মনিপাল হসপিটালের এমার্জেন্সি ওয়ার্ডের করিডোরটা আইসোলেশন ওয়ার্ডের চেয়েও যেন খুব ঠান্ডা বোধ হচ্ছে আজ। পায়ের নিচ দিয়ে চলে গেছে স্ট্রেচারের চাকার ছোপ ছোপ কালচে দাগ। নীল রঙের ওটি ড্রেসে নার্সগুলো যেন একরকম যান্ত্রিকভাবে ছুটোছুটি করছে। ওটির মাথার ওপরের লাল আলোটা যেন মনে হচ্ছে একটা জ্বলন্ত রাক্ষুসে চোখের মতো একটানা তাকিয়ে আছে অয়নের দিকে।
অয়নের শার্টের হাতা ছিঁড়ে গেছে, সেখানেও রক্তের দাগ। মাথায় যখন কারোর আকাশ ভেঙে পড়ে তখন বাহ্যিক জ্ঞান কারই বা থাকে। কে মরল কে বাঁচল ছেড়ে মানুষ সেই মুহূর্তের নিস্তব্ধতা টাকেই বুঝতে চায়। ওর স্ত্রী, নীলাঞ্জনা, ওই বন্ধ দরজার ওপাশে। হঠাৎ একটা বেপরোয়া লরির ধাক্কা... তারপর সব শেষ হতে এক সেকেন্ড সময় ও লাগেনি।
হঠাৎ যেন লাল আলোটা নিভে গেল। রাক্ষস টা আর নেই। অদ্ভুত শান্তি বিরাজ করছে। খুট করে একটা শব্দে চমকে উঠল অয়ন ব্যানার্জী। উৎস লক্ষ্য করে দেখল, ভারী কাঁচের দরজা ঠেলে বেরিয়ে এলেন ডক্টর সেনগুপ্ত। মুখে মাস্ক, গ্লাভস পরা হাত দুটো ঝোলানো। মাস্কটা চিবুকের কাছে নামিয়ে অয়নের দিকে তাকালেন তিনি। চোখে কোনো অভিব্যক্তি নেই, শুধু একটা শূন্যতা। এটার কারণ জানে সে।
-আই অ্যাম সরি... মিস নীলাঞ্জনা আর নেই।
-নীলাঞ্জনা.. আর নেই… মানে.. কি বলছেন আপনি?
কথাটা করিডোরের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ইকো হতে হতে একটা তীব্র যান্ত্রিক বিপ শব্দের সাথে মিশে গেল।
-নী.. নীলাঞ্জনা... আর নে.. নে ই…মানে টা কি… বিড়বিড় করে উঠল অয়ন। একটা প্রবল জার্ক। কোথায় যেন হারিয়ে গেল কথা গুলো। শুধু কানে এখনও ইকো হচ্ছে।
ধড়মড় করে মাথা তুলল অয়ন। উফফ কি যন্ত্রণা হচ্ছে ভেতরটা। চোখের সামনেটা বনবন করে ঘুরছে। ঘাড়ের কাছটা মনে হলো ঠান্ডা ঘামে জবজবে হয়ে আছে । হঠাৎ করেই যেন হাসপাতালের সাদা আলোটা জাদুমন্ত্রের মতো উধাও, চারিদিক টা ঘোলাটে। তার বদলে চোখে এসে বিধছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড কোয়ান্টাম রিসার্চ এর ল্যাবের মায়াবী একটা নীল আলো। রাত তখন আড়াইটে কি তিনটে হবে।
সামনে দাঁড়িয়ে ওর কো-রিসার্চার শুভ। হাতে একটা গ্লোয়িং ডেটা-প্যাড। শুভর ঠোঁট নড়ছে।
- নীলাঞ্জনা আর নেই ওই একই কথা বলে যাচ্ছে ও এখনো? অয়নের তখনো পুরো সেন্স ফেরেনি। ঘুম, ট্রমা আর স্মৃতির হ্যাংওভার আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে ওকে। ল্যাবের এসি-র আওয়াজটাও যেন হসপিটালের ভেন্টিলেটরের মতো লাগছে।
শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া গলায় অয়ন অস্ফুট স্বরে জিজ্ঞেস করল, -কী... কী বললি তুই? কী নেই?
