আমার শার্সির গায়ে অসংখ্য জলরেখা
এই জল বৃষ্টির নয়,
তোমাকে হারানোর অসংবৃত অক্ষরের,
এই জলরেখা অবিশ্রান্ত, অবিরাম
তোমার কাছে ফেলে আসা নিবিড় রচনার।
আমি খুঁজছি তোমায় আকাশে, বাতাসে,
আমি খুঁজছি তোমার স্পর্শ, অনাবিল স্নেহ।
যদি বলি ফিরে এসো প্রিয়তমা একবার
জানি তা হবে অপার্থিব চাওয়া,
তোমার পায়ের নিচে পুড়ছি আমি
তোমার অসীম নীরবতায় খুঁজছি শান্তি
মনের আগল ঠেলে দেখছি তোমার জ্বলন্ত গর্ভদ্বার,
চোখের পাতায় ভাসছে তোমার জ্বলন্ত নাভিকুন্ড
আমি অনিচ্ছায় যেতে দিয়েছি তোমায়,
ভাসিয়ে দিয়েছি তোমার শেষ অস্থিভস্ম
গঙ্গা-কাবেরী-নর্মদার বুকে
তবু নীল জ্যোৎস্নায় খুঁজছি
তোমার চুল, বাহু, শ্রোণী, স্তন।
নিশ্বাস আটকে পেতে চাইছি
তোমাকে ছোঁয়ার শেষতম শান্তি,
অশ্রু মুছে শ্বেত অক্ষরে, রচনায় সাজাচ্ছি
দেবতার বাহুতে বেঁধে থাকার অন্তিম সজ্জা
আর তোমাকে দেওয়া আমার
শেষ লাল গোলাপের রক্তিম ছোঁয়া,
স্নায়ুস্রোতে বইছে তোমার ঠোঁটে
মিলিয়ে নেওয়া আমার শেষ চুম্বনস্পর্শ,
কাঁপছে আমার পান্ডুগাল,
শীর্ণ হচ্ছে অবারিত জলস্রোত।
তুমি মুছিয়ে দিচ্ছ আমার অপূরণীয় রক্তিম ক্ষত
তুমি ছড়িয়ে দিচ্ছ আমার জীর্ণ, ক্লান্ত, আন্দোলিত পথে
একমুঠো মাটি আমাকে বাঁচানোর প্রবল আশ্বাসে,
তুমি মুছিয়ে দিচ্ছ নিদ্রাহীন শিয়রের তমিস্রা
শ্লথ, আলোকিত স্নেহ লতার উষ্ণ অলিঙ্গনে।
আমি শিশুর মতো মাথা রাখছি
তোমার অবিনশ্বর আত্মার বুকে
কাঁপা আঙুল বেয়ে নেমে আসছে শব্দস্রোত
আমি লিখছি , আমি ভাবছি
আমি ছুঁয়ে থাকছি তোমাকে ফেলে আসা অতীত
গভীর তপস্যার মতো .......
মন্তব্য (০)
লগ-ইন করুন মন্তব্য করতে।