগাঢ় হয়,তাই মা POWER OF STABILITY. শরীরের অভ্যন্তরে কুল - কুণ্ডলিনীকে জাগ্রত করে সাধক তাঁর নিজের মনকে 'মূলাধার চক্র' অর্থাৎ মেরুদণ্ডের গোড়ায় স্থিত করে এই আরাধনায় সফল হন।
২) ব্রহ্মচারিনী: নবদুর্গার দ্বিতীয় দেবীই ব্রহ্মচারিণী।পুর্বজন্মের দেবী সতী যখন মহামায়া আদিশক্তিরূপে জন্মান,নারদের পরামর্শে ভগবান শঙ্করকে পতিরূপে পেতে কঠিন তপস্যা করেন দেবী। কত না সহস্র বছর শাকাহারী ও নির্জলা উপবাস ব্রত নেন! গাছের পাতা বা পর্ণ ভক্ষণ পর্যন্ত ত্যাগ করে পরিচিত হন 'অপর্ণা' নামে।কয়েক সহস্র বছর পর কৃশ কায়া অপর্ণাকে দেখে মা মেনকা বলে ওঠেন "উঃ মাহ্ ..,.."_ সেই থেকে তিনি 'উমা' নামের অধিকারিণী।
আক্ষরিক অর্থে, ব্রহ্মার ভাবযুক্ত অর্থাৎ বেদ ও জ্ঞানসহ সদা চলাচলকারিণী জ্ঞান ও তপস্যার প্রতীক এই দেবী। ব্রহ্মজ্ঞান দান করে ব্রহ্মাকে প্রাপ্ত করানো তাঁর স্বভাব। দেবরাজ ইন্দ্র তাঁর নিকট ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করেন।জ্যোতির্ময়ী মায়ের দক্ষিণ হস্তে জপমাল্য আর বাম হস্তে কমণ্ডুলু।
বাস্তব আর আধুনিক বিজ্ঞানের ব্যাখ্যায়, আমরা জ্ঞান প্রাপ্তির পরিমাণ অনুসারে অনুধাবন করতে পারি কোন বিষয়টি কেন ও কিভাবে হয়, তা। অন্তরের মধ্যস্থ অহঙ্কার,পরশ্রীকাতরতা,হিংসা,লোভ, ক্রোধ আদি আসুরিক শক্তি ধ্বংস করে আমাদের।জ্ঞানচক্ষু উন্মোচিত করে স্থিরভাবে যে কোনও পরিস্থিতিকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে সেগুলির নিয়ন্ত্রণ তথা মোকাবিলায় সামর্থ হই আমরা। তাই মা আমাদের Power to knowledge.
এদিন যোগী সাধক নাভির নিচে , জননাঙ্গের সামান্য উপরে মেরুদণ্ডের কাছাকাছি অবস্থিত 'স্বাধীষ্ঠান' চক্রে যোগসাধনার মাধ্যমে মনকে স্থিত করে আরাধনা করেন ব্রহ্মচারিণী মায়ের। BAM মন্ত্রটি উচ্চারিত এখানে।
৩) চন্দ্রঘন্টা: শুক্লা তৃতীয়ায় পূজিতা দেবীরূপটি চন্দ্রঘণ্টা।শিব পার্বতীর বিবাহকালে সহসা অসুররাজ তারকাসুর প্রেত - পিশাচ - দানবসহ আক্রমন করলে দেবী চন্দ্রসম বিশাল শুভ ঘন্টা বাজিয়ে নিরস্ত্র করেন্ সকল অশুভ শক্তিকে।জন্মের পরই মাতা মেনকা তাকে অনুরোধ করেন পিতা মাতার সামনে কোনোদিন নিজের দশমহাবিদ্যা, বিশ্বরূপ তথা উগ্ররূপ কিম্বা তৃতীয় নয়ন প্রদর্শন না করেন । দেবী উগ্ররূপ ধারণ করেন নি, তাই। প্রাকৃত ' চন্দ্র ' কথাটি সংস্কৃত্যায়নের দ্বারা হয়েছে 'চন্ড '।
