উইয়ে খাওয়া বইটা বইয়ের তাকের এককোণায় পড়েছিল। আমি খুব একটা হাত দিয়ে দেখিনি। হয়তো বাতিল করেই দিতাম। বা কাউকে দিয়ে দিতাম। কিংবা দিয়ে দিতাম কোনো লাইব্রেরিতে। কিন্তু প্রতিবারই মলাটের উপর নামটা দেখে আর দেওয়া হয়নি। বিমল মিত্র। সাহেব বিবি গোলাম, কড়ি দিয়ে কিনলাম, বেগম মেরী বিশ্বাস, একক দশক শতকের বিমল মিত্র। কিন্তু এই উপন্যাসের নাম তো শুনিনি। বিমল মিত্র এমন কোনো উপন্যাস লিখেছেন বলেও জানি না। আমার কাছে নানা হাত ঘুরে এই উইয়ে খাওয়া বই এসে না পৌঁছলে হয়তো কোনোদিন জানতামও না এই উপন্যাসের অস্তিত্ব। ইন্টারনেট, গুগল, উইকিপিডিয়া কোথাও এই উপন্যাসের সন্তোষজনক পরিচিতি পাওয়া যায় না। একদিন দুপুরে তাক থেকে পেড়েই ফেললাম। আর ওটাই কাল হল। শেষ না করে আর উঠতে মন চায় না। জানলা দিয়ে দিনের আলো প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। নিভন্ত আলোতে অত্যন্ত কষ্ট করে হলেও বইটা পড়ে যেতেই লাগলাম। উঠে আলো জ্বালতে যেতেও পারা যায় না।
এমন বই কেন যে ছাড়তে মন চায় না! গল্পের বুনন এমন কিছু নয়, লেখার বাঁধুনিই মারাত্মক। তার টানেই এই বই ছেড়ে ওঠা যায় না। কিছু উপন্যাস থাকে, যার প্রতিটি লাইনে ভাবনার রসদ থাকে। থাকে জীবনোপলব্ধি। এ তেমনই বই। আমারও এরকম কিছুই ভাললাগে। এক দুর্ভাগা আইরিশ মেয়ের দুর্ভাগ্যের গল্প। কি জানি কেন, মানুষকে দুর্ভাগ্যের শিকার হতে দেখলে আমার কেমন জানি মায়া হয়। এই গল্পের মুখ্য চরিত্র তেমনই মায়া কাড়ে।
বিমল মিত্রের কালজয়ী রচনাগুলির পাশে এ হয়তো তেমন কিছুই নয়। মধ্যে মধ্যে জীবনোপলব্ধি নিয়ে নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধগুলি গল্পের প্রবাহ ছেদ করেছে। প্রসঙ্গান্তরে নিয়ে গেছে। লেখনীর গুণে তা পড়তে ভালোই লাগে। কিন্তু উপন্যাসের খাতিরে তা গুণমানকে প্রভাবিত করে। ঠিক মনে হয় যেন সেগুলো পরে রচনা করা। হয়তো এই জীবনোপলব্ধিতে পাঠককে নিয়ে যাওয়াই তাঁর অভিসন্ধি ছিল। তাই হয়তো এই উপন্যাস রচনা করেছিলেন। তবে পাঠক হয়ে বলি, এটা না থাকলেও খুব ক্ষতি হত না। মোট কথা, আমার মনে হল, এটা একনিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মত একটা উপন্যাস। শুধুমাত্র এর শব্দশিল্পের জন্যই। রচনা এত প্রাঞ্জল যে কোথাও বাধা পেতে হয় না। এত মণিমুক্তো আমার তাকের কোণায় এতকাল রাখা ছিল, তা তো জানতামই না মোটে!

| বিষয় সংক্ৰান্ত | আমার মতামত |
|---|---|
| প্রকাশক | সাপ্তাহিক হিন্দুস্তান |
| প্রথম প্রকাশ | - |
| পৃষ্ঠা সংখ্যা | - |
| বইয়ের মূল্য | - |
| বাঁধাই | হার্ডকভার |
| প্রুফ রিডিং | ১০/১০ |
| বইয়ের ধরণ | উপন্যাস |
মন্তব্য (০)
লগ-ইন করুন মন্তব্য করতে।