শুভ ডেটা-প্যাডের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে বিরক্তি আর উত্তেজনা মিশিয়ে বলল, -আরে ভাই, ঘুমের ঘোর থেকে বেরো! বললাম, নিল-অ্যানোমালির জোনটা আর নেই! আমাদের লাস্ট কোয়ান্টাম টাইম-সিমুলেশনে জিরো-পয়েন্টের পর যে ফ্ল্যাকচুয়েশনটা আসছিল... সেই নিল-অ্যানোমালির জোনটা আর নেই! রেজাল্ট স্টেবল!
অয়ন চোখ বন্ধ করে একটা লম্বা শ্বাস নিল। ঠোঁটের কোণে একটা ছোট্ট হাসি খেলে গেল। সে বলল, -এবার থাকবে.. সব থাকবে..
গঙ্গার ভেজা ঠান্ডা হাওয়া আর চারিদিকে বাস ট্যাক্সির দূরন্ত হর্নের শব্দ, সব মিলিয়ে প্রিন্সেপ ঘাট জায়গাটা চিরকালই কাপল দের জন্য যেন একটা আলাদা মায়া তৈরি করে রাখে। সাদা গ্রিকমার্কা পিলারের আশেপাশে ছড়ানো-ছিটানো অজস্র ছেলে মেয়ে, ফুচকাওয়ালা আর গঙ্গার বুকে দুলতে থাকা নৌকোর ভিড়।
এই কোলাহলের মাঝেই গঙ্গার ধারেরই একটা ছোট কফিশপের উল্টোদিকে নিশ্চল পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে অয়ন।
একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পকেট থেকে ছোট ডায়েরিটা বের করল। পাতার একটা নির্দিষ্ট কলামে শুধু একটা সংখ্যা লিখল, '143'। তার বাঁ হাতের কব্জিতে আটকানো ক্রোনোস-ভি3 এর গ্লোয়িং স্ক্রিনটা বলছে, Timeline Clash - 142 Status - Paradox Preserved সূক্ষ্ম কোয়ান্টাম ফাইবার গুলো শিরায় মিশে গিয়ে পালস রেটের সাথে সিঙ্ক করে স্পেস টাইমের ডাইমেনসন কে বেন্ড করে দেয়। অর্থাৎ পাস্ট প্রেজেন্ট এর মধ্যে একটা ট্রাভেল করার শর্টকাট! আর সেটা দিয়েই গত 142 টা শর্টকাট সে কভার করে ফেলেছে। এখনও তার মস্তিষ্কের মধ্যে দুঃস্বপ্নের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে বিগত লুপগুলোর ভয়াবহ স্মৃতি। প্রেডিক্ট করা 142 রকমের আলাদা আলাদা পরিস্থিতি সে বাঁচানোর জন্য ভাবলেও আটকাতে পারেনি ভবিতব্য কে।
কখনো ছাদ ভেঙে, কখনো গ্যাস লিক করে, কখনো বা লোকাল ট্রেনের চাকায়, বারবার মারা গেছে তার তিনবছর আগে দুর্ঘটনা তে মারা যাওয়া স্ত্রী নীলাঞ্জনা।
প্রতিটা ফেলিওর তাকে একটাই কথা বুঝিয়ে দিয়েছে যে মহাবিশ্বের হিসাব বড়ই নিষ্ঠুর। কার্য আর কারণের এক অদ্ভুত শৃঙ্খলে সবাই বন্দি। সে যদি অতীতে গিয়ে নীলাঞ্জনাকে বাঁচিয়েই দেয়, তাহলে তো তার জীবনে তো এই শোকটা আসবেই না। শোক না এলে তার ভিতরে নীলাঞ্জনা কে ফিরিয়ে আনার এই ব্যাকুলতাও আসবে না। যে ব্যাকুলতার ফলাফল এই মেশিন। তাই এই গ্যাজেট আবিষ্কারের মূল কারণ কে বারবার বলি হতে হচ্ছে অর্থাৎ নীলাঞ্জনা কে বা বারবার মৃত্যু বরণ করতে হচ্ছে। আর মেশিন না বানালে অতীতে এসে নীলাঞ্জনাকে বাঁচানোর প্রয়োজনই বা কী? কিন্তু এই গ্যাজেট ছাড়া সে অতীত থেকে বর্তমানে ফিরবেই বা কীকরে? মহাবিশ্ব নিজের এই স্ববিরোধিতা কিছুতেই মেনে নেবে না কখনো কিন্তু নীলাঞ্জনা কে যে ফেরাতেই হবে?