এইরূপে স্বর্ণোজ্জ্বলা বর্ণযুক্ত দেবীর মস্তকে অর্ধচন্দ্র, হাতে কমণ্ডুলু,তরোয়াল,গদা,ত্রিশূল,ধনূর্বাণ,রক্তপদ্ম, জপমালা, ডম্বরু আর শঙ্খ থাকে। সিংহবাহনা দেবী তাঁর ঘণ্টার ন্যায় চন্ডধ্বনিতে দুরাচারী রাক্ষস, দানব, দৈত্যদের প্রকম্পিত করেন।
আধুনিক ব্যাখ্যায় চন্দ্র মনকারক গ্রহ। আমাদের মনের মধ্যেও সমুদ্র আর নদীর মত প্রতিনিয়ত জোয়ার - ভাটা চলে। মনটিকে সদা alert রাখতে হবে,_ আমার দ্বারা কোনও ভুল বা খারাপ কাজ হয়ে যাচ্ছে না তো! মনের মধ্যে এই সচেতনতা অব্যাহত রাখতে পারলে কখনই পশুত্বে উপনীত হতে পারব না আমরা। কেজানে কোভিডকে পরাস্ত করতে আমরা মনুষ্যত্বের জোট বাঁধতে সেদিন এক সাথে শঙ্খ, কাঁসর ঘণ্টা আদি বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ছিলেম কিনা! আসলে পুরুষ, নারী, তৃতীয় লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের মধ্যেই যে একটি মাতৃসত্ত্বা বিরাজিত।ভারতমাতাই সেদিন জাগ্রত হয়ে উঠেছিল হয়তো তাঁর সন্তানদের অশুভ ভাইরাসের করাল গ্রাস হতে রক্ষা করতে!মায়ের এই রূপটি তাই POWER OF AWARENESS.
সাহসিকতা, সৌর্য্য ও বীর্যের উপর সচেতনতা বৃদ্ধিকারী সাধনের জন্য যোগী সাধক এদিন মনুষ্যের নাভীর নিকট মেরুদণ্ডের উপরে অবস্থিত 'মণিপুর ' চক্রে নিবিষ্টমনা হয়ে দেবীর আরাধনা করেন।
৪) কুষ্মান্ডা: নবদুর্গার চতুর্থ রূপ এটি।মহাপ্রলয়ের পর সর্বত্র নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে ছেয়ে থাকলে দেবী ঈষৎ হাস্য দ্বারা সৃষ্টি করেন ব্রহ্মাণ্ড। আর মহাশুন্যে উপবিতা দেবী সহসা শিবের দেখা পেতে আনন্দ হাস্য তাপে সৃষ্টি হয় সূর্য ও সৌরমন্ডল আদি জগৎ।
ত্রিনয়না, অষ্টভুজা, সিংহবাহিনী দেবীর আট হাতে সুদর্শন চক্র, ধনুর্বাণ, রক্তপদ্ম, কমণ্ডুলু; বাম হস্তে একটি অমৃতপূর্ণ কলস; অমৃত ব্রহ্মের রূপক । যোগ্য সাধনা, আপন তপোবল ও কৃচ্ছতা দ্বারা মহামায়াকে প্রসন্ন করতে পারলে সেই অমৃতভান্ডের অমৃতধারায় দেবী তৃপ্ত করবেন সেই সাধককে। মাতৃহস্তে রয়েছে একটি জপমাল্যও। শাস্ত্র মতে কুষ্মান্ড অর্থে কুমড়ো বলি মায়ের প্রিয়। কুষ্মান্ড প্রিয়া, তাই কুষ্মান্ডা। অন্য অর্থে, "কুৎসিত উষ্মা সন্তাপত্রয়োরূপো যস্মিন সংসারে। সসংসারে অন্ডে উদর রূপায়াং যস্যা:।"
