সেদিনের সেই শারদীয়া; উঁকি দেয় মনের মাঝে,
ছিলাম তখন অনেক ছোট, মনের মাঝে আজও বাজে।
পূজো এলেই খুশিরা সব উপচে পড়ত সারা গাঁয়,
ভাবের ঘরে কতই পূজো হাতড়ে খোঁজে মন যে হায় !
স্কুলের ঘরের সেই দাওয়াতেই চলত মায়ের ঠাকুর গড়া,
ক্লাসের ঘরে পড়ায় ফাঁকি, ভাল্লাগেনা সহজ পড়া।
চুপটি করে মনের ঘরে শুধুই ভাবি মায়ের মুখ,
ছুটির পরে দেখব কখন আধো গড়া মায়ের সে রূপ।
দিনগুলো সব গুটি গুটি এগিয়ে আসতো পূজোর দিন,
পাওয়ার আশায় থাকতো মনের আশা; আজও খুঁজি না পাওয়া সেদিন।
দেখি চেয়ে মেঠো পথের দিকে সকাল-বিকেল খাওয়ার সময় নাই,
কখন এসে পড়বে গড়ের মাঠে গরুর গাড়ি বোঝাই বাঁশের চাঁই।
খুশির বাঁধ ভাঙত মনের মাঝে পেতাম শুধুই একটি নতুন জামা,
গরিব ঘরেও পূজোর খুশি নিয়ে রোজ আসতো আমার দূর্গা মা।
মেঠো পথের ধারেই বড়ো মাঠ তারি পাশে যত বটের সারি,
মা দূর্গা থাকতো তারি মাঝে বসতো যত হরেক দোকান দানি।
তখন কত নানান দিকের খুশি মনের ঘরে ভিড়ত অলি-গলি,
আজকে যেন স্মৃতির আলোয় সব আবছা-ফিকে মনের ঘরে ধূলি।
কয়েক টাকায় পেতাম পূজো জুড়ে জীবন পেত কতইনা কিছু,
সেই দিনের সেই অমোঘ আনন্দমেলায় টাকার মূল্য নেহাত ছিলো শিশু।
এখন দেখি পাড়ার ছেলেরা; কেমন করে মাতে পূজোয় সব,
খুশির রঙ ধূষর ফিকে আজ গলায় শুধু অহংকারের রব।
টাকার খেলায় মত্ত বিশ্ব আজ ছুটছে মানুষ শুধুই টাকার পিছু,
আনন্দের ঢেউ নেই যে আজকে আর থিমের বাহারে হচ্ছে কতই কিছু।
মা আসতো তখন সুখের আলোয় যাওয়ার বেলায় হত কতক শোক,
এখন হয় ডিজে বিষর্জন; নেশার ঠেলায় আসে যত দুখ।
আলোর কায়দা ছিলোনা সে যুগে মনের আলোয় হতো মনের মেলা,
আজকে হরেক আলোর মাঝেও হায় খুঁজে বেড়াই আমার ছেলেবেলা।
মন্তব্য (০)
লগ-ইন করুন মন্তব্য করতে।