হে দেবীনয়নী, তব দর্শনে জাগে মম প্রাণ;
যেন সান্ধ্য-অম্বরে জ্বলে অনন্ত প্রেমের আলোক।
তব সুখসম্ভার লভুক চিরদিন দিব্য ত্রাণ;
মম ভাগ্যে থাকুক শুধু বিরহ-বিধুর শোক।।
করকমলে তব ফুটুক সুধাময় শুভ বিকাশ;
অন্তরে মম রণিত হউক নিঝুম দহন-ব্যথা।
তব জীবনপথে বর্ষুক মধুর মাধুরী প্রকাশ;
মম রজনী কহিয়া যাক নিবিড় তমসা-কথা।।
চক্ষে তব স্বপ্ন আঁকুক শান্ত নীল গগন;
চিত্তে মম নামুক ঘন ক্লেশময় নিশা।
তব হাস্য বহুক অনুপম মঙ্গল-স্বপন;
মম প্রাণে সঞ্চরুক চিরন্তন প্রেমদিশা।।
সবই তব অধিকারে – প্রেম, প্রভা, পুণ্যধারা।
কিন্তু ত্বমেব মম এই একান্ত হৃদয়-সহচরা।।
উৎসর্গ : যাঁহার নিঃশব্দ সান্নিধ্যের অলক্ষ্য অনুরণন হৃদয়ের নিভৃততম প্রদেশে অনুভূতির যে অনাহত নিনাদ জাগ্রত করিয়াছে, যাঁহার মূক উপস্থিতির মৃদুতম স্পন্দন কল্পনার সুপ্ত কুসুমদল উন্মীলিত করিয়া এই কাব্যের প্রতিটি পঙ্ক্তিকে সৃজনের অমৃতস্পর্শে সঞ্জীবিত করিয়াছে—সেই অনিন্দ্যসুন্দরী 'চিরন্তনী'র শ্রীচরণকমলে এই কাব্যকুসুম সশ্রদ্ধ প্রণতি ও অকৃত্রিম অনুরাগসহ নিবেদিত।
মন্তব্য (০)
লগ-ইন করুন মন্তব্য করতে।