সাংখ্যদর্শন মোতাবেক, আধ্যাত্মিক, আধি দৈবিক ও আধি ভৌতিক __ এই ত্রি-পাপকর্ম আমরা সারাজীবন ধরে করে চলি। কু_ কুৎসিত,উষ্মা _ ত্রিতাপ বা দুঃখ। স্বামী অচ্যুদানন্দের দর্শনে সমুদ্রমন্থনের সমস্ত হলাহল পান করে শিব যেমন নীলকন্ঠ হন। অনুরূপে দেবী কুষ্মান্ডা ত্রিতাপকে নিজস্ব উদরে নিয়ে জগতের পাপ হ্রাস করেন।
বাস্তব আর আধুনিকতার ব্যাখ্যায়,কলিযুগে যেটুকু ভাল জুটেছে , সেটুকু গ্রহণে তৃপ্ত থাকা উচিৎ; কে জানে আগামী দিনে সেটুকুও জুটবে কি না কে নিশ্চিত করবে তা! কিম্বা প্রতিশোধ না নিয়ে ধৈর্য্য আর স্থিরতার সাথে নিজের ভুলটুকু accept করে সত্যের পথে চলতে পারলে জগতের মঙ্গল। তাই দেবী কুষ্মান্ডা এখানে হয়ে উঠেছেন POWER TO ACCEPT.
যোগী সাধক "কৃষ্ণমাণ্ড" নামেও খ্যাত সৃষ্টি ও সৃষ্টির প্রতীকরূপী এই দেবীর পূজায় নিজের মনকে স্থাপিত করেন হৃৎপিণ্ডের অঞ্চলে বুকের মাঝখানে অবস্থিত ' অনাহত ' চক্রে।
৫) স্কন্দমাতা: পঞ্চমীর রাতে এই দেবী পূজিত হন।
জন্ম পরবর্তীকালে কৃত্তিকাগণ দ্বারা সাময়িক লালিত হবার কারণে দেবী ও শিবের সন্তান কার্তিকেয় নাম লাভ করলেও বগলামুখীরূপের তেজ দ্বারা শিশুকে সঙ্গে নিয়ে কৈলাসে চলে আসেন মা। ষষ্ঠবর্ষীয বালক মায়ের নিকট অস্ত্র শিক্ষা লাভের দৌলতে বধ করেন তারকাসুরকে। পুত্রকে অসুর রাজের হাত হতে রক্ষা নিমিত্ত ভীষণ রূপ পরিগ্রহ করেন মা।তাই তারকাসুর নাশিনী ও তারকাসুরমর্দীরূপে পূজিত হন মা ও ছেলে।
জ্ঞান ও মাতৃত্বের প্রতীক এই দেবী সচরাচর গণেশ জননী হিসেবে পূজিত হন।পশ্চিমভারতে দেবী আবার মান্যতা পান কার্তিকেয়র মাতা_স্কন্দমাতা রূপে।চার হাত বিশিষ্টা ত্রিনয়না সিংহবাহনা দেবী দক্ষিণ দিকের উপরের হাতে ধরে আছেন শিশু কার্তিকেয়কে। প্রস্ফুটিত পদ্ম আরেক দক্ষিণ হস্তে। বাম দিকের একটি হাতে বরাভয় দান করেন, আরেক হাতে ধরা রয়েছে পদ্ম।
