চিত্তরঞ্জন মৃধার জন্ম ৫ মে ১৯৬৫ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন অঞ্চলের গোসাবা থানার অন্তর্গত এলাকায়। শৈশব ও কৈশোরের সেই প্রকৃতি, জনজীবন এবং মাটির কাছাকাছি থাকা অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যভাবনার ভিত গড়ে দিয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার পর, ১৯৮৩ সাল থেকে তাঁর নিয়মিত লেখালেখির সূত্রপাত। দীর্ঘ কয়েক দশকের সেই সাহিত্যযাত্রা আজও অব্যাহত।
বহু বছরের সৃষ্টিশীলতায় তাঁর কলমে উঠে এসেছে পাঁচ শতাধিক কবিতা, ২৫টির বেশি ছোটগল্প, ২০টিরও বেশি গীতিকবিতা, ৮০টির বেশি ছড়া, ১৫টির বেশি পত্রসাহিত্য এবং শতাধিক অণুকবিতা ও গদ্যকবিতা। সাহিত্যসৃষ্টির এই বৈচিত্র্য তাঁর লেখালেখির বিস্তৃত পরিসর ও নিরন্তর সৃজনপ্রবণতার পরিচয় বহন করে।
নব্বইয়ের দশকে তিনি নিয়মিত লিখেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। দীর্ঘদিনের সাহিত্যচর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পত্রপত্রিকার পক্ষ থেকে তিনি স্মারক ও সম্মাননাপত্র লাভ করেছেন।
বর্তমানেও অফলাইন ও অনলাইন—দুই মাধ্যমেই তাঁর লেখালেখি নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি লেখনি সাহিত্য পরিষদ, বিনোদন সাহিত্য পত্রিকা, বিক্ষুব্ধ বর্ণ সাহিত্য পত্রিকা, খিচুড়ি সৈকতে সাহিত্য পত্রিকা, আন্তর্জাতিক গঙ্গা-পদ্মা সাহিত্য পত্রিকা, দেশ পত্রিকা, বনলতা সাহিত্য একাডেমী (শিশুতোষ বিভাগ), সহযাত্রী পত্রিকা এবং বিশ্ব দর্পণ সাহিত্য পত্রিকা-সহ বিভিন্ন সাহিত্যপরিসরের সঙ্গে যুক্ত। কলকাতা বইমেলার ২০২৫, ২০২৬ ও ২০২৭ সালের সংকলনেও তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
সুন্দরবনের মাটি ও মানুষের জীবনবোধ থেকে উঠে আসা অনুভূতিকে বহুমাত্রিক সাহিত্যরূপ দেওয়াই চিত্তরঞ্জন মৃধার দীর্ঘ সাহিত্যযাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কয়েক দশক পেরিয়েও তাঁর কলমের এই নিরন্তর পথচলা বাংলা সাহিত্যচর্চার প্রতি তাঁর গভীর নিষ্ঠা ও সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসারই পরিচায়ক।