সেই যে সপ্তাহের শুরুতেই বৃষ্টিটা নেমেছে অঝোরে, আজও যেন তার কোন বিরাম নেই ।
ফি বছর এই বর্ষাতেই কোচবিহার শহর ঘেঁষা
তোর্ষা নদীর জল এমনিতেই দুকুল ছাপিয়ে ওঠে। বৃষ্টি মুখর বর্ষায় বানভাসি তোর্ষার জল
স্রোতের টানে যেন কোন বাধাই মানতে চায় না।
ভরা বর্ষায় এই তোর্ষা সত্যি সত্যিই ভয়ংকর হয়ে ওঠে। দূর থেকে বানভাসি তোর্ষার হুংকার-তর্জন
গর্জন শোনা যায় । আবার বর্ষা শেষে তোর্ষার জলস্তর আর জলস্রোত যখন কমতে থাকে তখন তোর্ষাও বেশ শান্ত হয়ে আসে । তবে তখন
আবার আর এক বিপত্তির শুরু হয় নদী ভাঙনে।
চাঁই ধরে মাটির এক একটি চাঙর দুমদাম করে
পাড় ভেঙে ভেঙে পড়ে জলে । এই ভাঙনে পাশের ফসলের মাঠ ক্ষেত খামার গিলে খায় এই তোর্ষা ।
মাঝে মধ্যেই চারপাশের মানুষের জীবন- যাপন,সময় ও সমাজ নিয়ে আমার মধ্যে অদ্ভুত
সব চিন্তা ভাবনা,চেতনার এক ব্যতিক্রম বোধ
তোলপাড় করে ওঠে । ভাবতে ভাবতে এক সময়
এক গাঢ় কালো অন্ধকার আমাকে ঘিরে ধরে ।
এই অন্ধকারের মধ্যেই কারা যেন ছায়ার মতো
আমাকে প্রতি মুহূর্তে অনুসরণ করে আর এই চিন্তা ভাবনার প্রবল স্রোত আমাকে নিয়ে চলে দূর দেশে । যখন চোখ খুলি, দেখি,আমাকে ঘিরে আছে আমারই নিজস্ব যত স্বপ্ন-কল্পনা,চিন্তা -
ভাবনা ও বোধের অসংখ্য ছায়া শব্দ কুন্ডলী। এই শব্দকুন্ডলীর ভেতর থেকে আমার ভেতরের আমিটা আমাকে চিনিয়ে দেয় এই পৃথিবী,মানুষ,
জীব ,জগত,সমাজ সভ্যতা ও জীবন যাপন ।
আমাকে চিনিয়ে দেয় আমার প্রকৃত শত্রু ও মিত্র
ও প্রিয় পরিজনদের, চিনিয়ে দেয় সমাজের ধূর্ত,
প্রতারক,শোষক, শাসক,সমাজবিরোধী,মাতাল,
খুনী,ধর্ষক আর বিশ্বাসঘাতকদের । এই সব রুঢ়
বাস্তব ও নির্মম সত্যগুলো আমাকে তীব্র ভাঙচুর
করে, বিস্মিত করে তীব্র ও ভীষণ । এক অব্যক্ত
যন্ত্রণায় আচ্ছন্ন করে রাখে আমাকে অন্তরে বাহিরে । ফলে আমার ভেতরে এক অদ্ভুত উন্মাদনার সৃষ্টি হয়, যা আমাকে ভীষণ আলোড়িত করে এবং আত্মতাড়নায় ছুটে যেতে
থাকি আমি আমার ভেতরেই মাইলের পর মাইল
এক দীর্ঘতম পথ । এই পথ ধরে চলতে চলতেই
আমার বাস্তব জীবনে পৌঁছে যাই । পৌঁছে যাই
আমি আমার কলেজ জীবনে,কলেজের 'নবীন
বরণ' উৎসবে, যেখানে অমলেশদার সাথে আমার প্রথম দেখা । আমি তখন সবে প্রি-ইউনিভার্সিটি আর অমলেশদা তখন ফার্ষ্ট ইয়ার।
প্রথম দেখার প্রথম পরিচয়েই আমার খুব ভালো লেগে যায় অমলেশদাকে । ভালো লেগে যায় ওনার কথাবার্তা-আচার-আচরণ,ব্যবহার ও
চিন্তা-ভাবনা ও বোধ । বিশেষ করে ওর নিজস্ব ইডিওলজি । তারপর ক্রমশ ঘনিষ্টতা এবং পরিশেষে বন্ধুত্ব । বয়সের ফারাক আর সিনিয়রিটি আমাদের বন্ধুত্বের বাধা হয়নি । ওই
অমলেশদাই আমার একজন ভালোবন্ধু ও ভালো গাইড হয়ে উঠেছিল । ছাত্র রাজনীতির
মঞ্চেও আমাদের দু'জনের মতাদর্শ ছিল এক ও অভিন্ন ।
আমার মতো অমলেশদাও সবাইকে বলতো
চারপাশের মানুষদের চিনে নেবার কথা,বলতো
মুখোশ মানুষদের আর প্রকৃত মানুষদের চিহ্নিত
করবার কথা ,সমাজ বদলের কথা । এই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে করতে আমি ও