বাস্তব ও আধুনিকতার দাবিতে, এখানে শুধু মাএ কার্তিকেয়ের কথাই বলা হয়নি, ' চতুস্বন ' সম্প্রদায় অর্থাৎ সনজ্ঞ, সনন্দ, সনাতন এবং বিশেষতঃ সনতকুমারকে নির্দেশিত। জ্ঞানী যারা তারাও আশা করেন এক ভালো মায়ের উদরে জন্মাবেন।প্রকৃতিকে আমরা ' মা ' বলি,কারণ দ্বিচারিতা না করে প্রকৃতি তার সবটুকু দিয়ে সকল সন্তানকে একই চোখে দেখেন।পুরুষ,নারী বা অন্যদের মনেই একটি মাতৃসত্ত্বা থাকে। তা-ও প্রকাশিত এখানে। তাই দেবী POWER TO CONSERVE এখানে।
যোগী সাধকের মন এই আরাধনায় কন্ঠে অবস্থিত ' বিশুদ্ধ ' চক্রে নিবেশিত।
৬) কাত্যায়নী: শুক্লা মহাসপ্তমীতে পূজিতা এই দেবী। কালিকাপুরাণ অনুসারে,মহিষাসুর যখন স্বর্গ - মর্ত্য - পাতাল কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন। দৈববরে কোনও পুরুষ তাঁকে হত্যা করতে পারবেন না।দেবতাদের তেজঃপুঞ্জ দ্বারা ঋষি কাত্যায়নের আশ্রমে চিরকুমারীত্ব যুক্ত দেবীর আবির্ভাব ঘটে। কাত্যায়ন প্রথম ওই দেবী কন্যার পূজা করেন। এক পুত্রের পিতা কাত্যায়নের কন্যাপ্রাপ্তির অভিলাষ পূরণ হল। দেবী হলেন কাত্যায়ন কন্যা কাত্যায়নী।
বাস্তবিক, আমরা সকলেই দেবত্বের ভাব নিয়েই জন্মেছি।জীবনের বড় বড় দুঃসাধ্য বাধাগুলি একেকটি মহিষাসুর। নিজের শক্তিকে নিজেকে চিনতে ও জানতে হবে। তাই দেবী এখানে POWER TO SELF DISCOVERY.শ্রীকৃষ্ণসহ সমস্ত গোপ ও গোপী এই দেবীর পূজা করেন।
শুক্লা মহাষষ্ঠীতে যোগী সাধকগণ দুই ভ্রূর মধ্যস্থ অঞ্চলে স্থিত আজ্ঞা চক্রে মন নিবিষ্ট করে কাত্যায়নীর আরাধনায় রত হন।
৭) কালরাত্রি: শুক্লা মহাসপ্তমীতে দেবীর এই রূপের পূজা হয়।
আলুলায়িত কেশে বিদ্যুতের মালিকা কন্ঠে শত্রুর দিকে ধাবিত ভীষণ দর্শনা কৃষ্ণবর্ণা দেবীর শ্বাস - প্রশ্বাসে আগুনের হল্কা। তিন হাতে অস্ত্র আর এক হাতে ভক্তদের প্রতি বরাভয়যুক্ত মূর্তিতেই পূজিতা সচরাচর। এই রূপেও ভক্তদের শুভ করেন, তাই দেবী শুভঙ্করিণী। দেবীর বাহন গর্দভ।
প্রলয়কালে সেই 'কাল ' টিকেও নাশ করেন দেবী। কাল আকাল স্বরূপ শিবের সে সংহারমূর্তি! বোন কখনও সখনও শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।শিবের ভগিনী অম্বিকা তেমনই দৃষ্টান্ত, যেমন সুভদ্রা ছিলেন জগন্নাথদেবের শক্তি।
পদ্মপুরাণে শিব কালির সঙ্গে ঠাট্টা করেন,__ আমার ভস্মাচ্ছাদিত শরীরকে তুমি যখন আলিঙ্গন করো, কৃষ্ণসর্পের ( ভুজঙ্গের ) ন্যায় তুমি আমার শরীরে চলাফেরা করছ, মনে হয়।_____ যেন মধ্যযুগের সেন্টিমেন্টে নাড়া পড়ল,মেয়ে কাল, না ফর্সা!
