মনের গোপন কোনো বাসনা আর অন্ধকারের এই ভয়ংকর খেলার শেষ কোথায়?

"সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখে ছিলেম আমার সর্বনাশ"—এই পংক্তিটা যেন ময়ূরাক্ষীর বুকের ভিতরে একটা আলোড়ন সৃষ্টি করছিল। রাত বারোটার ঘণ্টা বেজে উঠতেই কাটল বাকি ঘোর। ঘরের মধ্যে জ্বলে থাকা একমাত্র লাল নাইট ল্যাম্পের আলোয় ঘরের আনাচে-কানাচে অন্ধকারের প্রভাব যেন আরও বেড়ে গেছে। অনেকক্ষণ থেকে নিজের নরম বিছানায় শুয়ে ছটফট করছে সে। পরনে একটা সাদা নাইট ড্রেস, যা হাঁটুর কাছে এসে শেষ হয়েছে; চুল খোলা, উসকোখুসকো। মুখে বিড়বিড় করে কিছু বলার চেষ্টা করছে।

নিজের দেহটাকে অনেকক্ষণ থেকে মুক্ত করতে চেয়েও যেন পারছে না ময়ূরাক্ষী। বারবার মনে হচ্ছে ও একা নয়, ওকে বিছানায় প্রায় আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে অন্য একটা শরীর, যা আপাতত তার বুকের ওপরে চেপে তার ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে। নিজেকে এতটা অসহায় সে আজ অবধি কোনো দিন ভাবেনি। এভাবে কতক্ষণ আর শুয়ে থাকতে হবে, ময়ূরাক্ষী জানে না। ওদিকে বিছানার নিচ থেকে শব্দটা যেন আরও বেশি গাঢ় হয়ে এগিয়ে আসছে।

‘ও... ওটা নখের আঁচড় না?’

শুয়ে শুয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করল ময়ূরাক্ষী। যদিও কথা বলার ক্ষমতা সে হারিয়েছে। এখন শুধু অসহায়ের মতো এই বিছানায় শুয়ে শুয়ে বিছানার নিচের ওই বিভীষিকাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে সে।

আবার শব্দটা ভেসে আসতেই চমকে উঠল সে। কিন্তু এ কিভাবে সম্ভব! ঘুমোতে যাওয়ার আগে তো অনেক ভালোভাবে খাটের নিচ, দরজার পিছন, রান্নাঘরের দরজা আর বারান্দার দরজা এঁটে, ভালোভাবে সবটা অনুসন্ধান করেই তবে সে ঘুমোতে গিয়েছিল।

ডা. মিত্রের দেওয়া ওষুধটা—ওই তো, পড়ে আছে বিছানার পাশের টেবিলের ওপরে কাত হয়ে। ঘুম ভাঙতে একবার হাত বাড়িয়ে ওটা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে, কিন্তু পারেনি। সেই পুরনো অসুখটা নতুন করে আবার চাগাড় দিয়ে উঠেছে ওর শরীর জুড়ে। ডাক্তার বলে স্লিপ প্যারালাইসিস, কিন্তু সে জানে ওটা স্লিপ প্যারালাইসিস না। ওটা অন্য কিছু। নিজের শরীরের ওপরের ওই ভারটা যে কেবল স্লিপ প্যারালাইসিস না, তা সে ভালোই জানে। কিন্তু ওটা কী?

চমকে উঠল ময়ূরাক্ষী। এখন খাটের নিচের ওই নখের আঁচড় সম্পূর্ণ থেমে গেছে, আর তার পরিবর্তে একটা কালো মতো ছায়া খুব ধীরে ধীরে খাটের নিচ থেকে বেরিয়ে এসে উল্টো দিকের দেওয়ালে ধীরে ধীরে নিজের পরিধি বিস্তার করতে শুরু করেছে।

‘ওটা কী?’ প্রশ্নটা আবার করল ময়ূরাক্ষী। ওর তো একটা মাথা আছে না? আর ওই তো—একটা শরীর, কাঁধ অবধি দেখা যাচ্ছে।