অমলেশদা কতবার যে হোঃ হোঃ করে হেসে উঠেছি, কতবার যে আবার ক্ষোভে,ক্রোধে চিৎকার করে উঠেছি তার হিসেব নেই কোন ।
আমাদের এই হোঃ হোঃ হাসি থামিয়ে দিত বিজয়াদি । এই বিজয়াদি ছিল অমলেশদার
বাংলা অনার্স মেট । হাসি থামিয়ে দিয়ে শাসনের
সুরে বিজয়াদি বলতো,
"শুধু হোঃ হোঃ করে হেসে আর চিৎকার করে বড় বড় ডায়লগ আওড়ালেই
সমাজ বদল করা যায় না ,প্রাণেশ ! ভাষণ না
দিয়ে বরং কলম তুলে নাও হাতে । চারপাশের
অনাসৃষ্টি থেকে সরে এসে সমাজ জীবনের প্রকৃত উপলব্ধির আর চিন্তা-চেতনার বিকাশ
ঘটাতে কলম ধরতে হবে নতুন সৃষ্টিতে, নতুন লেখায় । তুমি পারবে প্রাণেশ ! লিখতে লিখতে
তোমাকে পৌঁছাতে হবে সেই নতুন সৃষ্টিতে যে
সৃষ্টিতে জীবনের সত্য এসে শিল্পের সত্যে,সমাজ
সভ্যতার সত্যে মিশে যায় । সত্যিকারের বিদ্রোহী ও ক্রোধী লেখায় নির্মম সত্যকে ছড়িয়ে দিতে হবে মানুষের মধ্যে । জীবনের আনালোকিত
দিকের উন্মোচন ও উচ্চারণ করাই হবে লেখক কবি জীবনের যথার্থ অভিযাত্রা । কোন ভাবেই কোন শক্তির শিকার হওয়া নয়,শিকারীও হওয়া নয় । ছড়িয়ে দিতে হবে নতুন এক জগত ,নতুন এক সময়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা । তুমি
লেখা শুরু করে দাও প্রাণেশ ! তোমার দাদাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।"
আসলে এই বিজয়াদির অনুপ্রেরণাতেই আমার লেখা-লেখিতে আসা ।
বিজয়াদি ছিল কলেজের একজন অন্যতমা
অপূর্ব সুন্দরী । যেমন ছিল তাঁর বাঙ্মীতা,তেমনই
ছিল অমায়িক ব্যবহার । কলেজের অনেকেই
সুন্দরী বিজয়াদির কাছাকাছি আসবার,ঘনিষ্ট হবার বাহানা খুঁজত । উপরের ক্লাসের কেউ কেউ প্রেম নিবেদনও করে বসত ।অবশ্য এসব আমাদের কারোরই চোখ এড়ায়নি । বিশ্বস্ত ও নির্ভরশীল নেতা হিসাবে আমার কথাতেই অমলেশদা বাধ্য হয়ে বিজয়াদিকে সেভ গার্ডে রাখার দায়িত্ব নিয়েছিল । বিজয়াদিও মনে মনে চেয়েছিল তার দেখভালের দায়িত্বটা এই অমলেশই নিক।ফলে অমলেশদার উপরই দায়িত্বটা এলো । কালক্রমে অমলেশদা ও বিজয়াদির মধ্যে অবাধ মেলামেশা ও ওঠাবসা
থাকার ফলে পরম পবিত্র ভালোবাসার একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই সম্পর্কের কথা ক্রমে
কলেজেও ছড়িয়ে পড়ে। এই সম্পর্কের সূত্রেই
অমলেশদার হোষ্টেল রুমে বিজয়াদির সময় অসময় যাতায়াত ছিল । কলেজ ইউনিয়নের নেতা নেত্রী বলে কেউ তাদের কটাক্ষ করার সাহস পেত না ।
একদিন কলেজ ছুটির পর অনার্সের একটা রেফারেন্স বই আনতে বিজয়াদি অমলেশদার সাথেই হোষ্টেল রুমে পৌঁছাতেই
অকাল সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসে আকাশ ঝেঁপে বৃষ্টি
নেমে এলো । সঙ্গে ধেয়ে এসেছিল ঠান্ডা ঠান্ডা ফুরফুরে ঝড়ো হাওয়া
এমন একটা বৃষ্টি ভেজা হাওয়াময় সান্ধ্য