গোদাবরী তীরে সাধনায় বসলেন কালি। কৃষ্ণত্বক পরিত্যাগ করে গৌরি হলেন।কৃষ্ণত্বক থেকে সৃষ্টি হলেন কৌশিকী। সিংহকে নিয়ে চলে গেলেন বিন্ধ্য পর্বতে। ভয়ঙ্কর চণ্ডীরূপ এখানে।
বাস্তবটি হল, তমসা বা অন্ধকার জীবনের দুঃখের কারণ হতে পারে না।একটি মূর্তি তৈরি করতে গেলে মূর্তিটিকে অনেক ছেনির ঘা খেতে হয়। দুঃখ থেকে পালালে চলবে না। তাকে face করতে হবে।এভাবে আমাদের অভ্যন্তরের শক্তিকে জাগাতে হবে।
গাধার উপর আসীন দেবী। গাধা খুব সহজ সরল প্রাণী।সে অনেক আঘাত পায়। কিন্তু অবশেষে লক্ষ্যে পৌঁছায়।
ঘৃণা দ্বারা কি ঘৃণার সমাধান হবে! মানুষ যতটুকু simple থাকবেন ততই সত্যের মুখোমুখি হয়ে যুঝতে পারবেন। সব কিছুর সম্মুখীন হতে পারা চাই।তাই দেবী এখানে POWER TO FACE.
শরীরের বাইরে, মাথার উপরে ব্রহ্মরন্ধ্রে অবস্থিত যে স্থান হতে আত্মা দেহত্যাগ করে বলে অনুমিত, সেটিতে অর্থাৎ সহস্রার চক্র বা মুকুটচক্রে মনকে স্থিত করে যোগী সাধক আরাধনা করেন দেবী কালরাত্রির।
মহাগৌরী: নবরাত্রির শুক্লা অষ্টমীতে পূজিতা ইনি।
হিমালয় কন্যা ছিলেন গৌরবর্ণা। শিবের তপস্যায় রৌদ্রে কৃষ্ণ হলে শিব গঙ্গাজলে স্নান করালে তিনি ফর্সা রঙটি ফিরে পান।এই রূপটির নাম মহাগৌরী। প্রচলিত বিশ্বাস,নবরাত্রির অষ্টম রাতে পূজা করলে সর্ব পাপ ধুয়ে যায়। শুভ্র পোশাক পরিহিতা চার হাত বিশিষ্টা দেবীর বাহন ষাঁড়,এক হাত শোভিত বরাভয় মুদ্রায়; বাকি তিন হাতে থাকে পদ্ম,ত্রিশূল এবং ডম্বরু। দেবী অষ্টবর্ষী বালিকারূপে শিবকে প্রমোদ দান করেন, পরে শিব পরিচয় জানতে চাইলে পার্বতী তাঁর নিজ রূপ বর্ণনা করেন।
ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ দান করেন এই দেবী। বাহ্যিক নয়, অন্তরের শুভ্রতার প্রতীক এই দেবী; একটি খাঁটি ( pure ) হৃদয়( heart ) আর খাঁটি ( pure ) অভ্যেস ( habit ) দান করেন। তাই দেবী এখানে POWER TO PURITY.
