কলকাতার বাসিন্দা বিমলশঙ্কর দাস। পিতা প্রয়াত শিবশঙ্কর দাস এবং মাতা প্রয়াত সুরুচী দাস। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি প্রথম সন্তান। স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখির সঙ্গে তাঁর ছিল এক ধরনের নীরব সখ্য। মনের কথা, অনুভব ও চারপাশের জীবনকে নিজের মতো করে শব্দে ধরার সেই আগ্রহ আজও তাঁর কলমকে চালিত করে।
আর্থিক প্রতিকূলতার কারণে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা বেশিদূর এগোতে পারেনি। বি.কম-এর ছাত্র ছিলেন তিনি। জীবনের নানা বাস্তবতার চাপে সাহিত্যের সঙ্গে নিয়মিতভাবে নিবিড় পরিচয় গড়ে ওঠেনি। তবু সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা কখনও হারিয়ে যায়নি; বরং সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসাই আরও গভীর হয়েছে।
আজ ৬৫ বছর বয়সে এসে বিমলশঙ্কর দাস যেন নতুন করে সাহিত্যের প্রেমে পড়েছেন। তাঁর নিজের কথায়, সেই প্রেমে তিনি এখন ‘হাবুডুবু’ খাচ্ছেন—আর তাঁর সঙ্গে ডুব দিয়ে আছে তাঁর কলমও। জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসে সাহিত্যচর্চা তাঁর কাছে কোনো প্রাপ্তির হিসাব নয়, বরং নিজের সঙ্গে নিজের কথোপকথনের এক আন্তরিক মাধ্যম।
পুরস্কার, খ্যাতি কিংবা প্রকাশনার দীর্ঘ তালিকা তাঁর ঝুলিতে নেই। জীবনের আর্থিক গাড্ডা ও নানা প্রতিকূলতাই তাঁর সাহিত্যচর্চার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু সেই ‘ব্রাত্যজন’-এর পরিচয়কে সঙ্গী করেই তিনি লিখে চলেছেন। কারণ সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসার জন্য সবসময় বড় কোনো পরিচয়ের প্রয়োজন হয় না—প্রয়োজন হয় শুধু একটি সংবেদনশীল মন এবং সেই মনের কথা বলার মতো একটি কলম।
আজও সেই কলম থামেনি। বরং জীবনের অভিজ্ঞতা, না-পাওয়া, অনুভূতি এবং নীরব কথাগুলিকে সঙ্গে নিয়ে বিমলশঙ্কর দাস তাঁর সাহিত্যযাত্রায় ডুবে আছেন—নিজের মতো করে, নিজের ভাষায়।