মুহূর্তে কেন যেন আজ অমলেশদা খুব রোমান্টিক হয়ে ওঠে । মনে মনে সে বিজয়াদিকে খুব কাছে পেতে চায় । একটা অদ্ভুত রোমাঞ্চ অনুভব করে অমলেশদা। মনের এই গোপন কথা সে বিজয়াকে বলতেও চায় কিন্ত বলতে গিয়েও সে একেবারে শেষ মুহূর্তে নিজেকে কিছুটা সামলে নেয় ।
"তুই সত্যিই দিন দিন আনওয়ান্টেড মুডি
হয়ে যাচ্ছিস। কেমন যেন আনরোমান্টিক হয়ে পড়ছিস"।বিজয়ার উদ্দেশ্য ভেতর থেকে বেরিয়ে
আসা কথাগুলো অমলেশদা কোঁত করে গিলে ফেলল এক নিমেষে । তবুও অমলেশদার ওই অবদমিত অন্তর্লীন প্রেম হঠাৎই যেন উল্লসিত হয়ে উঠেছে আজ বিজয়াকে ঘিরে । অথচ এই
বিজয়াকে সেভ গার্ডে রাখার জন্যই সে দায়িত্ব
নিয়েছে । অমলেশ তবুও বিজয়ার জন্য আজ
খুবই চঞ্চল, অস্থির ও কামার্ত । এই চঞ্চলতা
আসলে আজকের বৃষ্টি মুখর মুহূর্তে বিজয়ার মূলত অমন রূপ সৌন্দর্যে টইটম্বুর যৌবনের আকর্ষনই অমলেশদাকে বেশি করে আকৃষ্ট করেছে । "এই মুহূর্তে আমি যদি বিজয়াকে খুব
আদর করতে চাই বা কিছু একটা প্রপোজ করি
বিজয়া কি তা অনায়াসে এ্যাকসেপ্ট করতে চাইবে ?"এরকম নানা অস্থির ভাবনা,আশংকায়
ছটফট করছিল অমলেশদা । বিজয়াদিও যে
অমলেশদার ওই অস্থিরতার অভিব্যক্তির কিছুই
আঁচ করতে পারেনি এমন নয় । মেয়েদের একটা
বিশেষ ইন্দ্রিয়ানুভূতি থাকে যা দিয়ে তারা যে কোন পুরুষের মনের কথা বা ভাব বুঝতে পারে।
চোখ মুখ আর হাবভাবের আচরণ দেখেইবুঝতে
পারে কিসের সংকেত দিচ্ছে । তবুও বিজয়াদির
একটা ভরসা ছির অমলেশদার উপর । এসব নিয়ে সে মাথা ঘামাতে রাজি নয় । বেশ কিছুক্ষণ
দু'জনেই নিশ্চুপ । বিজয়াদিই নীরবতা ভাঙল।
সে অমলেশদাকে বলল,
তুমি না আমাকে কি একটা সারপ্রাইজ দেবে বলছিলে বেশ কদিন ধরে ,?
ও, হ্যা, বলাই হয়নি তোকে ।ভেবেছিলাম
বলার মতো তেমন পরিবেশ পরিস্থিতে এলে ..."
কথা শেষ না হতেই বিজয়াদি সে কথা কেড়ে নিয়ে বলল,
" তেমন পরিস্থিতি এলে সারপ্রাইজ
দেবে ? তাই তো ?"
অমলেশদাও বিজয়াদির কথা শেষ করতে না দিয়েই বলে উঠল,
" শোন্ বিজয়া , হ্যা, আমি আজই তোকে
সেই সারপ্রাইজটা দিতে চাই বলেই,বিজয়াদির হাত দুটো আচমকা ধরেই হ্যাচকা টানে বিজয়াদিকে বুকে টেনে নিয়ে বলে উঠল,
" আই লাভ ইউ বিজয়! বলেই একবার
ঢোক গিলল অমলেশদা । তারপর আবার সে
বলে উঠল,
" ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড.. বলছি কি তুই
যদি রাজি থাকিস আই উইল ম্যারি ইউ। ক্যান
ইউ এ্যাকসেপ্ট ইট ?" এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি
বলার মধ্যে অমলেশদার যে আকুলতা আজ বিজয়াদি অনুভব করল তা আগে কখনও কোন
ব্যাপারে করেনি । অমলেশদার মধ্যে ইদানীং কিছু কিছু পরিবর্তন ,কিছু অন্যরকম সংকেত
বিজয়াদির নজর এড়ায়নি ঠিকই কিন্তু এভাবে তাকে যে এরকম প্রপোজ করে বসবে ভাবতে পারেনি বিজয়াদি । তাই অমলেশদার বুক থেকে
নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইছিল বিজয়াদি ।
অমলেশদা আটকে দেয় । তারপর সে বিজয়াদি
কে আবারও বুকে টেনে চেপে ধরে অমলেশদা
আবার বলে উঠল,
"ডু ইউ এগ্ৰি, বিজয় ? চুপ করে থাকিস না। প্লিজ রিপ্লাই ..."