বাস্তবিক, অশুদ্ধ জল পান করলেই তার প্রভাব ও ফলাফল খারাপ হয়। অস্বাস্থ্যকর খাদ্য, পরিবেশ ও যাবতীয় অভ্যাস সকলই ক্ষতিকর। মঙ্গলকারী শুদ্ধিকরণ প্রয়োজন সকলের জন্য। খাঁটি ( pure )intention নিয়ে কাজ না করলে আমরা এক একটি অসুরের জন্ম দিই ।আমাদের অন্তরের শুদ্ধিকরণের জন্য অন্তরের শুদ্ধতা জাগরণের প্রয়োজন। সন্ত তুলসীদাস এই দেবীর আরাধনা করতেন।
দুটি চক্রের সন্ধিস্থল হিসেবে একটি চক্র হতে আরেকটি চক্রে শক্তিপ্রবাহকে সাবলীল করে যে ' সন্ধিচক্র ' , তাতে নিবিষ্টমনা হয়ে যোগীসাধক আরাধনা করেন দেবী মাতা মহাগৌরীর।
সিদ্ধিদাত্রী: শুক্লা মহানবমীতে আরাধিতা হন দেবী সিদ্ধিদাত্রী।
নবদুর্গার নবম তথা শেষরূপটি হলেন সিদ্ধিদাত্রী।
দেবী ভাগবত পুরাণে আছে দেবীকে পূজা করে মহাদেব স্বয়ং সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। সিংহবাহিনী দেবীর চার হাতে আশীর্বাদী মুদ্রা। তিনি সিদ্ধিদান করেন। তাঁর কৃপায় সংসারে আসে সুখ এবং সমৃদ্ধি। সকলকে বরাভয় দেন তিনি। মার্কণ্ডেয় পুরাণে অষ্টভুজা এবং শ্রীকৃষ্ণের জন্মখন্ডে অষ্টাদশ ভুজা হলেও শিবের আরাধ্য হিসেবে প্রচলিত গাঁথাগুলিতে তিনি চতুর্ভুজাই।
বাস্তবে সিদ্ধি অর্থে অতিপ্রাকৃতিক বা অলৌকিক জ্ঞানের বিষয়ে বলা হয়।প্রতিপদ হতে অষ্টমী পর্যন্ত যত পূজা হল সেই আট গুণকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারলে ভক্তের মধ্যে জাগ্রত হয়ে যায় দেবত্ব। সে এই মুহূর্তে আর মনুষ্য পদ বাচ্য নয়।সে অন্যের অন্তরে দেবত্ব জাগিয়ে তুলতে পারঙ্গম দেবী এখানে POWER OF AWAKENING.
মহিষাসুর রূপ দুঃখ-কষ্ট আসবেই আমাদের জীবনে।তবে নিজেদের মধ্যে ওই আট শক্তি জাগিয়ে তুলতে পারলে আমরাই দুর্গায় পরিণত হয়ে নিজেদের ভিতরের অসুরগুলিকে জাগতে দেব না,আর হত্যাও করব। মা দুর্গার আশীর্বাদে আমরা নিশ্চয় পারব আমাদের ভিতরের দুর্গাকে জাগিয়ে তুলতে।
কালরাত্রি অনুসরণে এদিনের পূজাতেও যোগী সাধক তাঁর মনকে নিমগ্ন করেন মাথার উপরে অবস্থিত সহস্রার চক্রে।
" জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনী, রম্যকপর্দিনী শৈলসূতে "
গাণিতিক তত্ত্ব: গাণিতিকভাবে ৯ একটি যৌগিক সংখ্যা।
এর উৎপাদক ১,৩ এবং ৯ ; কোনও সংখ্যাকে ৯ দ্বারা গুণ করলে যে গুণফল আসে,তার অঙ্কগুলির যোগফল সর্বদা ৯ হয়। উদাহরণস্বরূপ বলাই যায়, ৯× ২ =১৮;১+৮=৯, ৯×৫ = ৪৫; ৪+৫=৯ , ৯×৮= ৭২; ৭+২=৯,......... এভাবে। দুর্গাপুজোয় লাগে ১০৮ টি পদ্ম,দেবীর কন্ঠে১০৮ বিল্বপত্র,নারায়ণের পুজোয় ১০৮ টি তুলসী লাগে। জপের মালাতেই থাকে ১০৮টি রুদ্রাক্ষ। এ সমস্তক্ষেত্রেই ১+০+৮=৯ উপলব্ধ।
এটি এক অংকের বৃহত্তম সংখ্যা । প্রবাদ, A stitch in time saves nine, মানুষের জীবনচক্রে গর্ভাবস্থা স্থায়ী হয় ৯ মাস। নর্স পুরাণে ৯ সংখ্যাটি Woden দেবতার সঙ্গে সম্পর্কিত। কিংবদন্তি, জ্ঞানলাভের জন্য woden ৯ দিন ও ৯ রাত ঝুলেছিলেন বিশেষ বৃক্ষ হতে।
সংখ্যাটির শুভময় তাৎপর্যের জন্যই হয়তো কোভিডকালে ভারতের দেশনায়ক এই সংখ্যা যুক্ত তারিখ ও ঘণ্টাকে নির্বাচন করে নানান বাদ্যবাজন দ্বারা অশুভ মারণরোগের হেতু কোভিড -১৯ কে পরাস্ত করে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন দেশবাসীকে!