দেওয়ালে থাকা আয়নাটার দিকে চোখ ঘোরাতেই চমকে উঠল ময়ূরাক্ষী। আয়নায় এই মুহূর্তে ভেসে উঠেছে ওই আবছা কালো মুখ, তার জ্বলন্ত হলদেটে দুটো চোখে এখন কেবল লালসা, ঠোঁটের অনেকটা লাল আর নিজের সাদা দাঁত বার করে সে যেন চওড়া হাসি হাসছে। ওই ঠোঁটে লেগে থাকা হাসিটা স্বাভাবিক নয়, যেন হিংস্রতা আর লালসার এক অদ্ভুত মিশ্রণ।

“আহ!” গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল ময়ূরাক্ষীর। শরীরের ওপরের চাপটা যেন আরও বেড়ে গেছে। বুকের ভিতর থেকে একটা দলা পাকানো ভয় ঠেলে বেরোনোর চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না... ও পারছে না চিৎকার করতে। 'শিরশিরে এক অনুভুতি।

এবার সব চুপ। আয়নার দিকে আবার তড়িঘড়ি তাকাল ময়ূরাক্ষী। কী সর্বনাশ, মুখটা আর ওখানে নেই! এতে যেন তার ভয়, তার আতঙ্ক দ্বিগুণ বেড়ে গেল। হঠাৎ করেই ঘরের নিস্তব্ধতাকে খানখান করে দিয়ে আবার সেই নখের আঁচরের শব্দটা ভেসে এল। কিন্তু... কিন্তু এবারে আরও কাছে, ঠিক তার কানের কাছে। বিছানার পাশে থাকা কাঠের হাতলে নখ দিয়ে আঁচড়াচ্ছে ওই বিভীষিকা। অন্ধকার ঘরে এখন সম্বল একটাই—ওই লাল নাইট ল্যাম্পটা। সেটা এখন ধিকিয়ে ধিকিয়ে জ্বলছে। যেন ওর মেয়াদ আর বেশিক্ষণ নেই।

ঠিক যা ভেবেছিল, তাই। কয়েকবার চিড়চিড় শব্দ করে খাবি খেয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল ওটা, আর সাথেই সারা ঘর ঢেকে গেল অন্ধকারের এক নিশ্ছিদ্র চাদরে।

এবার ও একা, সাথে সেই বিচিত্র শব্দ। হঠাৎ মনে হলো, ঘরে সে কি সত্যি একা?

তাকে অবাক করে দিয়ে ঘরের মধ্যে যেন কেউ হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে। খুব হালকা সে পায়ের শব্দ। এসবের মাঝেও সামান্য হাসার চেষ্টা করল সে। আজ যদি কোনোভাবে বেঁচে যায়, তবে কাল ডা. মিত্রকে জিজ্ঞাসা করবে—ওই পায়ের শব্দের উৎসও কি ওর স্লিপ প্যারালাইসিস?

বাইরে থেকে চাঁদের আলো এসে দেওয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে এখন। আর সেই আলোতেই পায়ের কাছ থেকে একটা কালো শরীরকে ধীরে ধীরে ওপরে উঠে আসতে দেখল সে।

সাথেই হৃদপিণ্ডটা যেন দ্বিগুণ বেগে লাফিয়ে উঠল। যেন এক্ষুনি ওটা পাঞ্জরের হাড় ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসবে। উফ, আবার সেই বিকট চাপ! কেউ যেন সারা শরীরটাকে পিষে দিতে চাইছে।

নিজেকে মুক্ত করার অনেকবার চেষ্টা করেও যখন অসফল হলো, ঠিক তখন কানে ভেসে এল সেই হালকা কণ্ঠস্বর— “সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখে ছিলেম আমার সর্বনাশ।”

চমকে উঠল ময়ূরাক্ষী। এ তো তার বড্ড প্রিয় দুটো লাইন! পাশের আধখোলা বইটার দিকে তাকাতেই চমকে উঠল—ওটা এখন শূন্যে ভাসছে! একের পর এক পাতা উল্টে চলেছে কেউ।