" হোয়াট ক্যান আই ডু অমলেশদা?
তুমিই তো আমার সেভ গার্ড ,! তুমিই বলো আমার কি করা উচিৎ ! " বিজয়াদি বেশ ধরা গলায় জবাব দিতে চেষ্টা করে ।
"আমি কোন অপরাধ করছি কী বিজয় ?"
অমলেশদা বলে
" আমি কোন অপরাধের কথা বলছি না ।
আমি ভালোবাসাবাসি বা প্রেম করার বিষয়ে
কিছু বলতে চাইনি । ইনফ্যাক্ট, ইমোশনাল কোন
ইনভলভমেন্টে..." বিজয়াদির কথা শেষ করতে না করতেই অমলেশদা বলে,
"জানি তুই খুব ট্যালেন্টেড,আমার প্রতি
তোর কনফিডেন্টও সেন্ট পার্সেন্ট । আমার প্রতি যেমন তোর আস্থ আর আমারও তোর
প্রতি আস্থা আছে । বাট নাথিং এলস্ মোর
উইদাউট ইউ । আর কিছু ভাবতে পারছিনারে।
ভাবতে চাইও না আর কিছু...আমি শুধু তোকে."... বলেই আবারও বিজয়াদিকে দুই হাত দিয়ে আরও জোরে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে চুমু দিতে
থাকে অমলেশদা পাগলের মতো সলজ্জ চাউনি
ছুঁড়ে বিজয়াদি নিজেকে সামলে নিয়ে বলে ওঠে,
" এ, কী হচ্ছে ,অমলেশদা ? এ কি হচ্ছে?"
বিজয়ের কথার কোন জবাব না দিয়ে বিজয়কে
এভাবে কাছে পেয়ে প্রচন্ড আদর করতে লাগল অমলেশদা । বিজয়াদির বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধরফর করতে লাগল । অমলেশের সাথে
এ পর্যন্ত তার প্রেমের এমন ঘনিষ্টতার কোনও।সিকোয়েন্স গ্ৰো না করলেও আজকের এই মুহূর্তের আকস্মিক সিকোয়েন্স থেকে বিয়ের
এ্যাপ্রোচের মুখোমুখি হয়নি সে এর আগে । কিছু
ভেবে উঠার আগেই অমলেশদা বিজয়াদিকে
আরও তীব্র গতিতে আঁকড়ছ ধরল । তারপর
বিজয়ের বুকের গোপন শরীর স্পর্শ করতেই
বিজয়াদির সারা শরীর জুড়ে এক অনাস্বাদিত
সুখানুভূতির পুলকে শিরায় শিরায় যেন অগ্নি স্ফুলিঙ্গের জ্বলন্ত প্রবাহ ছড়িয়ে পড়ল। বিজয়াদি অমলেশদার বাহু বন্ধনে বক্ষলগ্না
হয়ে ওর বিবশ শরীরটাকে ছাড়িয়ে নিতে চাইল
না এবার আর । জড়িয়ে ধরা অবস্থাতেই দ'জনে
ঢলে পড়ল বিছানায় । অমলেশদা যখন বিজয়াকে মুক্তি দিল তার কিছুক্ষণের মধ্যেই
ঝড়বৃষ্টির দুর্যোগ থেমে গেলো । বিজয়াদি মুক্তি
পেয়েই বিধ্বস্ত বেশবাস ঠিকঠাক করে মাথা নীচু করে ওয়াশরুমে গেলো । ওয়াশরুম থেকে
ফ্রেস হয়ে এসেই অমলেশদাকে নীচু গলায় বলল,
"বাইরে তেমন আলো নেই । এবড়ো থেবড়ো অন্ধকার । আমাকে আমার হোষ্টেল রুম অব্দি এগিয়ে দিতে হবে । বলেই একটা দীর্ঘশ্বাস
ফেলে দরজায় পা বাড়ালো । অমলেশদাও পেছন পেছন গিয়ে বিজয়াদিকে তার হোষ্টেল রুম পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে ফিরে এলো ।
রুমে ফেরার পর বিছানায় বসে বিজয়াদি
অন্য কিছুই আর ভাবতে পারছিল না । ঘুরে ফিরে বারবার তার মনের ভেতরে ভিড় করে আসছিল যে ঘটনাটা আজ অমলেশদার সাথে
হঠাৎই ঘটে গেলো, সেই ঘটনার সব কথা । হ্যা, ঘটনাটি তো ঘটলই সত্যি সত্যিই ঘটল। এর জন্য তার কাছে কি এ্যাক্সকিউজ আছে ? স্রূফ
দুর্ঘটনা বই তো নয় । ভাবতে পারছে না কিছু।
অজানা অস্বস্তিতে ছটফট করছিল সে । ভাবছিল আজকের ঘটনায় যদি তার সত্যিই
কিছু হয়ে যায় তাহলে তো মুখ দেখানোই
সম্ভব নয় । তাই বিজয়াদি মনে মনে ভেবে নিলো
যত দ্রুত সম্ভব অমলেশদার সাথে রেজিষ্ট্রী ম্যারেজটা সেরে নেবে । বিজয়াদি জানে যে তার বাবা মা তার সিদ্ধান্তে বাধা হয়ে দাঁড়াবেনা ।সে যে বাবা মায়ের এক মাত্র অত্যন্ত আদরের মেয়ে!