আলোচ্য নবদুর্গার আরাধনাতেই নবপত্রিকা, নবরাত্রি ইত্যাদিতেও ৯ সংখ্যাটির প্রাধান্য।এভাবে হিন্দুধর্মে ৯ সংখ্যার মাহাত্ম্যের বিস্তৃতি আরও আরও ব্যাপক।তবে কেন? আর তার মূলসূত্রটি কোথায় প্রোথিত? ...তার সন্ধানী অনেকেই।
মনুস্মৃতিতে প্রাপ্ত
" যত্র নার্যস্ত পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতা:।
যত্রৈতাস্ত্তু ন পূজ্যন্তে সর্বাস্তত্রাফলা: ক্রিয়া:।।"
__যেখানে নারীরা পূজিতা হন,সেখানে দেবতাগণ খুশি হন,
যেখানে তাদের পূজা নেই,সেখানে সকল ধর্মকর্মই নিস্ফল।।"
১৬০১ সালে নদীয়ায় প্রথম দুর্গাপুজোর সূচনা।শুরু করেন কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ভবানন্দ। আর এ বছর ১৪৩৩ সালে দুর্গার আগমন ঘোটকে; ফল ছত্রভঙ্গ; দুর্গার গমন নৌকায়; __ ফল শস্যবৃদ্ধি ও জলবৃদ্ধি।
চৈত্রমাসের নবরাত্রির অন্তিম দিনে মৃগশিরা নক্ষত্রযুক্ত ব্রহ্মমুহূর্তে মেনকার গর্ভে পার্বতীর জন্ম। পবিত্র তিথিটি 'দেবী জয়ন্তী ' নামেও বিখ্যাত,এই দিনেই ভগবান রামচন্দ্রের জন্ম , যা 'রামনবমী' নামে পরিচিত।
তবে নবদুর্গার অক্ষর কাঠামো গড়তে গিয়ে কন্যা-শ্লোকে উক্ত মল্লিকা সেনের ভাবনার সঙ্গে শত ভাগ সহমত হয়ে বলতে ইচ্ছে হয়,
আমার দুর্গা পথে প্রান্তরে স্কুল ঘরে থাকে
আমার দুর্গা বিপদে আপদে আমাকে মা বলে ডাকে
আমার দুর্গা আত্মরক্ষা, শরীর পুড়বে, মন না
আমার দুর্গা নারী গর্ভের রক্ত মাংস কন্যা।
আমার দুর্গা গোলগাল মেয়ে,আমার দুর্গা তন্বী।
আমার দুর্গা কখনও ঘরোয়া, কখনও আগুন বহ্নি।
আমার দুর্গা মেধা পাটেকর, তিস্তা শেতলাবাদেরা।
আমার দুর্গা মোম হয়ে জ্বলে অমাবস্যার আঁধেরা ।
আমার দুর্গা মণিপুর জুড়ে নগ্ন মিছিলে হাঁটে
আমার দুর্গা কাস্তে হাতুড়ি,আউশ ধানের মাঠে।
আমার দুর্গা ত্রিশূল ধরেছে, স্বর্গে এবং মর্ত্যে
আমার দুর্গা বাঁচতে শিখেছে নিজেই নিজের শর্তে।।
মন্তব্য (০)
লগ-ইন করুন মন্তব্য করতে।