“ময়ূরাক্ষী...” আবার সেই কণ্ঠস্বর, “আমাকে চিনতে পারো মৌ? আমি তোমার সেই অতীত, যাকে ভুলতে চেয়ে ডা. মিত্রের সাহায্য নিয়েছ, সেই অতীত।”

এই হিসহিসে কণ্ঠ তার বড্ড চেনা। কুঁকড়ে উঠল সে, যেন প্রচন্ডভাবে একটা নাম মুখে আনার চেষ্টা করেও অসফল হচ্ছে।

“চেষ্টা করো মৌ, পারবে। বল অ-নি-মে-শ! তাই তো?” ‘হ্যাঁ, এই নামটাই... কিন্তু আজ এতদিন পরে কীভাবে?’ “কেন মৌ, আসতে পারি না?” ‘না... না, আসবে কীভাবে ও! হ্যাঁ? ও তো...’ “ও কি? মরে গেছে?” হেসে উঠল ওই অবয়ব। অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল যেন।

তারপরেই হাসি থামিয়ে তার শরীরে একটা আলতো হাত বোলাল। সামান্য কেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী। তারপর কানের একেবারে কাছে মুখ নামিয়ে বলল, “এই শরীরটার প্রেমে পড়েছিলাম আমি, তাই না ময়ূরাক্ষী? তুমি জানতে আমি তোমাকে ভালোবাসতাম। আচ্ছা, তুমি কি আমাকে ভালোবাসতে না? তবে আমাকে সেদিন কিভাবে তুমি সেদিন...”

আবার সেই আঁচড়ের শব্দ কানে ভেসে এল। এবারে সাথে সাথে সেই অট্টহাসির শব্দ। ওই যে, শুনতে পাচ্ছ ময়ূরাক্ষী? ও ডাকছে। তুমি যাবে না ওর কাছে?

কিছু বলার চেষ্টা করতেই ওর মুখটা চেপে ধরল অবয়বটা। তারপর ওর মুখের খুব কাছে মুখ নামিয়ে আনল। একটা দীর্ঘদিনের বাসি-পচা বিশ্রী গন্ধ নাকে আসতেই গাটা যেন গুলিয়ে উঠল ওর। ধীরে ধীরে মুখটা নেমে এল ময়ূরাক্ষীর একেবারে কাছে। সে ফিসফিসিয়ে বলল, “আমাকে মুক্ত করো ময়ূরাক্ষী। আমাকে মুক্তি দাও।”

কেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী। সে দেখল, অবয়বটা ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে ওর শরীরের ওপর থেকে।

হঠাৎ সব শান্ত। শুধু বিছানার নিচের সেই কড়কড়-ঘসঘস শব্দটা এখনও হয়েই চলেছে। বুকের ওপর থেকে চাপটা হঠাৎ করেই নেমে যেতেই অবসন্ন হাত-পা কিছুটা জড়তা কাটিয়ে চুপচাপ শুয়ে থাকল বিছানায়। একটা কিছু যেন দলা পাকিয়ে গলার কাছে জমা হয়েছে-কান্না!

নিজেকে আর সামলাতে পারছে না সে। এক্ষুনি যেন সব বাঁধ ভেঙে আছড়ে পড়বে সেই দলা পাকানো অনুভুতিতা।

দুহাত দিয়ে নিজের মুখ ঢাকল ময়ূরাক্ষী এবং তীব্র কণ্ঠে... হেসে উঠল সে!

