কবে যে শৈশব ছিল!

সূর্য ওঠা ভোরের সকাল।

বিন্দু বিন্দু শিশির ঘাসে ঘাসে

ঝরা শিউলি সুবাস ছড়াতো।

ধীর সমীরণ হিমেল বাতাসে

মন ভরে যেতো আনন্দ উচ্ছ্বাসে।

সেদিনের লাল সূর্য মিঠে রোদ মসৃণ সকাল।

জীবন সায়াহ্নে আজ হয়েছে আকাল।

দল বেঁধে পায়ে হেঁটে

বই সিলেট সজ্জিত ব্যাগে

চলতাম পাঠশালা মন নিরুদ্বেগে।

ছুটির ঘন্টা বাজলে হৈ চৈ করে

যে যার ঘরে যেতাম ফিরে।


প্রেমের সৌরভ ভরা লাজুক কৈশোর মনে

প্রস্ফুটিত পদ্ম যেনো মানস সরোবরে।

মৌমাছি রা ডানা মেলে

অরূপ ঝংকারে।

সেদিনের স্বপ্ন ছিল

সেপলা মাধবীলতা

রথের মেলা য় তালপাতার বাঁশি।

স্মৃতি চারণে মন ভারাক্রান্ত হয় হৃদয় উদাসী।


মনে পড়ে চৈতি গাজন মেলা

ফাগুনের হোলি খেলা

শরৎ হাওয়ার দোলা

ভেসে যায় সাদা মেঘ

যেনো অভিসারে।

দুর্গা র আগমনি সুর

ঢেং কুড় কুড়, ঢেং কুড় কুড়

বীরেন্দ্রের চন্ডিপাঠ মহালয়া ভোরে।

মায়ের আঁচল ছুঁয়ে

আবদার জানিয়ে

কত কথা বলে যেতাম

ইনিয়ে বিনিয়ে।

আজও সকাল হয়

দিন হয় রাত

সকালে সূর্য ওঠে

রঙিন প্রভাত।

তবু ও উদাস মন

একাকি বিজনে।

অতীত ঘুরে ফিরে আসে

স্মৃতি পড়ে মনে