পরবর্তীতে তা পরিণয়ে পরিনতি পাওয়ায় বিশেষ করে আমি যারপর নাই খুশি হয়েছিলাম।
বিজয়াদির আশংকাই শেষে সত্যি হলো।
পরবর্তী কিছুদিনের মধ্যেই বিজয়াদির মধ্যে শারীরিক কিছু উপসর্গ উপলব্ধি করতে লাগলো।
অমলেশদাকে বলতেই একদিন বিজয়িদিকে নিয়ে গাইনো দেখালো । ডাক্তারবাবু যে টেষ্টগুলো দিলেন সেসব টেষ্ট করে জানতে পারল যে বিজয়াদির প্র্যাগনেন্সি গ্ৰো করেছে ।
অমলেশদা অনন্যোপায় হয়ে বিজয়াদিকে
এ্যাবর্সন করার প্রস্তাব দিলে সে তা এক বাক্যে নাকচ করে দেয় । মনে করিয়ে দেয় ,
"কেন অমলেশদা ? এ আমাদের দু'জনের বৈধ প্রথম সন্তান । তা ছাড়া তুমি তো আগেই বলেছিলে আমাকে বিয়ে করতে চাও ?"
অমলেশ বলল,
" হ্যা, বলেছি তো ! আমি কিছুই অস্বীকার করছিনা বা এ নিয়ে দায়ও অস্বীকার করছি না
তবে, নিজে স্বাবলম্বী না হয়ে তোকে বিয়ে করে
খাওয়াবো কী করে ? সেটাই বলতে চাইছি ।
"ওটা না হয় আমার উপরেই ছেড়ে দাও। বাবাকে বলে একটা না একটা চাকরীর ব্যবস্থা হবেই । তুমি একদম এনিয়ে ভেবো না ।"
"ফাইনাল 'একজাম' সামনের মাসেই । আমি বাড়িতে আমাদের রেজিষ্ট্রীর কথা বলে দিয়েছি।আগামী কালই আমরা রেজিষ্ট্রীটা সেরে ফলবো। তোমার কোন আপত্তি নেই তো এতে অমলেশদা ?"।
অমলেলদা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাতেই
কিভাবে আগামী কাল কোথায় রেজিষ্ট্রী হবে তার প্ল্যান করে ফেলল । সেই মতো পরদিন
অমলেশদা ও বিজয়াদির রেজিষ্ট্রী সম্পন্ন হয় ।
পরবর্তীতে এই কারণেই অমলেশদা ও বিজয়াদি কলেজ থেকে বেরিয়েই বেকার অবস্থাতেই সংসার পেতে ঘর বাঁধতে বাধ্য হয়েছিল । বিজয়াদির বাবা ছিলেন রাজাভাতখাওয়া টি গার্ডেনের নাম করা ও প্রতিষ্ঠিত ম্যানেজার । পরবর্তীতে ওই টি গার্ডেনেরই একটা অংশের মালিকানাও পেয়েছিলেন বিজয়াদির বাবা বিপ্লব বাবু ।
বিপ্লব বাবুই অগত্যা বেকার মেয়ে জামাইকে
ওই টি গার্ডেনেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন ।
আমি তখন উত্তর বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ।
মাষ্টার্স করেই পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয় আমাকে । ফলে একটা প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম হাইস্কুলে শিক্ষকতার চাকুরী জুটিয়ে
নিতে বাধ্য হই । সময় কালের ব্যস্ততায় এবং
দূরত্বের কারণে অমলেশদা ও বিজয়াদির সাথে
যোগাযোগটা পরবর্তীতে বেশ আলগা হয়ে পড়েছিল । মাঝে শুনেছিলাম বিপ্লব বাবুর সাথে
মত বিরোধ ঘটায় টি গার্ডেনের চাকরী দু'জনেই
ছেড়ে দিয়ে এসেছিল । অমলেশদা কিছু একটা করত আর বিজয়াদি বাড়িতে দু'চারটি টিউশন
করত। চোখের সামনে না থাকলে যা হয় ,কিন্তু
ওরা কখনই মনের বাইরে চলে যায়নি, হৃদয়ে থেকেই গিয়েছিল মনের টান ।
আজ সকালেই আমি যখন এই ঘটনাগুলো
একটা একটা করে পর পর সাজিয়ে একটি গল্প
লেখার জন্য মনোনিবেশ করছিলাম ঠিক তখনই আমি কেমন যেন মুহূর্তের জন্য ঘটনাগুলোর মধ্যে স্বপ্নের মতো প্রায় ঢুকে পড়তেই অমলেশ দাও যেন আমার মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো । আমরা দু'জনেই কথা বলতে বলতে সেই আগের মতো হোঃ হোঃ করে হেসে ওঠে তারপর বীভৎস চিৎকার করে উঠলাম ।সম্বিত ফিরে পেলাম যখন আমার স্ত্রী অলকা এসে আমার দুই কাঁধ ধরে সজোরে ঝাঁকুনি দিয়ে বলল,
"হ্যাগো, তুমি এভাবে হেসে ওঠে চিৎকার করে উঠলে যে ? তুমি কি তোমার সেই অমলেশদাকে দিবা-স্বপ্নে দেখলে নাকি !মুখে বিড়বিড় করছিলে আর অমলেশদা ও বিজয়াদির নাম বলছিলে । কি ব্যাপার বলতো?"