সে ধীরে ধীরে বুঝতে পারে, আদপে সে টাইম মেশিনের তৈরি হবার 142 টা কারণ খুঁজেছে কিন্তু নীলাঞ্জনা কে বাঁচানোর জন্য একটাও না। তাহলে যদি তার আর নীলাঞ্জনার সম্পর্কের কখনো শুরু না হতো। সে যদি কোনোদিনও নীলাঞ্জনার চোখের মায়ায় না পড়ত অর্থাৎ একটা কজ্যাল লুপ যদি ঘটে কেমন হয়?
ডিভাইসের স্ক্রিনে একটা নির্দিষ্ট টাইম জ্বলজ্বল করে উঠল,
12 OCT
2021
EVE 17:20
ঠোঁটের কোণে একটা বিষণ্ণ এবং ম্লান হাসি ফুটে উঠল তার। আর মাত্র দশটা মিনিট মেরে কেটে হাতে আছে। ঠিক দশ মিনিট পর ওই কফিশপটার সামনে দিয়ে হেঁটে এদিকে আসবে নীলাঞ্জনা। এখানেই তো তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল না!
সে মনে মনে ঠিক করে নিল কি করবে। ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ অয়নের বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। ওই তো! দূর থেকে হেঁটে আসছে নীলাঞ্জনা। সেই মায়াবী চোখ, পানপাতার মতো মুখ। কিন্তু কতক্ষণই বা তাকে দেখল সে? পরক্ষণেই তার চোখ গেল রাস্তার ডানদিকে। সেদিক দিয়ে রাস্তা টপকে কফিশপের দিকেই হেঁটে আসছে একটা ছেলে। গায়ে একটা নীল চেক শার্ট, কাঁধে ল্যাপটপ ব্যাগ। আর কয়েক সেকেন্ড পরেই ও গিয়ে দাঁড়াবে নীলাঞ্জনার সামনে, প্রথমবার চোখাচোখি হবে ওদের।
সে আর এক মুহূর্তও নষ্ট করল না। নিজের ডিভাইসে একটা নতুন কমান্ড সেট করল , 'লুপ এক্সিট: জাম্প টু প্রেজেন্ট'। ডিভাইসটা তীব্র আলো ছড়িয়ে কাঁপতে শুরু করল। অয়ন শরীরের সমস্ত জোর পায়ে জড়ো করে পাগলের মতো দৌড় লাগাল সেই নীল চেক শার্ট পরা ছেলেটার দিকে। নীলাঞ্জনা ফিরে তাকানোর ঠিক আগের সেকেন্ডে, সজোরে গিয়ে ধাক্কা মারল তাকে।
নিজের অতীত সত্তাকে! নিজের অতীতের অয়ন কে! যে না থাকলে হয়তো নীলাঞ্জনা কোনোদিনই হারাবে না। তার মৃত্যু দুর্ঘটনা হিসাবে পরিচিতি পাবে না। তাই একবার শেষ চেষ্টা।
আর তখনই…
একটা বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যে তখন ব্যাঙ্গালোরের ইনার রিং রোডে একটা চেনা ট্রাফিক জ্যামে আটকে রেখেছে ক্যাবটা। ল্যাপটপটা এক ঝটকায় বন্ধ করে সিটের পেছনে মাথা এলিয়ে দিল যাত্রীটি। শহরের অন্যতম মালটি ন্যাশনাল একটি আর্কিটেকচার ফার্মের সিনিয়র পজিশনে আছে সে । জীবন যেন তাকে দুহাত ভরে সাফল্য, প্রতিপত্তি এবং একটা সুন্দর সাজানো গোছানো ভবিষ্যৎ দিয়েছে। ক্যাবের এসির ঠান্ডা হাওয়া আর কানে হেডফোনে বাজতে থাকা একটা পুরোনো দিনের নরম মেলোডি গান এক অদ্ভুত প্রশান্তি তৈরি করেছে তার মনে। জানলার কাঁচ বেয়ে গড়িয়ে নামা বৃষ্টির ফোঁটাগুলোর দিকে তাকিয়ে আনমনে হাসল সে।