না কাঁদছেনা তো! হাসছে ময়ূরাক্ষী, অট্টহাসি হাসছে। সে যতই হাসছে, খাটের নিচ থেকে সেই শব্দটা যেন আরও সচল, আরও তীব্র হয়ে উঠছে। একসময়ে নিজের হাসি থামিয়ে বিছানার ওপরে উঠে বসল ময়ূরাক্ষী। তারপর বালিসের নিচ থেকে বের করে আনল একটা মাংস কাটার বিশাল চওড়া ছুরি। নিজের বুকের মাঝে আঁকড়ে ধরল সেটাকে।

খুব ধীরে ধীরে, প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে খাটের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে কান পেতে শব্দটাকে ভালোভাবে শোনার চেষ্টা করল। হ্যাঁ! ওই তো নখের আঁচরের সাথে সাথে একটা গোঙানির শব্দ ভেসে আসছে না?

নিজেকেই প্রশ্ন করল সে। নিজের নিঃশেষ হয়ে আসা সাহসকে সঞ্চয় করে মাথাটা নামিয়ে আনল বিছানার নিচে। কাঁপছে, প্রচণ্ড উত্তেজনায় কাঁপছে ময়ূরাক্ষী। ও... ও কে?

মাথাটা তুলে একটা লাফ দিয়ে বিছানার নিচে মাটিতে পড়ল সে। তারপর হিড়হিড় করে বিছানার নিচ থেকে টেনে আনল দুটি পা।

কিন্তু একি! এ তো মৃত নয়! একটা রক্তমাংসের জলজ্যান্ত মানুষ। শুধু তার শরীরে খুব কম বস্ত্র। কিন্তু হায়, তাকে দেখে একটুও চমকাল না কেন ময়ূরাক্ষী?

চমকাবে কেন? ও তো তারই শিকার! হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিটি এখন ছটফট করে ব্যক্ত করছে তার অত্যাচারের কাহিনী। তার সারা শরীরে আঁচড়ানোর আর কামড়ানোর দাগ। তার ঘাড়ের কাছে জমাট বেঁধে আছে কালচে রক্তের ছোপ।

তার পাশে অবলীলায় শুয়ে পড়ল ময়ূরাক্ষী। তারপর কানের কাছে মুখ এনে বলল, “দেখলেন তো, অ-নি-মে-শ আছে। একটু আগে ও কেমন আমার কাছে এসে আমাকে অবস করে আমার ওপরে অত্যাচার করল। ও আছে, ও রোজ আসে, আমাকে বলে ‘মুক্তি দাও... মুক্তি দাও’।”

একটা চিটচিটে হাসিতে মেতে উঠল ময়ূরাক্ষী। “দেব তো মুক্তি! তবে জানেন তো, আমার ওই খালি ঘর আর খালি ফ্রিজ একদম ভালো লাগে না। আমার রক্তের আর মাংসের গন্ধ খুব প্রিয়। আমি রোজ একবার অনিমেশকে দেখে আসি। অ-নি-মে-শ, ওভাবেই সহস্র টুকরোতে ভাগ হয়ে পড়ে আছে ফ্রিজের ভিতরে কালো প্যাকেটে মুড়ে। একেবারে ওপরের সেলফে আছে ওর মাথাটা। না... ওটা আমি যত্ন করেই রেখেছি। ওটা আমার দেখতে দারুণ লাগে। রোজ যখন একটু একটু করে ওতে পোকারা বাসা বাঁধে আর কূড়ে কূড়ে খায়, তখন আমার ওই পোকার ওই কুটকুট শব্দটা শুনতে বেশ লাগে। আমি দীর্ঘক্ষণ ওখানে বসে থাকি জানেন। আর রোজ রাতে যখন অনিমেশ মুক্তি চাইতে আসে, তখন আমার খুব দুঃখ হয়। তবে আজ আমি ওকে মুক্তি দেব। অ-নি-মে-শের টুকরোগুলো ফেলে আসব অনেক দূরে, শহর জুড়ে। আর সেই জায়গায় রাখব আপনাকে, কী খুশি তো, ডা. মিত্র!”