আমি বললাম,
"ঠিক বলেছ অলকা । হ্যা, তাই ।এই মাত্র অমলেশদা ও বিজয়াদির সাথেই কথা
হচ্ছিল স্বপ্নে "
অলকা আবার বলল,
"তুমি সত্যি সত্যিই ওদের এখনও ভুলতে পারোনি । তা পারবেই বা কেন ! ওই দাদার যে নজর কাড়া সুন্দরী বউ আছে না?
তাও আবার তোমার লেখায় তিনি অনুপ্রেরণা দিয়েছিল বলে কথা । যে অমলেশদাকে ভালো বন্ধু বলে ,সহযোদ্ধা বলে গর্ব করতে সেই দাদা
তো অনেকদিন আগেই ক্ষমতার কাজে আত্ম-
সমর্পণ করেছে। তুমি সে সব জানো না নাকি?
অমলেশদা ক্যানসারের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ায় শেষে তোমার বিজয়াদিও
নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে একই ভাবে ওই
ক্ষমতার কাছেই আত্মসমর্পণ ও আত্মহত্যা দুইই
করেছে ।"
" আত্মহত্যা ? অসম্ভব ।"
" সারা জীবন প্রতিবাদী থাকার স্বপ্ন নিয়ে
অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলে
শেষে কিনা চিরশত্রু ক্ষমতার কাছেই নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে নিজের সম্ভ্রমটুকুও বিকিয়ে দেওয়াকে আত্মহত্যা ছাড়া আর কি বলব প্রাণেশ বাবু ? এর চেয়ে মৃত্যু বরণও মর্যাদার ছিল ।"
অলকার কথাগুলো শোনা মাত্র একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস সজোরে আছড়ে পড়ল যেন । আমি বললাম,
" শুনেছিলাম অমলেশদার একটা বড় অসূ্খ করেছে । ব্যস, ওই টুকুই ।"
অলকা এবার বুঝিয়ে বলল,
" তোমার লেখা পত্তর গুটিয়ে রেখে পারো তো বন্ধু কাম দাদা দিদি বউদির খবর নাও ।তুমি
বরং আজকেই যাও , আজই যেহেতু স্বপ্নে দেখলে, তাই নিজের চোখে দেখে এসো । কেউই
তো সম্পর্কটা মুছে ফেলো নি, তাই বলছি ।"
সত্যিই অনেকদিন আমি ওদের কোন খবরই
রাখিনি । অমন পরিণতির কথা ভুলেও মনে আসেনি কখনও । কথা না বাড়িয়ে আমি আজই
বিকেলের দিকে অমলেশদার বাড়ি যাওয়া ঠিক করলাম । যথারীতি সন্ধ্যা নাগাদ অমলেশদার বাড়ি পৌঁছলাম । পথ থেকে দেখলাম পলেস্তারা
খসে পড়া সাবেকি আমলের সেই পুরনো বাড়িটাই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে । ঘরের
বারান্দায় একখানা মাদুর পাতা, তার উপর হ্যারিকেনের আলোয় কি যেনএকটা কাগজখন্ড মনযোগ দিয়ে পড়ছিল অমলেশদা ।
আমি বাইরে থেকেই ডাকলাম,
" অমলেশদা ? ও অমলেশদা ?"