সামনের সিগন্যালটা লাল হতেই ক্যাবটা ব্রেক কষল। ঠিক তখনই তাদের বাঁদিক দিয়ে একটা কালো সেডান এসে দাঁড়াল ক্যাবের একদম গা ঘেঁষে।
খুব অন্যমনস্কভাবেই একবার বাইরে চোখ গিয়েছিল মেয়েটার। সে দেখল গাড়িটার পেছনের কাঁচটা অর্ধেক নামানো। ভেতরে বসে আছে একটা মানুষ। রাস্তার নিয়ন আলো আর বৃষ্টির ক্রমবর্ধমান ছাঁটের মধ্যে মানুষটার মুখশ্রীটা কোনো এক বিষণ্ণ তৈলচিত্রের মতো দেখাচ্ছে। উসকোখুসকো চুল, আর অদ্ভুত তার চোখের দৃষ্টি, তাতে এমন এক অনন্ত শূন্যতা আর হাহাকার আছে যেন সে কয়েক শতাব্দী ধরে বুকের ভেতর একটা আস্ত মৃত্যুশোক বয়ে বেড়াচ্ছে। পাগল না বৈজ্ঞানিক নাকি কোনো খড়ুস বস কে জানে? কিন্ত মানুষটার জীবনটা কষ্টেরও তো হতে পারে! পয়সা প্রতিপত্তি দিয়েই কি সব হয় ?
হঠাৎ মানুষটা যেন মুখ ফেরাল। কাঁচের ব্যবধান ভেদ করে এক সেকেন্ডের জন্য হলেও চোখাচোখি হলো দুজনের।
দৃষ্টিবিনিময়ে হঠাৎ করেই মেয়েটার বুকের ভেতরটা প্রবলভাবে একবার মুচড়ে উঠল। যেন কেউ সজোরে তার হৃদপিণ্ডটা খামচে ধরেছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তার মনে হলো, অচেনা কোনো কোণ থেকে এক অদ্ভুত হাহাকার আর অজানা এক তীব্র হারানোর যন্ত্রণা ছিটকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। কোনো কারণ কিছুই নেই, তবু গলাটা যেন বুজে এল কান্নায়। চোখের পলক ফেলার আগেই তার ডান গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল এক ফোঁটা উষ্ণ, নোনা জল। ওই মানুষটার কষ্টে তার বুকটা এমন হুহু করে উঠল কেন?
সিগন্যাল সবুজ হলো। পেছনের গাড়ির হর্নে ঘোর কাটল মেয়েটার। কালো সেডানটা হুশ করে বেরিয়ে গেল সোজা রাস্তায়, গাড়ি দুটোর মধ্যে দূরত্ব বাড়ল। আর তার ক্যাবটা বাঁক নিল ডানদিকে। আলাদা হয়ে গেল অয়ন আর নীলাঞ্জনার পথ।
বুকের বাঁ-দিকটায় হাত চেপে স্তব্ধ হয়ে বসে রইল নীলাঞ্জনা। সে কোনোদিনও জানবে না আজকের এই ক্ষণিকের সাক্ষাতের ব্যক্তিটা হারিয়ে যাওয়া এক অন্য দুনিয়ায় তার সবথেকে প্রিয় মানুষ , তার প্রেমিক, তার স্বামী অয়ন ব্যানার্জী।
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড কোয়ান্টাম রিসার্চ-এর ল্যাব। ঘড়িতে তখন রাত তিনটে বাজছে। এসি-র একটানা গুঞ্জন ছাড়া চারদিক নিস্তব্ধ। ল্যাবে তখন দুটি ছেলে বসে আছে। একজন ডেস্কে কি-বোর্ডের ওপর মাথা রেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। আর অন্য জন দুটি কফির মগ নিয়ে তার ঠিক কাছে এসে দাঁড়িয়েছে।
-এই অয়ন! ওঠ ভাই, আর কত ঘুমোবি?