ডা. মিত্রের শরীরটা ভয়ে কেঁপে উঠল। “কী বলছে এই মেয়েটা! কাল অব্দি ও আমাকে নিজের ভয়ের চিকিৎসা করতে এখানে এনেছিল আর আজ আমাকেই ও... শুধু একটু ভুল করে বসেছিলাম আমি, ওর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ওকে ভোগ করতে চেয়েছিলাম। হে ঈশ্বর, আমি বুঝতে পারিনি—আমার মতো একজন পোড় খাওয়া মানসিক রোগের ডাক্তার আজ অসহায় হয়ে গেছে ওই জল্লাদের কাছে।”

আর ভাবতে পারলেন না ডা. মিত্র। কারণ ময়ূরাক্ষী তার সেই মাংস কাটার ছুরিটা বের করে এনে ধরেছে ডা. মিত্রের গলার কাছে। প্রচণ্ড জোরে ছটফট করে উঠলেন তিনি। বাঁচার লোভে মরিয়া হয়ে আরও জোরে গোঙাতে লাগলেন। কিন্তু না, ছুরিটা একটা স্থানে ঠেকিয়ে ময়ূরাক্ষী বলল, “কাল আমাকে আদরে ভরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন না ডা. মিত্র? আমি আপনাকে তো সেই সুযোগই করে দিচ্ছি। কাল থেকে রোজ রাতে আমার ঘরে আপনি আসবেন আর আমাকে আদর করে বলবেন—‘আমাকে মুক্তি দাও মৌ, আমাকে মুক্তি দাও।’”

কথাটা বলেই হাতের ছুরিটা, যাতে এখনও লেগে আছে মাংসের টুকরো আর চামড়া, সেটার ওপরে সামান্য চাপ দিতেই একটা গোঙানির সাথে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এল। সাথেই ডা. মিত্রের চোখ যেন ঠিকরে বেরিয়ে এল, কিন্তু জীবনের শেষ আর্তনাদটা বেরিয়ে আসতে গিয়েও বাধা পেল মুখের বাঁধনে।

ডা. মিত্রের শেষ হলো, কিন্তু আজ মুক্তি পেল অনিমেশ। অনিমেশকে কাল পাওয়া গেল শহরের বিভিন্ন ভাগাড়ে একটা পচাগলা মাংসের টুকরোর মতো করে। তার শরীরে সহস্র কীটের বাস, তার অস্তিত্ব এখন বিলুপ্ত।

“আজ শহরের বিভিন্ন ভাগাড় থেকে উদ্ধার হয়েছে একজন মানুষের ক্ষতবিক্ষত দেহ।” ঘরের এককোনে রাখা টেলিভিশন থেকে ভেসে আসছে সংবাদমাধ্যমের তাজা খবর।

ওদিকে নিজের প্রিয় রান্নাঘরে তখন নিজের হাতে টুকরো হয়ে চলেছে ডা. মিত্র। রক্তে আর মাংসে রাঙা অ্যাপ্রনে খুব সেজেছে ময়ূরাক্ষী। সবশেষে খুব সযত্নে ডা. মিত্রের মাথাটা নিজের দুহাতে নিতেই বাইরে দরজায় টোকা পড়ল।

“ম্যাডাম, আপনার পার্সেল আছে।” একটু হেসে মাথাটা ফ্রিজের একেবারে ওপরের সেলফে যত্ন করে তুলে রেখে রক্তমাখা অ্যাপ্রনটা রান্নাঘরের এককোণে খুলে রেখে এগিয়ে গেল আয়নার দিকে।

নিজেকে যতটা সম্ভব গুছিয়ে নিয়ে একটা মায়ামাখা জড়ানো কণ্ঠে উত্তর দিল সে, “দরজা খোলা আছে, ভিতরে আসুন।”

বাইরে আকাশে এক উজ্জ্বল চাঁদ উঠেছে। বাগান থেকে ভেসে আসছে জুঁই ফুলের কড়া সুবাস। আজ আবার এক সুন্দর মায়াময় রাত। এমন এক রাতে একটা সঙ্গী না হলে কি চলে?

একটা খসখসে ঝিম ধরানো কণ্ঠে ময়ূরাক্ষী গেয়ে উঠল, "সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখে ছিলেম আমার সর্বনাশ!"