অয়ন দত্ত-এর কাছে লেখালেখি নিছক অবসর বিনোদন নয়; বরং এটি তাঁর ভালোবাসা, আত্মঅন্বেষণ ও আত্মপ্রকাশের একান্ত মাধ্যম। একজন ছাত্র হিসেবে পুঁথিগত পড়াশোনার ব্যস্ততার মাঝেও অবসর পেলেই তিনি নিজেকে নিবিষ্ট করেন কবিতা, প্রবন্ধ ও অণুগল্প রচনায়। শব্দের ভেতর দিয়েই নিজের ভাবনা, অনুভূতি ও উপলব্ধির স্বতন্ত্র প্রকাশভঙ্গি খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সমাজের আপাত-ছোট অথচ মানুষের আবেগে গভীর রেখাপাত করা ঘটনা, জীবনসংগ্রাম এবং মানবিক অনুভূতি তাঁর লেখার প্রধান অনুষঙ্গ। কল্পনার ক্যানভাসে বাস্তব জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও অনুভবকে নিজের লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরতে তিনি আগ্রহী। তাই তাঁর সৃষ্টির কেন্দ্রে বারবার ফিরে আসে মানুষ ও মানবপ্রেম।
বাংলা সাহিত্যের বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং সর্বোপরি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যসৃষ্টি তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। পাশাপাশি আধুনিক ইংরেজি সাহিত্য ও ফটোগ্রাফির প্রতিও তাঁর বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি এই ক্ষেত্রগুলিতেও নিজের আগ্রহ ও কৌতূহলকে ধরে রাখতে ভালোবাসেন তিনি।
লেখালেখির জগতে অয়ন দত্ত এখনও এক নবীন পথিক। তাঁর সাহিত্যযাত্রা হয়তো সবে শুরু, কিন্তু প্রতিটি অনুভবকে শব্দের কাছে রেখে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই তাঁর সৃষ্টিশীল পথচলার প্রধান প্রেরণা। জীবনের বিচিত্র অনুভূতি ও মানবিক অভিজ্ঞতাকে শব্দের মাধ্যমে ধরে রাখার এই সাধনাকেই তিনি তাঁর ক্ষুদ্র জীবনের এক মূল্যবান প্রাপ্তি বলে মনে করেন।