আমার এক দু ডাকেই অমলেশদা হাতের কাগজ খন্ডটা আকড়ে ধরেই আমার দিকে ফিরে তাকালো ।
" আরে ! প্রাণেশ না ? আয় আয় ভাই । কি সৌভাগ্য আমার আজ ! আয় ,বোস ।"
অমলেশদা আমাকে পেয়ে যেন হাতে চাঁদ পেলো ।ভীষণ খুশি হলো আমাকে দেখে ।শীর্ণ
দীর্ণ চেহারায় ক্যানসার যেন ফুটে উঠেছে । সেই
পেটা শরীরটা অর্ধেক হয়ে গিয়েছে । হাতের আঙুলে ধরে থাকা কাগজটা দেখলাম ,ওটা আসলে অমলেলদার প্রেশক্রিপশন । আমি বারান্দায় উঠতেই হ্যারিকেনের আলোটা যেন
একটু কমে গেলো । আমার কথা জিজ্ঞেস করছিল আর হাপাচ্ছিল । আমি বললাম,
"কেমন আছো অমলেশদা ?"
"ভালো থাকার ভাগ্য কি আছে ভাই আমার ?একদম ভালো নেই রে প্রাণেশ ! আর নিতে পারছি না । একে তো অভাবের সংসার, তার উপর আবার আমার মারণ রোগের চিকিৎসা । কিছুতেই কিছু কুলোচ্ছেনা । এর থেকে মরে যাওয়াও ভালো ।আমি মরতে চাই প্রাণেশ ।"
অমলেশদা অকালেই বুড়িয়ে গিয়েছে ।মারণ রোগটা ওকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে। শেষ করে দিচ্ছে ওর সারা জীবনের সত্য
সুন্দর ভাবনা চিন্তাগুলোকে,নীতি নৈতিকতা আর মূল্যবোধকে । বললাম,
"কোনওদিন তো আমাকে তোমার জীবনের এই পরিণতির কথা বলোনি।।কেন বলোনি অমলেশদা ?".
" কী করে বলি প্রাণেশ ! আমি যে তোকে
কিছু না বলে কয়েই,না জানিয়েই বেঁচে থাকা আর চিকিৎসার তাগিদে গোপনে ক্ষমতার কাছে
আত্মসমর্পণ করে ফেলেছিলাম ।তাই তো তোর
মুখোমুখি দাঁড়াতে আমার সৎ সাহস হয়নি রে ।
জিজ্ঞাসা করলাম,
" বিজয়াদি মানে বউদি কোথায়?"
"আছে । আছে ও ভেতরেই আছে । একটু
বোস, ও এক্ষুনি আসবে । তোর গলা এতক্ষণে
শুনেছে হয়তো । ওর যা শ্রবণ শক্তি !"
আমি অমলেশদার সাথেই কথা বলছিলাম।
এমন সময় ভেতর ঘরে অদ্ভুত হাসাহাসির শব্দে
আঁতকে উঠলাম । অমলেশদার দিকে তাকাতেই
দেখি ওই হাসির শব্দে অমলেশদাও কেমন যেন
অপ্রস্তুতের মতো হলো ওর চোখ মুখ আরও বিমর্ষ হয়ে গেলো ।
আমরা যে ঘরের বারান্দায় বসে কথা বলছিলাম সেই ঘরের দরজা খুলে একজন
লোক গটগট করে বেরিয়ে গেলো ।সঙ্গে সঙ্গে
বাতাসে ছড়িয়ে গেলো অপূর্ব সুগন্ধি আতরের
সুবাস । এক নিমেষে আমার সারা জীবনের
শ্রদ্ধা ভক্তি কর্পুরের মতো উড়ে গেলো যেন ।
আমি কথা না বাড়িয়ে বললাম,
" আজ তা হলে উঠি অমলেশদা ? আর এক দিন না হয় আসব !"
কথা শেষ না হতেই বিজয়াদি মানে বউদি
ঘর থেকে ছুটে এসে আমার সামনে দাঁড়ালো
বলল,
"দাঁড়াও প্রাণেশ । কতক্ষণ এসেছো ?"
"এই তো একটু আগেই ।"
"একটু আগে এসেই এক্ষুনি যেতে চাইছ ?
একটু বসো । আমি চা করে আনছি "
" না, না ,না । আর চা নয় । আর একদিন আসব না হয় !"
আমি কথাটুকু বলে যেই পা বাড়াবো,ঠিক তখনই বিজয়াদি বউদি খপ্ করে আমার হাতটা
ধরে টেনে নিয়ে গেল ঘরে । বলল,
"বিছানায় বসো । জানি,তুমি আর কোনদিন আসবেনা এখানে । এসেই যখন পড়েছ আজ না হয় একটু চা খেয়েই যাও ।"
বললাম,
" না, চা খাওয়ার মুড যে এই মুহূর্তে আমার নেই বিজয়াদি মানে বউদি !"