সামনে দাঁড়িয়ে কো-রিসার্চার শুভ। হাতে দুটো কফির মগ। চোখ কচলে চরম বিরক্তিতে শুভর দিকে তাকাল ছেলেটা, -ধুর শালা! ঠিক এমন সময় ঘুমটা ভাঙাতে হলো? কী দারুণ একটা স্বপ্ন দেখছিলাম জানিস তুই!
শুভ কফির মগটা টেবিলে নামিয়ে রেখে হেসে বলল, -কী এমন স্বপ্ন? লটারির টিকিট পেলি নাকি?
-আরে না ভাই! দেখছিলাম একটা সুন্দর নদীর পাড়ে বাঁধানো ঘাট। আমি একটা নীল শার্ট পড়ে রাস্তা পেরিয়ে কফিশপ এর দিকে যাচ্ছি। একটা মেয়ে আসছিল বুঝলি। ভাই, কী সুন্দর দেখতে কি বলব! পানপাতার মতো নিখুঁত মুখ, মায়াবী ত্রস্ত হরিণীর মতো দুটো চোখ। গান শুনছিল বোধয়। জাস্ট এক সেকেন্ডের জন্য যেন চোখাচোখি হলো, মনে হলো যেন কত জন্ম-জন্মান্তরের চেনা... আর ঠিক সেই মোক্ষম মোমেন্টেই কোন একটা শুয়োর এসে ধাক্কাটা মারল! আর উঠে দেখি তোর হাত.. তার মানে তুই শালা সেই শুয়োর।
শুভ কথাগুলো খুব একটা কানে না তুলে নিজের ডেটা-প্যাডের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে কী যেন একটা বলল। অয়নের ঘুম-জড়ানো, অবশ কানে শব্দগুলো অদ্ভুতভাবে ধরা দিল, -নীলাঞ্জনা আর নেই।
কপালে ভাঁজ ফেলে সে বলল, -অ্যাঁ? কী বললি তুই? কে নেই? শুভ ডেটা-প্যাড থেকে চোখ তুলে অবাক হয়ে তাকাল, -আরে ধুর বাল! নীলাঞ্জনা টা কে আবার ? তোর ফ্যান্টাসি নাকি বে? কোত্থেকে আসবে ভাই এত রাতে? তুই দেখছি ওই স্বপ্নের ঘোরের মধ্যেই আছিস মনেহয়। আমি বললাম এই যে, আমাদের সিমুলেশনের 'নিল-অ্যানোমালি জোন'-টা আর নেই! জিরো-পয়েন্ট ফ্ল্যাকচুয়েশন একদম স্টেবল হয়ে গেছে। রেজাল্ট সাকসেসফুল! চল এবার পিজিতে ফিরি। আজকের মত কাজ শেষ!
অয়ন এক মুহূর্ত চুপ করে ডেটা-প্যাডের স্ক্রিনটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিজের বোকামিতে নিজেই হো হো করে হেসে ফেলল। ঘাড় চুলকে বলল, -ধুর! সারাদিন এই কোয়ান্টাম টাইম-লুপ আর স্পেস-টাইমের ইকুয়েশন ঘাঁটতে ঘাঁটতে আমার মাথাটা গেছে। ঘুমের ঘোরে কী সব আবোলতাবোল শুনছি!
শুভ হেসে অয়নের পিঠে একটা চাপড় মারল।
-নে, কফিটা খা। আর স্বপ্নের ওই নাম না জানা সুন্দরীকে আপাতত ভুলে গিয়ে অ্যালগরিদমটায় মন দে। তাড়াতাড়ি শেষ করে নে। কাল সকালেই ডিরেক্টরকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
-হুম, বসছি,
বলে গরম কফিতে একটা লম্বা চুমুক দিয়ে মনিটরের নীল আলোর দিকে ঘুরে বসল অয়ন। ল্যাবের ভেতরটা আবার কি-বোর্ডের খটখট শব্দ আর হাসিখুশি মেজাজে ভরে উঠল।
মন্তব্য (০)
লগ-ইন করুন মন্তব্য করতে।