" কেন, আমাকে ঘৃণা করছ ?"
কথা শুনে মনে হলো বিজয়া বউদি বুঝে
গিয়েছে যে আমি ওদের সব গোপনীয়তা ধরে
ফেলেছি । ওদের দেখে আজ যেমন রাগ হচ্ছে,
তেমনি ক্ষোভ হচ্ছে এমন কি সত্যি সত্যিই ঘৃণা হচ্ছে, আবার দুঃখও হচ্ছে। আমি ক্রোধ সংবরণ
করতে না পেরে চিৎকার করে বলে উঠি,
" হ্যা, হ্যা, আমি ঘৃণা করছি তোমাকে , ঘৃণা করছি তোমাদের দু'জনকেই । তোমাদের এই
পরিণতি দেখে ।
বিজয়াদি বউদি বলে উঠল,
" তোমরা কবি লেখকরা আর বিশিষ্ট বুদ্ধি-
জীবিরা সবাই একই রকম । শুধু সমালোচনা করবে ,লেখায় ঝড় তুলবে । মত ও পথের কথাও বলবে কিন্তু পথের ধুলোয় পা বাড়াবে না। দায় শুধু চাষী মজুর আর শ্রমিকের আর সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের । শ্লোগানে আর মিছিলেই সমাজ পাল্টাবে ?"
বিজয়াদি বউদির গলায় সেই কলেজ জীবনের বক্তৃতার ঝাঁঝটা এখনও যেন ঠিক আগের মতোই রয়ে গিয়েছে । শুধু গায়ে গতরে
একটু দারিদ্রের ছাপ পড়েছে ,চোখের নীচে সামান্য কালীর দাগও।, এই আর কি !
বিজয়াদি বউদি আমাকে বসিয়ে রেখে প্রথমে চট করে নিজের স্নানটা সেরে নিলো
বুঝতে পারলাম । তারপর এক কাপ ধোঁয়া ওঠা
গরম চা নিয়ে এলো আমার সামনে
বললাম,
"এই রাত্তিরে আবার স্নান করতে গেলে ?
অসুখ করবে না !"
কথা শুনে বিজয়াদি বউদি হাসল শুধু । সে হাসির মধ্যে উচ্ছ্বলতা না থাকলেও একটা অন্য
গভীরতা, অন্য একটা তাৎপর্য অবশ্যই ছিল । চায়ে চুমুক দিতে দিতে বললাম,
" লোকটি কে ?
"তা শুনে তোমার দরকার কি?"
" তবুও!"
" ওর নাম ? ওর নাম হচ্ছে ক্ষমতা । ব্যস ।
তোমার অমলেশদা আমার খুব ভালো স্বামী ।
আমার ভালোবাসার একমাত্র মানুষটার জন্যই
আমার এই সংগ্ৰাম প্রাণেশ ! মানুষটাকে যদি
শেষ পর্যন্ত একটু ভালো করে তুলতে পারি,
ভালো রাখতে পারি যত দিন বেঁচে থাকবে । এই আর কি ! ও না থাকলে যে আমার আর কেউ নেই প্রাণেশ ?"
" কেন, আমরা বেঁচে আছি না ? আমরা তো অনেকেই আছি "।
" জানি ।,তোমাদের তো নতুন চিনি না !
সেই কলেজ জীবন থেকেই তোমাকেও চিনি । জানি তুমি কোন ধাতুতে গড়া ! তোমাদের কাছে
আমরা দু'জনেই মৃত, প্রাণেশ ।"
জবাবে কিছু না বলে চায়ের কাপটা রেখে
ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলাম ঝড়ের বেগে । অমলেশদা তখনও সেই হ্যারিকেনের সামনে গুটিসুটি হয়ে মাথা নিচু করে ঠায় বসে আছে
বারান্দা থেকে পথে নামতেই অমলেশদার বাড়ি থেকে দু'জনের সমস্বরে চাপা কান্নার শব্দ
ভেসে এলো ।
আমি আর ফিরে না তাকিয়ে ছুটতে ছুটতে বড় রাস্তায় উঠে একটা অটো ধরে আমার বাড়ির কাছে এসে পৌঁছলাম । অটো থেকে নামতেই তোর্ষার জলে সেই অন্ধকারেই ছলাৎ করে একটা ভারী বড় শব্দহলো জলে । আমি আবার ছুটতে ছুটতে তোর্ষার তীরে এসে থমকে
দাঁড়ালাম । চোখের সামনেই একটা আস্ত বাড়ি ভিটেমাটি সমেত উত্তর ভেঙে পড়ল তোর্ষার জলে ।
তারপর স্রোতের টানে তোর্ষার জল যেন নিজের মতো করে বয়ে যেতে লাগলো ক্রমাগত...,।
মন্তব্য (০)
লগ-ইন করুন মন্তব্য করতে।